Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (39 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০২-১২-২০১৪

সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা বাড়ছেই

মেসবাহুল হক


সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা বাড়ছেই

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারী- দিনে দিনে সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা বেড়েই চলেছে। গত মেয়াদের পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি মেয়াদেও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েই চলেছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের বর্তমান ৮৯ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্যের মধ্যে ৭৯ হাজার কোটি টাকাই এখন সরকারের দখলে। এছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো বড় প্রকল্পেও কোনো উন্নয়ন সংস্থাকে না পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বেশ কিছু দিন থেকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকায় সরকারের রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। এছাড়া আর্থিক খাতে নানা জালিয়াতির কারণে বিভিন্ন দাতা সংস্থা বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন করছে না। তাই দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অর্থের প্রয়োজনে সরকার ব্যাংকমুখি হচ্ছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা নেই তাই অর্থনীতিতে এর তেমন প্রভাব না পড়লেও আগামীতে তারল্য সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর ৩৭ বছরে সরকারগুলো ব্যাংকিং খাত থেকে যা ঋণ নিয়েছে গত ৫ বছরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ঋণ নিয়েছে তার চেয়েও বেশি। আগের ৩৭ বছরে সরকারগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৫২ হাজার ৮২৪ দশমিক ৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৬ দশমিক ১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই ৫ বছরে মহাজোট সরকার একাই ঋণ নিয়েছে ৬০ হাজার ৯৪২ দশমিক ১২ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়েছে ৯০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা; যা গত জুন শেষেও ছিল ৭৭ লাখ ৯৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের সাত মাসে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেয়ার পরিমাণ বেড়েছে ১২ হাজার ৪৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

আর আলোচ্য সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার বদলে উল্টো ধার শোধ করেছে সরকার। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা হিসেবে ৯ হাজার ৯৭৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে পরিশোধ করেছে সরকার। তাই ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি শেষে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ঋণ নিয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

এদিকে ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের হার সাড়ে ১৯ থেকে বাড়িয়ে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকাররা তারল্য সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংকমুখী প্রবণতা ব্যাংকিং খাতের জন্য বেশ সুখকর নয়। এ ছাড়া ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নেয়ার কারণে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়ছে।’  

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সরকারের ঋণ দিয়ে যে পরিমাণ মুনাফা করা হচ্ছে, আমানত সংগ্রহ করতে ব্যয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। এতে দেখা যাচ্ছে সরকারের ঋণ দিতে গিয়ে তাদের নিট লোকসান হচ্ছে। আর এ লোকসান সমন্বয় করা হচ্ছে বেসরকারি খাত থেকে তুলনামূলক বেশি সুদ নিয়ে।’

তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, গত ৯ জানুয়ারি এসএলআর সংরক্ষণ করার পর অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৮৯ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। এই অতিরিক্ত তারল্যের মধ্যে সরকারি বিল ও বন্ড রয়েছে ৭৯ হাজার ৯৫ কোটি টাকা; যা অতিরিক্ত তারল্যের সাড়ে ৮৮ শতাংশ। সাড়ে পাঁচ শতাংশ হিসেবে প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নগদ জমা সংরক্ষণ করার পর ব্যাংকগুলোর কাছে রয়েছে পাঁচ হাজার ১৫১ কোটি টাকা; যা অতিরিক্ত তারল্যের পাঁচ দশমিক আট শতাংশ।

ব্যাংকাররা বলছেন, সাধারণত তারা সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ হারে আমানত সংগ্রহ করে থাকেন এবং বেসরকারি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ হারে ঋণ দিয়ে থাকেন। ব্যাংক যখন বিনিয়োগ করতে না পারে তখন বাধ্য হয়ে সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার সাত শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ হলেও ব্যাংকগুলো সাধারণত স্বল্প মেয়াদি ট্রেজারি বিনিয়োগ করে। এতে মুনাফা পায় সর্বোচ্চ সাত থেকে আট শতাংশ। এর ফলে সরকারি কোষাগারে টাকা রেখে ব্যাংকগুলোকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

এদিকে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জাইকা) ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সঙ্গে মোট ২৩৫ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করেছিল সরকার। তবে সেতু নির্মাণে দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার অর্থায়ন প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল করে। এরপর সরকারের তদবিরে বিশ্বব্যাংক বেশকিছু শর্তে অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিতের আশ্বাস দিলেও সময়ক্ষেপণের কথা বলে সরকার বিশ্বব্যাংককে বিদায় দেয়। তারপর একে একে সরে যায় অন্য সহযোগী সংস্থাগুলোও।

তখন থেকে নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণের কথা বলে আসছে সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে পদ্মা সেতু নির্মাণে ছয় হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ করে সরকার। তবে এ অর্থবছরে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে না দেখে সেই অর্থ এখন ব্যয় করা হচ্ছে সরকারি চাকুরেদের জন্য ঘোষিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পরিশোধে।

প্রথম মেয়াদে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করতে ব্যর্থ হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করতে চায়। আর পদ্মা সেতু নির্মাণে যত ডলার লাগবে, তার পুরোটাই যোগান দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু তা-ই নয়, যখন যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার দরকার হবে তখনই তা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার পাইয়ে দিতে সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনে রিজার্ভ থেকেও যোগান দেয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  

ব্যাংকিং খাতের উপর সরকারে অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে বেশ কিছু দিন থেকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকায় সরকারের রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। তাছাড়া বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্পগুলো থেকে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তাই দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারের অর্থের প্রয়োজন পড়ছে। এ কারণে আগের বছরগুলোর ন্যায় সরকার বাধ্য হয়ে এখন ব্যাংকমুখী হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করছে।’

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে