Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ , ১৭ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৩-২০১৪

ভারতীয় সংসদ উত্তাল, হাতাহাতির উপক্রম

ভারতীয় সংসদ উত্তাল, হাতাহাতির উপক্রম

নয়াদিল্লী, ১৩ ফেব্রুয়ারী- অন্ধ্র প্রদেশকে দুই টুকরা করে পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন রুখতে ভারতের সংসদে আজ বুধবার যা ঘটল তা অদৃষ্টপূর্ব। ক্ষুব্ধ সাংসদেরা ওয়েলে নেমে এসে প্ল্যাকার্ড-পোস্টার নিয়ে স্লোগান দিলেন, সভার কাগজপত্র ছিঁড়ে উড়িয়ে দিলেন, এমনকি অন্য সাংসদদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করলেন, হাতাহাতিরও উপক্রম ঘটল।

এই প্রবল প্রতিরোধের মধ্যে রেলমন্ত্রী অন্তর্বর্তী রেল বাজেট পেশ করলেও তা পড়া শেষ করতে পারলেন না। বিরোধীদের ক্ষোভের হাত থেকে বাঁচাতে সোনিয়া গান্ধী, শরদ পাওয়ার, কমলনাথ, লাল সিং রেলমন্ত্রীকে আড়াল করে রাখেন।

সভা মুলতবি করে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বললেন, ‘আমার হূদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। গণতন্ত্রের পক্ষে এ অত্যন্ত বেদনার ও দুঃখের দিন।’

তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের প্রশ্ন ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষই গত কয়েক দিন ধরে উত্তাল। দুই সভার কোনোটিতেই কোনো কাজ হচ্ছে না। ২১ ফেব্রুয়ারি এই অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা। তার মধ্যে তেলেঙ্গানা বিল দুই কক্ষে পাস করানো না গেলে রাজ্য ভাগ করা সম্ভব হবে না। কংগ্রেসের অন্ধ্র প্রদেশের সাংসদেরাও এই বিষয়ে দলের বিরোধিতা করছেন।

আজ অন্তর্বর্তী রেল বাজেট পেশ করানোর বিষয়ে প্রধান বিরোধী দলগুলো রাজি হওয়ায় মনে করা হচ্ছিল অন্তত এদিনের অধিবেশন নির্বিঘ্নে হতে পারবে। কিন্তু দেখা গেল, এত প্রবল বিরোধিতা তেলেঙ্গানা-বিরোধীরা করলেন যে রেলমন্ত্রী মল্লিকার্জুন খারগে তাঁর বাজেট ভাষণ শেষ করতে পারলেন না। বিরোধীদের ক্রোধের হাত থেকে তাঁকে আড়াল করতে এই প্রথম লোকসভার প্রথম সারিতে না দাঁড়িয়ে রেলমন্ত্রী দ্বিতীয় সারিতে দাঁড়িয়ে ভাষণ শুরু করলেন। প্রথম সারিতে তাঁর সামনে বসে থাকলেন সোনিয়া গান্ধী, কৃষিমন্ত্রী শরদ পাওয়ার ও সংসদীয় মন্ত্রী কমলনাথ। জম্মুর উধমপুরের কংগ্রেস সদস্য লাল সিং দুই হাতে রেলমন্ত্রীকে আড়াল করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরই পাশাপাশি দেখা গেল অন্ধ্র প্রদেশের চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কে এস রাও, কে সূর্যপ্রকাশ, ডি পুরান্ডেশ্বরী ও অভিনেতা রাজনীতিবিদ চিরঞ্জীবী তেলেঙ্গানার বিরোধিতায় হাতে পোস্টার নিয়ে ওয়েলে নেমে স্লোগান দিচ্ছেন। রাজ্যের অন্য দুই মন্ত্রী এম পাল্লাম রাজু ও কৃপারিণী নিজেদের আসনের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের সমর্থন করতে থাকেন।

তেলেঙ্গানাপন্থীরাও এই সময় প্রতিরোধে নামেন। কংগ্রেসের এম জগন্নাথের সঙ্গে তেলুগু দেশমের এন শিবপ্রসাদের হাতাহাতির উপক্রম হয়। একে অন্যকে ধাক্কা দিতে থাকেন। তাঁদের ঠেকাতে ওয়েলে নেমে আসেন জনতা দলের নেতা শরদ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায় ও কংগ্রেসের জগদম্বিকা পাল। এরই মাঝে ভাষণ পড়ে যাচ্ছেন রেলমন্ত্রী। প্রবল গোলমালে কী পড়ছেন কিছুই বোঝার উপায় নেই। একসময় সোনিয়া তাঁকে বলেন, পুরো ভাষণ পাঠ না করে সভায় পেশ করে দিতে। রেলমন্ত্রী তাই করলেন। কিন্তু তার আগেই তেলেঙ্গানা-বিরোধীরা বিলি করা বাজেট-ভাষণ ছিঁড়ে উড়িয়ে দিতে থাকেন। কেউ কেউ লোকসভার সচিবদের জন্য রাখা চেয়ারে উঠে পড়েন। সভা সারা দিনের জন্য মুলতবি করে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী দুপুরেই প্রধান বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কীভাবে তেলেঙ্গানা বিল পাস করানো যায় সেটাই সরকারের সবচেয়ে বড় চিন্তা। সরকার প্রথমে ভেবেছিল বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করাবে যাতে বিলটি পরবর্তী সংসদেও প্রাসঙ্গিক থাকে। কিন্তু বিলটিতে আর্থিক প্রসঙ্গ থাকায় রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সেটি লোকসভায় পেশের পক্ষে মত দেন। এর ফলে কংগ্রেসের সংকট বাড়ল। কারণ, লোকসভায় বিল পেশ করা হলে তা এই অধিবেশনেই রাজ্যসভাতেও পাস করাতে হবে। না হলে বিলটি খারিজ হয়ে যাবে। তেলেঙ্গানার বিরোধীদের যা মনোভাব, তাতে এই কঠিন কাজ কী করে কংগ্রেস করবে সেটাই চিন্তার বিষয়।

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে