Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৩-২০১৪

২৬ বছর পর মুখে কথা ফুটলো বোবা খোকনের

২৬ বছর পর মুখে কথা ফুটলো বোবা খোকনের

কক্সবাজার, ২৩ ফেব্রুয়ারী- আশ্চর্যজনক ঘটনা ২৬ বছর পর এক ‘বোবা’ ব্যক্তির মুখে কথা ফুটেছে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী গ্রামে।

এই আলোচিত ব্যক্তি ঢাকার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক শফীপুর ৩নং ওয়ার্ডের আঁধারমানিক রোডের বাসিন্দা। তার নাম খোকন রহমান খোকন (৪২)। মৃত আবদুস সামাদ ও আমিনা বেগমের একমাত্র সন্তান তিনি।

‘বোবা’ খোকনকে কথা বলতে দেখে এলাকাবাসীও হতবাক হয়ে যান। খোকনকে একনজর দেখার জন্য এলাকার সহ¯্রাধিক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

জানা গেছে, ২৬ বছর আগে পঞ্চম শ্রেণী পযর্ন্ত পড়ুয়া খোকন তার চাচা আনোয়ার হোসেনের ‘জাদুর প্রভাবে বোবা’ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে ভবঘুরের মত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিনাতিপাত করছিলেন।

গত ছয় মাস আগে টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরী সৈকতপাড়ের মুদি দোকানি জাহেদ হোসেনের সামনে পড়েন এই প্রতিবন্ধী। তাকে দেখে জাহেদ হোসেনের মায়া জাগলে খোকনকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন।

তার কাছে থেকেও ইশারা-ইঙ্গিতেই কাটাচ্ছিলেন জীবন। নিয়মিত নামাজ পড়া ও রোজা রাখতেন খোকন। আদর্শ চরিত্রের হওয়ায় এলাকার সবার স্নেহের পাত্রে পরিণত হন। বেশ ভালোভাবেই জীবন যাপন করছিলেন।

কিন্তু গত চার-পাঁচ দিন আগে লেঙ্গুরবিল পর্যটন বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার ও বেকারি ব্যবসায়ী সেলিম তাকে দোকানে দোকানে ডেকে নেন। পরে খোকনকে লিখিত প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে জানতে পারেন, ১৮ বছর বয়সে তার চাচার ‘জাদু প্রভাবে’  খোকনের এ অবস্থা।

এ ঘটনা জানার পর তারা খোকনকে স্থানীয় কবিরাজ সৈয়দ করিমের কাছে নিয়ে যান। সেখানে আমলিয়াতের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করেন তারা। চিকিৎসার একপর্যায়ে খোকনের মুখে কথা ফোটে।

২৬ বছর পর্যন্ত কথা বলতে না পারার প্রতিক্রিয়ায় খোকন বলেন, ‘আমার এক চাচা আছে, তার নাম আনোয়ার হোসেন। শৈশবে মা-বাবা মারা গেলে আমার দাদা মহিউদ্দীন চেয়ারম্যানের সম্পদের ৪০ বিঘা জমি থেকে আমি ২০ বিঘা দাবি করলে চাচা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। কয়েকদিন পর তিনি ডাবের পানিতে ‘জাদু’ করে কৌশলে আমাকে খেতে দেন। তখন থেকে আমার জবান বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তৎকালীন মেম্বার ফজলুর ও চেয়ারম্যান মজিবুরের কাছে গিয়েও  কোনো সমাধান পাইনি আমি।’

খোকন বলেন, ‘আমার চাচার মিলন ও মোশারফ নামের দুই ছেলে আছে। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক শফীপুর এলাকার ফজলু উকিল, কাওছার মাতব্বর, বিএনপি নেতা হুমায়ুন- তাদের নামও বলেন তিনি। আমি যে কিভাবে টেকনাফে এসেছি নিজেই জানি না।’

খোকনের চিকিৎসক কবিরাজ সৈয়দ করিম বলেছেন, ‘খোকনের অবস্থা বুঝে আমি সন্ধ্যায় আল্লাহর ওপর ভরসা করে কোরআনি আমলের মাধ্যমে চিকিৎসা করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে অল্প সময়ের মধ্যে খোকনের মুখ কতা ফুটেছে। এতে আমি খুশি হয়েছি।’

খোকনের বর্তমান বয়স আনুমানিক ৪২ বছর। কথা বলতে পারায়  খোকন তাবলিগ জামাতের চিল্লায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কথা বলতে পারায় তিনি আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করেছেন।

কক্সবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে