Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-০৪-২০১৪

ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান: বিশ্ব পূর্ব-পশ্চিমে বিভক্ত

ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান: বিশ্ব পূর্ব-পশ্চিমে বিভক্ত

কিয়েভ, ০৪ মার্চ- ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনা অভিযানকে নিন্দা জানিয়ে জি-৮ ভুক্ত বাকি দেশগুলো সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে মস্কোর প্রতি।

ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে মস্কোর এই যুদ্ধ ঘোষণা দ্বন্দ্ব আরো বাড়িয়ে দেবে বলেই অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের নতুন নেতারা। অপরদিকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ সাবধান করে দিয়েছেন, যদি এখনই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামান না যায় তাহলে পাশ্ববর্তী দেশগুলোতেও তা ছড়িয়ে যেতে পারে।

রোববার ইউক্রেনের নড়বড় নতুন সরকার দেশটির ক্রাইমিয়ান পেনিনসুলায় নিজ বাহিনী পাঠিয়েছে। ঠিক একই স্থানে রাশিয়ান বাহিনীও অবস্থান করছে।

এদিকে মার্কিন এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, ক্রাইমিয়ান এলাকা বর্তমানে রাশিয়ার পূর্ন নিয়ন্ত্রণে। আনুমানিক সেখানে ৬ হাজার স্থল ও নৌসেনা অবস্থান করছে।

অপর এক মার্কিন উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, রাশিয়ান বাহিনী এখন সেখানে নিজ দেশের মতোই আছে। তারা ইচ্ছেমত সেখানে উড়োজাহাজ নামাতে পারছে, নিজেদের রশদ ও সৈন্য আনা নেওয়া করতে পারছে বাধাহীনভাবে।
সোমবার ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানায়, রাশিয়া ও ক্রাইমিয়াকে বিভক্তকারী অপ্রশস্ত সাগর সংযোগকারী খালটা ধরে মস্কো তার সাজোয়া যান আনা-নেওয়া করছে।

বর্ডার গার্ডের একটি সূত্র জানায়, বন্দরনগরী সেভাস্তোপল, যেখানে রাশিয়ান কালো সাগরে তার একটি নৌঘাঁটি আছে, সেখান দিয়ে খুব সহজেই রাশিয়ান জাহাজগুলো যাতায়াত করছে। কিছু কিছু এলাকায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ান বাহিনী।

এদিকে ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানায়, দেশটির পূর্বপ্রান্তের এলাকা ক্রাইমিয়াতে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকাটি রাশিয়ান সীমান্তের সবচেয়ে কাছে।

এক বিবৃতিতে সীমান্ত রক্ষীর ওয়েবসাইটে জানান হয়, ছদ্মবেশধারী প্রায় ১শ’ মানুষ এই হামলাগুলোয় অংশ নেয়। এরপর থেকেই ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্তসহ বাড়িঘরের জানালা-দরজা ভাঙ্গা এবং ফোন রাইন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

অপরদিকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার রাতে একদল স্বসস্ত্র লোক সেভাস্তোপলে ইউক্রেনের বেলবেক ঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় সেনারা ফাঁকা গুলি করে ছদ্মবেশী মানুষগুলোকে পিছু হটানর চেষ্টা করলে তারা সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায়।

প্রাথমিক অবস্থায় আক্রমণকারীরা ঘাঁটিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউক্রেন সেনারা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে।

এদিকে আঞ্চলিক রাজধানী সিমফেরোপোলে ছদ্মবেশধারী কিছু মানুষ দেখা গেছে, যারা লাল বাহুবন্ধনী পরে ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার সকালে রাশিয়ার সেনাপ্রধান তাঁর বাহিনীকে ইউক্রেনে পাঠান এবং ইউক্রেন বাহিনীকে আত্মসমর্পনের আহ্বান জানান। রাশিয়ান বাহিনী ক্রাইমিয়াতে সকল যাতায়াত বন্ধ করে দিলেও এখন পর্যন্ত ইউক্রেন বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

অপরদিকে রাশিয়ার সেনাঅভিযানের ব্যাপারে পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে জি-৮ ভুক্ত বাকি দেশগুলো মস্কোকে অভিযুক্ত করে নিন্দা ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। জুনে সোচিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বের শিল্পোন্নত সাতটি দেশের সম্মেলনও বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে জন কেরি কেইভ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তিনি রাশিয়াকে তার আগ্রাসনের জন্য নিন্দা জানিয়েছেন। সিবিএস-এর একটি অনুষ্ঠানে কেরি বলেন, ‘রাশিয়া তার বাহিনী প্রত্যাহার না করলে বিশ্ব অর্থনিতীতে এর প্রভাব পড়বে।

এদিকে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ রোববার কেইভে পৌঁছান। সোমবার তিনি ইনডিপেনডেন্স স্কোয়ার, যেখানে তিন মাস ধরে প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকভিচ বিরোধীরা অবস্থান করছিল, সেখানে পরিদর্শন করেন। চলমান সহিংসতায় মৃতদের সম্মানে সেখানে তিনি পুষ্পস্তবকও অর্পণ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও সেখানে দূত পাঠাবেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে জার্মান চেন্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের অফিস সূত্র জানায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার মিশনের যৌক্তিকতা খুঁজতে এবং আলোচনার প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন।

সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জি ল্যাভরভ এক বিবৃতিতে জানান, তিনি চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের সাথে ফোনে ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। রাশিয়া এবং চীন তাদের দৃষ্টিভঙ্গীতে ঐক্যমত্তে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেইজে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডিমিত্রি মেদভেদেভ ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ই্য়ানুকভিচের ক্ষমতাচ্যূত হওয়াকে ‘ক্ষমতার বেদখল’ বলে আখ্যা দেন। তিনি এখানে বলেন, ‘এমন ঘটনায় রাষ্ট্র টলমলে হয়ে পড়ে। এবং এখান থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় নতুন প্রজন্মের নতুন বিপ্লব’।

৪ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের দেশ ইউক্রেন ইউরোপ এবং রাশিয়ার মাঝে অবস্থিত। ২২ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকভিচের ক্ষমতাচ্যূতির মধ্য দিয়ে দেশটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এঘটনায় বেশ কিছু নিহত এবং শতাধিক আহত হন। গত বছর নভেম্বরের শেষাংশ থেকেই সরকার বিরোধীরা তৎপর হয়ে ওঠে, যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে একটি চুক্তিতে মতনৈক্য পোষণ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর থেকেই বিশ্ব বলতে গেলে পূর্ব এবং পশিমে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলো সরকার বিরোধী আন্দোলনকে সমর্তন দিলেও পূর্বের দেশগুলো রাশিয়ার মত ধারণা পোষণ করছে। এরই মাঝে রাশিয়ান বাহিনীর প্রবেশকে ইউক্রেনকে আরো চিন্তায় ফেলে দেওয়ার কারণ হচ্ছে, দেশটির বেশিরভাগ নেতার আশঙ্কা- ক্রাইমিয়াসহ রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো এখন রাশিয়ার অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে। দেশটির নেতারা ২০০৮ সালে জর্জিয়াতে যা ঘটেছে, তার সাথেই এই ঘটনার তূলনা করছেন। তখন জর্জিয়াতেও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। চলমান সংঘর্ষের মধ্যে সেখানে সমীন্ত অতিক্রম করে রাশিয়ান বাহিনী ঢুকে পড়ে। টানা পাঁচদিন সে সংঘর্ষ চলে। তখন জর্জিয়ার শহরগুলোতে দক্ষিণ ওসেটিয়া এবং আবখাজিয়ার স্বসস্ত্র সন্ত্রসীরা অবস্থান করছিল। রাশিয়া এবং জর্জিয়া তখন পরস্পরকে দোষারোপ করে এঘটনার জন্য।

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে