Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (66 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৯-২০১৪

নরসিংদীতে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নরসিংদীতে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নরসিংদী, ১৯ ফেব্রুয়ারী- নরসিংদীতে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন কাদের ওরফে মাহিনকে (২৭) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শিবপুর উপজেলার পুটিয়া বাজারের ত্রিমোহনী মোড়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

শাহিন সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী বন বিভাগ এলাকার মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শেষ বর্ষের ছাত্র। স্থানীয় একটি সালিস-বিচারকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা শাহিনের পরিবারের সদস্যদের।

নিহতের পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে পুটিয়া বাজারের বিকাশের এজেন্ট জাকির হোসেনের দোকান থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি চাঁদপুরে ২৫ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু নির্দিষ্ট জায়গায় টাকা না পাঠানোয় টাকা ফেরত চান ওই লোকটি। এতে টাকা না দিয়ে উল্টো ওই লোককে বকাঝকা করে দোকান থেকে বের করে দেন জাকির। এ ঘটনায় দুপুরে শাহিনের কাছে বিচার দেন অজ্ঞাত ওই লোকটি। পরে বিকেল চারটার দিকে পুটিয়া বাজারের আবদুল কাদের মার্কেটে শাহিন কাদেরের নিজস্ব কার্যালয়ে সালিস বৈঠক হয়। বৈঠকে জাকির হোসেনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে দেন শাহিন। এ ঘটনা জাকির হোসেন আইয়ুবপুর ইউনিয়নের বংশিরদিয়া এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে আবির হোসেন ও  মো. আলামিন ওরফে টাইগার আলামিনকে জানান। তাঁরা টাকা আদায়ের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই লোককে তাঁদের হাতে তুলে দিতে বলেন শাহিনকে। এ নিয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁদের সঙ্গে শাহিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহিন কাদের তাঁর দুই সহযোগীকে নিয়ে ত্রিমোহনী মোড়ে এলে আবির-আলামিনসহ ৮ থেকে ১০ জনের একদল ‘সন্ত্রাসী’ শাহিনকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় সঙ্গে থাকা সাফিজ উদ্দিন ও শাকিল আহমেদ বাধা দিতে দিতে গেলে তাঁদেরও পটিয়ে এবং কুপিয়ে আহত করে তারা। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে শাহিন কাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিত্সক।

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত শাহিন কাদেরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। মৃতদেহের ডান কানের পাশে মাথায় একটি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

হাসপাতালে নিহতের ছোট বোন ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা সব সময় সালিস-বিচার করত। বাবা মারা যাওয়ার পর ভাইয়াকে মানুষ ডাকে। এখন মানুষের কাজ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে আমার ভাইকে মরতে হলো।’ তবে কী কারণে শাহিনকে হত্যা করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি তিনি।

নরসিংদীর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সম্পর্কে শাহিনের নানা এ বি এম আমির হোসেন বলেন, বাবার (শাহিনের বাবা) মতো সামাজিক কাজে শাহিনের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই কেউ শত্রুতাবশত ঈর্ষান্বিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে এমন কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর বিষয়টি একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে