Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (52 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০২-২৭-২০১৪

সানফ্রান্সিসকো সাবওয়ে সিস্টেমে ভুল বের করেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

মেহেদী হরিৎ


সানফ্রান্সিসকো সাবওয়ে সিস্টেমে ভুল বের করেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারী- বাংলাদেশের ছেলে আসিফ হক একজন গেম থিওরিস্ট ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি টুইটারের একজন ডাটা বিজ্ঞানী। সানফ্রান্সিসকো সাবওয়ে বা বার্ট (BART) এর ট্রেনে যারা যাতায়াত করেন তিনিও ছিলেন তাদের একজন। ট্রেনে চড়ার সময় বার্টের ভাড়া নেয়ার সিস্টেমের অদক্ষতা খেয়াল করেন আসিফ হক। তারপর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভাড়া কমানোর জন্য নতুন এক সিস্টেম আবিষ্কার করেন। সূক্ষ্ম গনিতের সহায়তায় তিনি বার্টের সিস্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেই বিষয়টি তুলে ধরেন।

যেভাবে হ্যাক হলো সানফ্রান্সিসকো সাবওয়ের ভাড়া সিস্টেম
বার্ট ট্রেনের যাত্রীরা মূলত ট্রেনে ওঠার সময় টিকেট কাউন্টার থেকে একটা টিকেট বা প্লাস্টিক ক্লিপার কার্ড সংগ্রহ করেন। তারপর যে স্টেশনে তারা নামেন সেখানে গিয়ে কার্ডটি পাঞ্চ করেন। পাঞ্চ করার সাথে কার কত টাকা ভাড়া হয়েছে তা দেখানো হয়। একজন লোক কোথা থেকে উঠল এবং কোথায় নামলো তার উপর নির্ধারণ করেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে আসিফ হকের হ্যাকিং সিস্টেমটি বর্ণনা করা যায়। একজন লোক মিলব্রা স্টেশন থেকে অ্যামবার্কাডেরো স্টেশনে যাবেন, যার ভাড়া হল ৪.৫ ডলার। আরেকজন যাত্রী গ্ল্যান পার্ক থেকে বার্কলে যাবেন, যার ভাড়া ৪.২ ডলার। ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে মিলব্রা থেকে এবং যাত্রা শেষ হয় বার্কলিতে। মাঝখানে অ্যামবার্কাডেরো ও গ্ল্যান পার্ক। মিলব্রা থেকে বার্কলিতে যেতে ভাড়া লাগে ৫.১০ ডলার। এখন যদি প্রথম ব্যাক্তি মিলব্রা থেকে বার্কলির একটি টিকেট নিয়ে নেন তাহলে তার ভাড়া পড়ছে ৫.১০ ডলার। দ্বিতীয় ব্যাক্তি যদি অ্যামবার্কাডেরোতে নেমে প্রথম ব্যাক্তির কাছ থেকে টিকেটটি নিয়ে নেন তবে দুই জনের বেঁচে যাবে ১.৭৫ ডলার। অর্থ্যাৎ, মাঝ পথে দু'জন যাত্রী যদি তাদের টিকিটটি বিনিময় করে নেন, তাহলে দু'জনেরই লাভ।

বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিষয়টি আরেকটু খুলে বলা যেতে পারে। যাদের সাবওয়ে সম্পর্কে ধারনা আছে, তারা জানেন যে, এই ট্রেনের মাধ্যমে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে খুব দ্রুত চলাচল করা যায়। এবং স্টেশনগুলো এমনভাবে তৈরী করা থাকে যে, টিকিট না কিনে প্রবেশ করা যায় না। এবার ধরুন, আপনি ট্রেনে করে ধানমন্ডি থেকে টঙ্গি যাবেন। এবং আপনার বন্ধু উত্তরা থেকে মহাখালি আসবেন। পুরটাই একই পথে। এখন আপনি ধানমন্ডি থেকে উঠে যদি মাঝ পথে আপনার বন্ধুটির সাথে টিকিটটি বিনিময় করে নেন (যে উঠেছিল উত্তরা থেকে), তাহলে কী দাড়ালো? আপনি যখন ট্রেন থেকে নামবেন, আপনার কাছে আছে আসলে আপনার বন্ধুটির টিকিট, আর তার কাছে চলে গেছে আপনার টিকিট। ফলে, আপনি যখন ট্রেন থেকে নামবেন, ট্রেনের কম্পউটার সিস্টেম বুঝবে, আপনি আসলে উত্তরা থেকে টঙ্গি গিয়েছেন, ধানমন্ডি থেকে নয়। এবং আপনাকে উত্তরা থেকে টঙ্গির ভাড়া কেটে রাখবে। এভাবেই ট্রেনের টিকিটিং সিস্টেমকে বোকা বানিয়ে সকল যাত্রী লাভবান হতে পারেন। শুধু জানতে হবে, কে কার সাথে টিকিট বিনিময় করে নিবে। আর স্মার্টফোনের একটি অ্যাপ খুব সহজেই এই কাজটি করতে পারে।

আসিফ হক এমন একটি সিস্টেম তৈরির কথা বলেছেন যার মাধ্যমে কে কখন কোথায় যাবেন ও কোথায় নামবেন এবং কোন ট্রেনটি কখন কোথায় থামবে তা তিনি বুঝতে পারবেন। তার এই সিস্টেমের মাধ্যমে ৪৬৬৬ জন লোক প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ডলার করে ভাড়া ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই সিস্টেমটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

আসিফ হক তার একটি গবেষণা পত্রে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। এবং যদি সত্যি সত্যি এই ধরনের একটি সফটওয়্যার/অ্যাপ তৈরী করা যায়, তাহলে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে সানফ্রান্সিসকো সাবওয়েকে।

উল্লেখ্য, আসিফ হক বর্তমানে টুইটারে কর্মরত একমাত্র বাংলাদেশী। এবং আমেরিকার বিভিন্ন মিডিয়াতে আসিফের এই গবেষণা পত্রটি নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। আসিফ হকের মূল গবেষণা পত্রটি এই লিংক থেকে পাওয়া যাবে - http://arxiv.org/pdf/1401.8030v1.pdf

 



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে