Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (67 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০২-২৬-২০১৪

ডা. ইভা হত্যায় ফয়সালের ফাঁসির আদেশ

ডা. ইভা হত্যায় ফয়সালের ফাঁসির আদেশ

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারী- ব্র্যাকের চিকিৎসক ডা. সাজিয়া  আফরিন ইভাকে ধর্ষণ চেষ্টা ও  হত্যা মামলায় ওই ক্লিনিকের কেয়ারটেকার ফয়সালকে (৩০) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক এ রায় দেন।

এ সময় আসামি ফয়সালকে কারাগারে থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। তার উপস্থিতিতেই এ রায়  ঘোষণা করা হয়। তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে চার্জশিটভূক্ত ১৯ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। আসামির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এসএম রফিকুল ইসলাম।

রায়ের বিবরণে প্রকাশ, ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর দক্ষিণ খান থানার আমতলা ব্র্যাক ক্লিনিকের ৩য় তলায় ক্লিনিকটির খণ্ডকালীন ডাক্তার সাজিয়া আফরিন ইভা (২৭) ডিউটিরত ছিলেন। এ সময় ফয়সাল ইভার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ইভা বাধা দিলে তাকে ফয়সাল শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

আসামি ফয়সালের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার নিখলী গ্রামে। তার পিতার নাম স্বপন মিয়া। মায়ের নাম রুশিয়া।

ঘটনার পর মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), গোয়েন্দা (ডিবি) ও দক্ষিণ খান থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নানা বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন ফয়সাল।

গ্রেফতারের পরদিন ২ ডিসেম্বর ফয়সাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হকের কাছে ডা. ইভা হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে ফয়সাল বলেন, ঘটনার মাত্র পনের দিন আগে ডা. ইভা ব্র্যাক ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চাকরি নেন। ক্লিনিকটির তৃতীয় তলায় থাকতেন কেয়ারটেকার ফয়সাল। মাঝে মাঝেই নাইট ডিউটি থাকতো ডা. ইভার। ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর দিবাগত রাতেও ডা. ইভার নাইট ডিউটি ছিল।

আদালতে ফয়সাল স্বীকার করে, ডা. ইভা ওইদিন রাতে যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন তাকে ভোগের ইচ্ছা জাগে ফয়সালের। এরপর তিনি ডা. ইভার রুমের দরজায় কড়া নাড়েন। ইভা দরজা খুলে দিতেই ফয়সাল জোর করে ঘরে ঢুকতে চান। ইভা ফয়সালের মতলব বুঝতে পেরে দরজা আটকাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ফয়সাল দরজায় জোরে লাথি মারায় দরজা খুলে যায়। মাথায় আঘাত লেগে আহত হন ইভা। এরপর ফয়সাল ঘরে ঢুকেই তাকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় নিয়ে যান। ইভা তার সম্ভ্রম বাঁচানোর প্রানপণ চেষ্টা করেন। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক সময় ইভার বুকের ওপর বসে গলা চেপে মৃত্যু নিশ্চিত করেন ঘাতক ফয়সাল।

এ ঘটনায় নিহত ইভার বাবা মনিরুল ইসলাম রাজধানীর দক্ষিণ খান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(৪)খ ও দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় এ হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

ঘটনাটি প্রথম তদন্ত শুরু করেন দক্ষিণ খান থানার এসআই গোলাম সরোয়ার। এরপর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সহকারী পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহাকে। তিনি তদন্ত করে ফয়সালকে অভিযুক্ত করে ঢাকার সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন।

মামলায় আরও তিনজনের নাম থাকলেও তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়।

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে