Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৭ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 1.8/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৩-২০১২

ছাত্রলীগের কোন্দল ও প্রশাসনের পক্ষপাতে সংকটে

ছাত্রলীগের কোন্দল ও প্রশাসনের পক্ষপাতে সংকটে
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সহিংসতা ও একটি গ্রুপের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট কাটছে না শিগগিরই। জটিলতা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক এ এ মামুনকে প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়া মারধর করলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এ ঘটনায় ‘শিক্ষক সমাজ’র ব্যানারে সাধারণ শিক্ষকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ আট দফা দাবি পেশ করেন। অন্যথায় রুটিন কাজ বন্ধ রাখার কথা জানান। অন্যদিকে চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন যা ৯২’র ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
সবমিলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন একমাত্র অস্বস্তির নাম প্রক্টর আরজু মিয়া। অধ্যাপক আরজু মিয়ার পদত্যাগ দাবিতে সবাই এতটাই উন্মুখ যে, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় তার পদত্যাগের গুজব ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপাচার্যপন্থী একজন প্রভাবশালী শিক্ষক বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, “প্রক্টরের পদত্যাগ না হলে আন্দোলনের তীব্রতা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে মোড় নিতে পারে তাই ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।”
এদিকে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে একাত্ততা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকেল তিনটায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তারা।
এছাড়াও দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ‘উপাচার্যপন্থী গ্রুপ’র কথা প্রকাশ হয়ে পড়লে এটি প্রশাসনের জন্য নতুন করে ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’র জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শরিফ এনামুল কবির বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “ক্যাম্পাসে উপাচার্যপন্থী গ্রুপ বলে কোনো গ্রুপ নেই।”
সবকিছুর পরও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলছে না। এদিকে সহকারী নিরাপত্তা অফিসার আজীম উদ্দিনের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সারাক্ষণ ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে ঘুরঘুর করলেও ঘটনার দিন রোববার তিনি নিজ বাসা থেকে বের হননি। সাড়ে পাঁচটার ঘটনা তিনি রাত আটটায় শুনেছেন বলেও জানান।
অথচ তাকে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা বলতে শুনেছেন, গাছের পাতা পড়লেও তিনি টের পান। কিভাবে আহত জুবায়েরকে হাসপাতালে নেয়া হলো এখনো প্রশাসনের কোনো কর্তাব্যক্তি এ ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেনি। সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধারণা করছেন, ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত উপাচার্যবিরোধী ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতেই পরিকল্পিতভাবে এমন ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
সবকিছুর পরও অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে বেরিয়ে শিক্ষার পরিবশে ক্যাম্পাস প্রত্যাবর্তন করবে বলেই সবার আশা। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তিকে বড় করে দেখবে না বলেই প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের কোষাধক্ষ্য কলি মাহমুদ বলেন, “এই প্রশাসনের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব আমরা।”
অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, “বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার জন্য সমগ্র ক্যাম্পাস ভয়ভীতির মধ্যে দিনযাপন করছে, তাদের উচিত পদত্যাগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।”
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়া বলেন, “এই প্রক্টরিয়াল বডি অনেক ক্ষেত্রেই সার্থক। তাই পদত্যাগের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে