Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১২-২০১২

গোলাম আযমের গ্রেফতার পর্বের টুকিটাকি

জাকিয়া আহমেদ


গোলাম আযমের গ্রেফতার পর্বের টুকিটাকি
জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের গ্রেফতার নিয়ে টানটান টেনশন ছিলো বুধবার দিনভর। গ্রাম-গঞ্জের জটলা থেকে শহুরে চায়ের আড্ডা, এমনকি পাবলিক বাসেও এ নিয়ে আলোচনার অন্ত ছিলো না। নানামুখী নাটকীয়তায় ভরা ছিলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাসও। এসব ঘটনাপ্রবাহের কিছু টুকিটাকি তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

কাঠগড়ায় গোলাম আযম
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমকে সকাল দশটার দিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এজলাসে নেওয়ার পর ডকে (কাঠগড়া) রাখা একটি চেয়ারে তিনি বসেন।

বাদামি রঙের জিন্নাহ টুপি, ধূসর রঙের পাঞ্জাবি ও সালোয়ার এবং হালকা আকাশী রঙের সোয়েটার পরা গোলাম আযম এ সময় ছিলেন অনেকটা ধীর স্থির।

বাবার পাশের চেয়ারে ছেলে
তাকে এজলাস কক্ষে নেওয়া হয় হুইল চেয়ারে করে। এ সময় ডকে তার সঙ্গে পাশের চেয়ারে বসেন তার বড় ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। বাবার সঙ্গে তিনি প্রায় আধা ঘণ্টার মতো কাঠগড়ায় বসে ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল শুরু হয় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে, সাড়ে দশটায় আমান আযমী ডক থেকে বেরিয়ে গেলেও বাবার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।

জামায়াতের আইনজীবীদের সঙ্গে করমর্দন
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এজলাস কক্ষে ঢোকেন সাড়ে দশটায়। তার বেশ আগেই এজলাসে উপস্থিত হন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং গোলাম আযমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্য আইনজীবীরা।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী গোলাম আরিফ টিপু এজলাসে ঢুকে তাদের নির্ধারিত আসন ডান দিকে না গিয়ে বাঁ দিকে জামায়াতের আইনজীবীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলামসহ অন্যদের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় গোলাম আরিফ টিপু এবং আব্দুর রাজ্জাক দু’জনকেই বেশ প্রাণ খোলা ও হাসিমুখে দেখা যায়।

গোলাম আযমের সালাম
১০টা ৩৫ মিনিটে বিচারপতি নিজামুল হকসহ অপর দুই বিচারপতি একেএম জহির আহম্মেদ ও এটিএম ফজলে কবির যখন এজলাসে প্রবেশ করেন, তখন নিয়ম অনুযায়ী সবাই দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গোলাম আযমও উঠে দাঁড়ান এবং বিচারকদের উদ্দেশ্যে উচ্চকণ্ঠে সালাম দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলীর মাইক ঠিক করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন জামায়াতের প্রধান আইনজীবী
জামিন আবেদন খণ্ডনের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী তার নির্ধারিত স্থানে দাঁড়ান। তিনি কথা বলা শুরু করলেও তার সামনে রাখা মাইকটি কাজ করছিল না। সেটি চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক সেখানে ছুটে যান। অবশ্য তার আগেই রাষ্ট্রপক্ষের একজন কৌঁসুলী মাইক ঠিক করে দেন।

জামিন আবেদনের প্রধান বিষয় অসুস্থতা
জামায়াতের আইনজীবীদের করা জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গোলাম আযম বয়সের ভারে ন্যূব্জ, তিনি একা একা চলাফেরা করতে পারেন না, তার স্বাস্থ্যগত এবং বার্ধক্যজনিত রোগ প্রাধান্য দিয়ে এই জামিন আবেদন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে গোলাম আরিফ টিপু বাংলানিউজকে বলেন, ‘গোলাম আযম যদি বয়সের কারণে ন্যূব্জ হয়ে থাকেন এবং তার কথা-বার্তা যদি অসংলগ্ন হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কি করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকার দেন। তিনি যে সুস্থ এবং ঠিকঠাক মতো সব কথা বলতে পারেন এর প্রমাণ হিসেবে বাংলানিউজে প্রকাশিত তার তিন পর্বের সাক্ষাৎকার আমরা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি।  

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলীদের বুদ্ধিজীবীদের অভিনন্দন
গত বেশ কয়েকদিন ধরেই শাহরিয়ার কবির, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সংগঠন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলীদের অপসারণ চেয়ে আসছিলেন তাদের অযোগ্যতার অভিযোগ তুলে। কিন্তু আজ রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী গোলাম আরিফ টিপু চমৎকারভাবে যুক্তি খণ্ডন করে গোলাম আযমের জামিনের বিরোধিতা করেন।

এ বিয়য়ে জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত শাহরিয়ার কবির বাংলানিউজকে বলেন, ‘যুক্তি তর্কের সময় আমরা এজলাসে উপস্থিত থাকতে পারিনি। গোলাম আযমের গ্রেফতারের দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কিমিটির পক্ষ থেকে আমরা মানববন্ধন করেছি। কিন্তু আমরা শুনেছি আজ গোলাম আরিফ চমৎকার সাবমিশন রেখে বেইলের বিরোধিতা করেছেন।’

আপনারা তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আজ তাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করবো গোলাম আরিফ টিপুসহ তার পুরো টিম এ দক্ষতা, যোগ্যতা অব্যাহত রাখবেন।’

তিনি বলেন, ‘নুরেমবার্গ ট্রায়াল শেষ হতে দশ মাস সময় লেগেছিল। ২০১৩ সালের মধ্যে আমরা এই বিচারের শেষ দেখতে চাই।’

বয়স নয়, অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনা
রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম কৌঁসুলী অ্যাড. রানা দাশগুপ্ত গোলাম আযমের বয়সের বিষয়ে বলেন, ‘বয়স কোনো বিচারে বিবেচ্য হতে পারে না। অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় নেওয়া হবে। গোলাম আযম আজ হুইল চেয়ারে করে গাড়ি থেকে নেমে এজালাস কক্ষে এসেছেন এবং হুইল চেয়ারে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা গণমাধ্যমের রিপোর্টে দেখেছি, তিনি হেঁটেই মসজিদে যান এবং হেঁটেই ফেরেন। আজ কেন তার হুইল চেয়ারের প্রয়োজন হলো বুঝতে পারছি না।’

ডিভিশনের আবেদন
বয়স এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে জেলখানায় গোলাম আযমের জন্য ডিভিশনের আবেদন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল জানান, ডিভিশনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার অধিকার তাদের নেই। জেলকোড অনুযায়ী তার যা প্রাপ্য, তিনি তা পাবেন।

একই সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করার পরার্শ দেন ট্রাইব্যুনাল।

গোলাম আযমের হাজিরা উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন জোরদার করা হয়েছিল তেমনি এজলাস কক্ষে তিল ধারনের জায়গা ছিল না। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, রাষ্টপক্ষের কৌঁসুলী ও জামায়াত পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে এক ঠাসাঠাসি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে