Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (43 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৬-২০১৪

অবশেষে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়


অবশেষে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি

নয়াদিল্লী, ১৬ ফেব্রুয়ারী- শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির শাসনই জারি হলো। শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রাষ্ট্রপতি-শাসিত সরকারকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে উপরাজ্যপাল নাজিব জং, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে লেখা চিঠিতে এই সুপারিশ করেছিলেন। তবে বিধানসভা জিইয়ে রাখার প্রস্তাবও তিনি দিয়েছিলেন। উপরাজ্যপাল ওই চিঠির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ইস্তফাপত্রও রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেছেন।

এসব পদক্ষেপে অবশ্য বিদায়ি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাতে চিন্তিত নন। আজ শনিবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে তিনি আবার মুকেশ আম্বানির কথা উল্লেখ করে তাঁর সঙ্গে কংগ্রেস ও বিজেপির ‘অসত্ যোগসাজশের’ অভিযোগ এনেছেন। মনমোহন সিং, চিদাম্বরম, কমলনাথসহ বহু বিশিষ্ট নেতা দেশের জন্য ভাবেন বলেও তিনি মনে করেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁদের ‘ইমানদার’ বলেও মনে করেন না কেজরিওয়াল। তাঁর ব্যাখ্যায়, তাঁরা সবাই বৃহত্ শিল্পগোষ্ঠীর হাতের পুতুল, তাঁদের স্বার্থে সরকার পরিচালনা করেন। কেজরিওয়াল আরও জানান, লোকসভা ভোটে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং যারা ‘দুর্নীতিগ্রস্ত, অপরাধী, সাম্প্রদায়িক ও রাজনীতিকে পারিবারিক উত্তরাধিকার মনে করেন’, তাঁদের জয় ঠেকাবেন।

তবে কেজরিওয়ালের পদত্যাগের পরে আম আদমি পার্টিকে (এএপি) যেসব সমালোচনা সহ্য করতে হচ্ছে সেগুলোর অন্যতম হলো, প্রশাসনিক দিক থেকে তাঁরা অনভিজ্ঞ, তাঁরা সুশাসনের বদলে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী এবং আদৌ দায়িত্বশীল নন। তাঁদের চরিত্র পলায়নমুখী। এ কারণে তাঁদের কাছ থেকে সুশাসিত স্থিতিশীল সরকার পাওয়ার আশা কম। প্রধানত বিজেপি এবং কিছুটা কংগ্রেস এভাবেই এএপিকে আক্রমণ করছে। কেজরিওয়াল তাতে বিচলিত নন। তাঁর দাবি, পদত্যাগের পর সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা আগের তুলনায় আরও বেড়ে গেছে। যদিও এটা ঠিক যে সমাজের শিক্ষিত এবং স্বচ্ছল মানুষদের মনে এএপির কাজকর্ম সম্বন্ধে কিছুটা বিরূপ ধারণা জন্ম নিয়েছে। এই শ্রেণীর ব্যাপক সমর্থন এএপি দিল্লি নির্বাচনে পেয়েছিল।

শুক্রবার রাতে এএপির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচনের সুপারিশ করেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রিপোর্ট পেলেই রাষ্ট্রপতি তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন। সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে দিল্লি পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি শাসন এড়ানোর একমাত্র উপায় বিকল্প সরকার গঠন। সেই সম্ভাবনা যে একেবারেই নেই তা নয়। বিজেপি অনায়াসেই সরকার গড়তে পারে। ৭০ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় তাঁদের ৩২জন সদস্য রয়েছেন। আম আদমি পার্টি (এএপি) থেকে বহিষ্কৃত বিনোদ কুমার বিন্নি, জনতা দল (সংযুক্ত) সদস্য শোয়েব ইকবাল এবং স্বতন্ত্র সদস্য রাজবীর শৌকিন বিজেপিকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত। এএপি থেকে ভাঙিয়েও সরকারের স্থায়িত্ব বাড়ানো যায়। কিন্তু বিজেপি সেই ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। বিধানসভার বিরোধী নেতা হর্ষবর্ধন গতকাল শুক্রবারই বলে দেন, তাঁদের লক্ষ্য নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দিল্লির মসনদ দখল করা। দলের সাবেক সভাপতি নিতিন গড়কড়িও শনিবার জানিয়ে দেন, তাঁদের পক্ষে পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই। কুড়িয়ে-বাড়িয়ে সরকার গড়ার চেয়ে তাঁরা নতুন নির্বাচনের পক্ষপাতী। বিজেপির কৌশল হল, এমন কিছু তারা করতে চায় না যাতে তাদের দেশ দখলের মূল লক্ষ্যে অসুবিধার সৃষ্টি করে। অর্থাত্, দিল্লির পরিবর্তে তারা দেশ দখলে বেশি আগ্রহী।

কংগ্রেস ভাবতে পারেনি কেজরিওয়াল এভাবে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন । তাদের ধারণা ছিল, লোকসভা ভোট পর্যন্ত কোনোরকমে কেজরিওয়াল চালিয়ে দিলে তারপর দেখা যাবে। কংগ্রেসের হাল যে খুব খারাপ, তা বিভিন্ন জরিপে বেরিয়ে আসছে।

কংগ্রেসের একমাত্র সান্ত্বনা, সমর্থন প্রত্যাহারের দায় তাদের নিতে হল না। তবে, কেজরিওয়াল যেভাবে কংগ্রেসের নেতাদের নাম করে সমালোচনা শুরু করেছেন, শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির নাম করে কংগ্রেসের ‘বদনাম’ করছেন, তাতে তারা আম আদমি পার্টিকে আদালতে টেনে আনার কথা ভাবতে শুরু করেছেন।

 

 

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে