Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-০৫-২০১৪

এক রাশিয়াতেই কোনঠাসা পরাশক্তিগুলো

রাজিউল হাসান


এক রাশিয়াতেই কোনঠাসা পরাশক্তিগুলো

মস্কো, ০৫ মার্চ- বিশ্বনেতাদের নিন্দা ও হুমকি সত্ত্বেও ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি রাশিয়ার। এরই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইতোমধ্যে এক জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের দূত সাহায্য প্রার্থনা করেছেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকে ইউক্রেনের দূত জানান, সোমবারও সেনা প্রত্যাহারের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। উপরন্তু রাশিয়া বিমান, নৌকা এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে ক্রিমিয়া অঞ্চলে আরো সৈন্য পাঠাতে। গত এক সপ্তাহে পেনিনসুলার ক্রিমিয়াতে অন্তত ১৬ হাজার সৈন্য প্রেরণ করেছে দেশটি।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত উরিয়ে সার্জেয়েভ বলেন, ‘ইউক্রেন সেনারা আগ্রাসন দমনে পুরো প্রস্তুত রয়েছে।’

নিরাপত্তা পরিষদে রাষ্ট্রদূতদের ওই বৈঠকে রাশিয়াকে সেনা প্রত্যাহার ও চলমান সংকট নিরসনের আহ্বান জানান হলে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত ভিটালি চুরকিন জানান, তাঁর দেশের এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। রাশিয়া ইউক্রেনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সুসহংত করতেই কাজ করছে।

তিনি আরো জানান, ইউক্রেনের ক্ষমতাচ্যূত রাষ্ট্রপতি ভিক্টর ইয়ানুকভিচ দেশটির নির্বাচিত নেতা এবং তার আহ্বানেই সেখানে সৈন্য পাঠান হয়েছে।

এদিকে উক্ত বৈঠকে ইউক্রেনের দূত ইয়ানুকভিচের লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনান যেখানে লেখা ছিল, ইউক্রেন এখন বিশৃঙ্ক্ষলা এবং অরাজকতার উসকে দেওয়া গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘জনগণ ভাষা এবং রাজনৈতিক কারণে নির্যাতিত। এরই প্রেক্ষিতে আমি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মিস্টার পুতিনকে অনুরোধ জানাই আমার দেশে আবার শান্তি-শৃঙ্ক্ষলা ফিরিয়ে আনতে সৈন্য পাঠাতে।’

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামানথা পাওয়ার বলেন, ‘ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া যে অভিযোগে সৈন্য পাঠিয়েছে, তা অসত্য এবং বিধ্বংসী।’

পাওয়ার বলেন, ‘রাশিয়ার এমন কাজ মানবাধিকার সংরক্ষণ করতে নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘণ।’
বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ ইউক্রেন সংকটকে একুশ শতকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংকট বলে আখ্যায়িত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক দিয়ে রাশিয়াকে ক্ষান্ত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক সাহায্যার্থে কংগ্রেসকে তাঁর প্রশাসনের সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে ক্রিমিয়াতে আরো রাশিয়ান সৈন্য পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে তারা ইউক্রেন প্রশাসন থেকে পেনিনসুলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়টা এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন।

এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার অনেক ব্যবসায়িক সংযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে রাশিয়ার সাথে একটি দ্বিপাক্ষীয় শক্তি চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। তেল এবং গ্যাসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে রাশিয়া একটি বড় রপ্তানীকারক দেশ। ইউরোপ মহাদেশের জন্য এটি একটি বিরাট দূর্বলতা। শতকরা ২৫ শতাংশ গ্যাস রাশিয়াই যোগান দেয়। ডলারের হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১শ’ মিলিয়ন ডলার প্রতিদিন। যদি রাশিয়া এই রপ্তানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে গোটা মহাদেশই বেকায়দায় পড়ে যাবে। এসব দিক বিবেচনায়ও রাশিয়াকে খুব শক্তভাবে প্রতিরোধের হুমকিও দিতে পারছে না কেউ।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ব্যবসায়িক বয়কট আনতে পারছে না রাশিয়ার ওপর, কারণ কিছু বড় ব্যবসা রয়েছে দেশটির সাথে তার। এসব ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রেরই অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে সবার আগে। এসব ব্যবসার মধ্যে এক্সানমোবাইল এবং বোয়িং উল্লেখযোগ্য। অর্থনৈতিক চাপ হয়তো রাশিয়াকে রুখতে পারবে, কিন্তু সেজন্য যথেষ্ট সময়ও লাগবে।

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে