Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৬ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.4/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৩-২০১২

রাজনীতি ছাড়ার ‘মৃত্যুদণ্ড’ পেয়েছে জুবায়ের, অভিযোগ পরিবারের

রাজনীতি ছাড়ার ‘মৃত্যুদণ্ড’ পেয়েছে জুবায়ের, অভিযোগ পরিবারের
জুবায়েরের হাতে রোপণ করা গাছটিতে এখন লেবু ধরেছে। কিন্তু আজ জুবায়ের নেই। কে তুলবে গাছের লেবু! একথা ভেবে দু’চোখে অশ্রুতে বুক ভেসে যাচ্ছে জুবায়েরের মা হাসিনা আহমেদের। কে দেবে তাকে সান্ত্বনা! মায়ের এমন আকুতি দেখে বসাই নির্বাক। হারিয়ে ফেলেছেন সান্ত্বনার সব ভাষা।
ছেলে লেখাপড়া শিখে বড় হবে। অবদান রাখবে দেশ গড়ার কাজে; এমন স্বপ্ন নিয়ে জুবায়ের আহমেদ বাবুকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছিলেন তার পিতা তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু জুবায়ের ছাত্রলীগের হাতে খুন হয়ে বাড়ি ফিরেছে লাশ হয়ে। ভেঙে গেছে জুবায়েরের বাবার সব স্বপ্ন।
এজন্য প্রচলিত ক্ষমতানির্ভর, লেজুরবৃত্তি, হিংসাত্মক ও অসহিষ্ণু ছাত্ররাজনীতিকেই দায়ী করছেন জুবায়েরের পবিরারসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ও রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সেইসঙ্গে জুডিশিয়াল তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে ফাঁসির দাবি নিহতের পরিবারের।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন জুবায়ের আহমেদ বাবু। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শহরের মদিনাবাগ এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই জুবায়ের ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত-শিষ্ট। বড়দের দেখলে সালাম দেয়া ও হাসিমুখে কুশল বিনিময় করা ছিল তার স্বভাব। প্রতিবেশী সবার মুখে শোনা গেল এমন কথা।
জুবায়ের কোনোদিন কারো সঙ্গে ঝগড়া করেনি। কটূ কথাও বলেনি কাউকে। ছোট-বড় কারো সঙ্গে দেখা হলে মিষ্টি হেসে সালাম দিতেন সবাইকে।
খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি ও মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৭ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন বাবার স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশায়। কিন্তু তা আর সম্ভব হলো না। তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির বলি হলেন জুবায়ের।
স্কুল ও কলেজজীবনের সহপাঠীরা জানান, খেলাধূলার মাঠে খুব একটা পাওয়া যায়নি জুবায়েরকে। ক্লাসের পর বাসায় ফিরে পড়ার টেবিলেই বেশির ভাগ সময় কাটাতেন তিনি। এর ফাঁকে বাড়ির আঙিনায় নানা ফল ও ফুল গাছের একটি বাগান গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
দুই ভাইয়ের মধ্যে জুবায়ের ছিলেন ছোট। বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে সিলেটে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বাবা তোফায়েল আহমেদ একজন সাবেক নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা। মা হাসিনা আহমেদ গৃহিনী। অনেক সুখের সংসার ছিল তাদের।
বড় ভাই মামুন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাট কালচার ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলে সিট পাওয়া যায় না হলে। যে কারণে জুবায়ের ভর্তির পর হলে একটি সিট পেতে ছাত্রলীগের খাতায় নাম লেখাতে বাধ্য হয়। পরে আমি তাকে বাইরে বাসা ভাড়া করে দিয়েছিলাম। জুবায়ের সেখানেই থাকতো। সে ছাত্ররাজনীতি থেকে নিজেকে আলাদা করে নেয়। রাজনীতি ছেড়ে দেয়াই হচ্ছে তার অপরাধ। এ অপরাধের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড এবং সেটাই তাকে দেয়া হয়েছে।”
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, “যদি আমরা রাজনীতি না করি, কেউ যদি কোনো ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলুন, তার শাস্তি কি মুত্যুদণ্ড?”
মামুন বলেন, “জুবায়েরের হত্যার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টরসহ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এক ধরনের ছলচাতুরি। এমনকি কেউ জুবায়েরকে হাসপাতালে দেখতে পর্যন্ত যাননি। আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ আমাদের তাদের কোনো অনুভূতিও জানাননি।”
নিহত জুবায়েরের বাবা তোফায়েল আহমেদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমার দু’টি ছেলেকে আমি মানুষের মতো মানুষ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। আমি চেয়েছিলাম আমার দু’টি ছেলে মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ গড়ার ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। তা আর হলো কই!”
তিনি বলেন, “এখন আমি চাই, আমার মতো যেন আর কোনো বাবাকে তার সন্তান হারাতে না হয়। এ জন্য জুবায়েরের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে।”
জুবায়েরের মা হাসিনা আহমেদ ছেলের শোকে এখন পাথর। সারাদিন তাছবিহ হাতে বসে থাকেন। গোসল কিংবা খাওয়া সবকিছুই ভুলে যান তিনি। ছেলের কথা জানতে চাইলে দু’হাতে মুখ চেপে ধরে অঝোরে কান্না শুরু করেন। তিনি ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখতে চান।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “ক্ষমতানির্ভর অসহিঞ্চু হিংসাত্মক ছাত্ররাজনীতি জুবায়ের হত্যার জন্য দায়ী। অছাত্র ও বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্ররাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বার বার ঘটছে। লেজুরভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে না পারলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব নয়।”
কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের ছাত্রলীগের  হাতে হত্যায় কলাপাড়াবাসী আজ হতবাক। আমরা জুবায়েরের পরিবার ও কলাপাড়াবাসীর পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত শাস্তি দেখতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। এভাবে যেন আর কোনো বাবা-মা’কে হারাতে না হয় তাদের সন্তান। ভেঙে না যায় কারো স্বপ্ন।”
জুবায়েরের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার দাবিতে এলাকায় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিবারের লোকজনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে