Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (48 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০২-২৬-২০১৪

নিজামীর মামলায় ফের যুক্তিতর্ক ১০ মার্চ

নিজামীর মামলায় ফের যুক্তিতর্ক ১০ মার্চ

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারী- যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় ফের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শুনাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বুধবার আগামী ১০ মার্চ ফের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে নিজামীর মামলার রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন বিদায়ী চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু রায় দেওয়ার আগেই গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি অবসরে চলে যান। ফলে তিন মাস পার হলেও এ মামলার রায় হয়নি।

৫৪ দিন চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়া নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বুধবার প্রথম বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী নিজামীর মামলার রায়ের বিষয়টি উত্থাপন করলে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কাছে জানতে চান। অ্যাডভোকেট তাজুল ন্যায়বিচারের স্বার্থে ফের পূর্ণাঙ্গ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

এরপর ট্রাইব্যুনাল ১০ মার্চ থেকে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের আদেশ দেন। এ সময় প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী একদিনের মধ্যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ শেষ করার পর আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বলে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিচারিক কার্যক্রমের শেষ ধাপ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হবে নিজামীর মামলায়। উভয়পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে গত বছরের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউররা। এরপর ৭ নভেম্বর থেকে চার দিন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য দিন রাখা হলেও নিজামীর আইনজীবীরা আসেননি। ফলে ১৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত বলে ঘোষণা দিয়ে রায় যেকোনো দিন দেওয়া হবে বলে মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের লিখিত যুক্ততর্ক জমা দিতে বলা হয়।

এরপর ১৪ নভেম্বর আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনালের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ চাইলে ১৭ নভেম্বর থেকে ফের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় দেন ট্রাইব্যুনাল।    

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে ৩৩৬ পৃষ্ঠার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থা। আর আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়।

তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এতে তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, খুন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৫টি অভিযোগ আনা হয়।

২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই বছরের ২৮ মে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগ এনে নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ১৫টির সঙ্গে ১৬ নম্বর অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যা যোগ হয়েছে।

নিজামীর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৬ আগস্ট থেকে গত বছরের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে  তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানসহ ২৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে ৭ম সাক্ষী প্রদীপ কুমার দেবকে বৈরি ঘোষণা করে তাকে জেরা করেছেন প্রসিকিউশন।

ঘটনার অন্য ২২ সাক্ষী হচ্ছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিজবাউর রহমান চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধকালে বিচ্ছু বাহিনীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গেরিলা যোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল, মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (নিরাপত্তারক্ষী) রোস্তম আলী মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মুক্তিযোদ্ধা নাজিব উদ্দিন খাত্তাব, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, মো. আইনুল হক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফিজিশিয়ান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. রথীন্দ্রনাথ কুণ্ডু, শহীদ বুদ্ধিজীবী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আলিম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য মো. আব্দুস সেলিম লতিফ ও তার ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম ডাবলু, জানে আলম জানু, মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক, আবু সামা ফকির, শহীদের পুত্র ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ তহুরুল আলম মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী বিশ্বাস, শহীদ পরিবারের সদস্য শাহজাহান আলী এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আজহারুল হকের স্ত্রী সৈয়দা সালমা হক।

জব্দ তালিকার ২ সাক্ষী হচ্ছেন বাংলা একাডেমির সহকারী গ্রন্থাগারিক এজাবউদ্দিন মিয়া এবং জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগের কিপার স্বপন কুমার বিশ্বাস।

আসামিপক্ষ তাদের জেরা সম্পন্ন করেছেন।

অন্যদিকে নিজামীর পক্ষে গত বছরের ২১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হচ্ছেন, অ্যাডভোকেট কে এম হামিদুর রহমান, মো. শামসুল আলম, আবদুস সালাম মুকুল এবং নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার মো. নাজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেন। তাদেরকে জেরা করেছেন প্রসিকিউশন।

গত বছরের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ও ২০ নভেম্বর ৫ কার্যদিবসে নিজামীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আলী, হায়দার আলী ও মীর ইকবাল। অন্যদিকে গত বছরের ৭ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে