Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০২-২৫-২০১৪

আব্দুল আলিমকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার নির্দেশ

আব্দুল আলিমকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার নির্দেশ

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারী- মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আব্দুল আলীমকে ১১ মার্চের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৯ অক্টোবর রায় ঘোষণার পর ৭ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল করেন আলিম। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজার জন্য কোনো আপিল করা হয়নি।

আপিল দায়েরের পর আলিমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, “তার বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে শাস্তি দিয়েছে। সব অভিযোগেই তার খালাস চেয়ে আমরা ১২০টি যুক্তি দেখিয়েছি।”

তিনি জানান, ১৪৬ পৃষ্ঠার মূল আপিলে তথ্য প্রমাণসহ মোট ২ হাজার ৮৭৬ পৃষ্ঠা রয়েছে। আমরা আপিলে বলেছি, দুর্বল যুক্তির উপর ভিত্তি করে আবদুল আলীমকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

তাজুল বলেন, রায়ে আলীমকে জয়পুরহাট শান্তি কমিটির সভাপতি হিসাবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকেও নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা বলেছি, তিনি শাস্তি কমিটির কোনো অংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পর তিনি ২০ এপ্রিল তার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানেই আত্মগোপন করে থাকেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া মুসলিম লীগের নেতা হিসাবে একাত্তরে জয়পুরহাটে রাজাকার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালানোর দায়ে গত ৯ অক্টোবর আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে বলা হয়, “কোনো মানুষ, যে ফিজিক্যালি ও মেন্টালি আনফিট, তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিৎ নয়। কিন্তু আবদুল আলীমের অপরাধ এতোটাই ঘৃণ্য, তাকে মুক্ত রাখলে মানবতার অবমাননা হবে। এ কারণে তাকে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বাকি জীবন কাটাতে হবে। তাহলে হয়তো কৃতকর্মের জন্য তার ভেতরে অনুশোচনার সৃষ্টি হবে।”

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, আলীম তখন কনভেনশন মুসলিম লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং বগুড়া জেলা কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। সে সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য মহুকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে রাজাকার বাহিনী গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন।

তার নেতৃত্বে সে সময় শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ব্যাপক ধরপাক, লুটপাট, নির্যাতন এবং হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটায় বলে উঠে এসেছে রায়ে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দালাল আইনে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল আলীমের বিরুদ্ধে।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর এবং ১৯৭৭ সালে দুই দফা জয়পুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলীম। ১৯৭৯, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জিয়াউর রহমানের সরকারে প্রথমে বস্ত্রমন্ত্রী এবং পরে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন আলীম।

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে