Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ , ২ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (56 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-০৮-২০১৪

এই যে স্পিকার আফা শোনেন...

নেহাল হাসনাইন


এই যে স্পিকার আফা শোনেন...

ঢাকা, ০৮ মার্চ- ‘এই যে স্পিকার আফা শোনেন, আমার পোলার আইডি কার্ডে একটু ঝামেলা আছে। হেইডা ঠিক করই দেওয়া লাগব। সবার সামনে আফনে কইয়া যান ঠিক কইরা দিবেন তো?’

শুক্রবার এভাবে এক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে এই ক্ষোভ ও আবদার জানান  তারামন বিবি বীর প্রতীক।

সরলমনা এই বীরাঙ্গনা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের উদ্দেশে বলেন, ‘এই যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ভাই, আমার নাতনিডা এবার বৃত্তি পাইছে। তাই আফনের লগে দেহা করাইতে লইআইছি। আফনি একটু দোয়া কইরা দেন, যাতে হে বড় হইয়া আফনের মতো চেয়ারম্যান হইয়া দেশের মানুষের উপকার করতে পারে।’

স্পিকার গাঁয়ের সহজ সরল তারামন বিবির এই সরল সাবলীল কথা শুনে হাসি মুখে সব সমাধানের আশ্বাস দেন।

১৯৫৭ সালে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের নারী মুক্তিযুদ্ধে রেখেছেন অনন্য অবদান। ১১নং সেক্টরের আওতাধীন নিজ গ্রাম কুড়িগ্রামের শংকর মাধবপুরে ছিলেন। মুহিব হাবিলদার নামের এক মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন। পাশের গ্রামের আজিত মাস্টারের বাড়িতে প্রথম মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প হয়। সেখানে তিনি রান্নার দায়িত্ব পান।

যুদ্ধে যাওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে তারামন বিবি জানান, তার সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার অস্ত্র চালানো শেখান। তখন তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। রাইফেল ও স্টেনগান চালানো শিখেছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসে রণাঙ্গনে তার অনেক কৃতিত্ব আছে। অনেক যদ্ধে পুরুষযোদ্ধাদের সঙ্গেও অংশ নেন তিনি। অনেকবার তাদের ক্যাম্পে পাকবাহিনী আক্রমণ করেছে, তবে ভাগ্যের জোরে তিনি প্রতিবারই বেচেঁ যান।

শুধু সম্মুখ যুদ্ধেই নয়, নানা কৌশলে শত্রুপক্ষের তৎপরতা এবং অবস্থান জানতে গুপ্তচর সেজে গেছেন পাক বাহিনীর শিবিরে। কখনও প্রতিবন্ধী কিংবা পঙ্গুর মতো করে চলাফেরা করে শত্রুসেনাদের খোঁজ নিয়ে এসেছেন নদী সাঁতরে গিয়ে। আবার কলাগাছের ভেলা নিয়ে কখনও পাড়ি দিয়েছেন ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।


সম্মাননা পাওয়া তিন নারী

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযুদ্ধে সাহসীকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তারামন বিবির ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করেন। কিন্তু এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। সেসময় তাকে নিয়ে পত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি হয়। অবশেষে ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসম্বর তৎকালীন সরকার তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তার হাতে তুলে দেয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে