Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১১-২০১২

‘ওয়ান ইলেভেন’র পাঁচ বছর পূর্তি আজ

‘ওয়ান ইলেভেন’র পাঁচ বছর পূর্তি আজ
আলোচিত-সমালোচিত ‘ওয়ান ইলেভেন’র পাঁচ বছর পূর্তি আজ। ২০০৭ সালের এই দিনে দেশি-বিদেশি শক্তির সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ হিসেবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাকে পদদলিত করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের আদলে ফখরুদ্দীন আহমেদ ও মইন উদ্দিন আহমেদরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে। এর মাধ্যমে তারা দেশে স্বেচ্ছাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং তাদের শাসনামলের প্রায় পুরো সময়ই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে রাখে।
 সেসময়ে দেশকে বিরাজনীতিকরণের (মাইনাস টু ফর্মুলা) লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ শত শত রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি করে এক শ্বাসরুদ্ধকার পরিস্থিতি।
 দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে শত শত ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে জোর করে কোটি কোটি টাকা আদায় করে। এছাড়া তারা নানা ধরনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এবং গ্রাম পর্যায়ে হাটবাজার ভেঙে দিয়ে দেশব্যাপী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এসব কারণে জনমনের ক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ফলে তারা তাদের বহুল আলোচিত মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়।
 ২০০৭ সালে এই দিনে একই সঙ্গে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদে থাকা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্বাবধায়তক সরকারের পদ থেকে সড়ে দাঁড়ান। সেসময় বঙ্গভবন ঘিরে রাখে সেনাসদস্যরা। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেন উপদেষ্টা পরিষদের দশ সদস্যের ৯ জন। আর পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল হক ভারপ্রাপ্ত উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
 জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং অল্প সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার লক্ষ্যে দু’একদিনের মধ্যেই নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।
 রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সেনাপ্রধানের চাপে প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মদ ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকাসহ জেলা শহরগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। তবে ২৪ ঘণ্টার মাথায় ১২ জানুয়ারি এ কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। ওইদিন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নতুন প্রধান উপদেষ্টার শপথবাক্য পাঠ করান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, আবদুল জলিল, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, শেখ সেলিম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, তত্কালীন এলডিপি সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আব্দুর রবসহ মহাজোটভুক্ত দলের নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
 এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জেআর মোদাচ্ছের হোসেন, সাবেক দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান ও বিচারপতি লতিফুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি ফজলুল হক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহফুজুর রহমান।
 অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ চারদলীয় জোটভুক্ত দলের নেতারা এ অনুষ্ঠান বর্জন করেন।
 প্রধান উপদেষ্ট হিসেবে ফখরুদ্দীন শপথ গ্রহণের কয়েক দিন পর কয়েক দফায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, মেজর জেনারেল অব. এম এ মতিন, ব্যবসায়ী তপন চৌধুরী, বেগম গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, মেজর জেনারেল অব. মতিউর রহমান, আইয়ুব কাদরী, আনোয়ারুল ইকবাল, ইফতেখার আহমেদ এবং ড. চৌধুরী সাজ্জাদুল করিম।
 এর আগে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই শপথ অনুষ্ঠান শেখ হাসিনাসহ ১৪ দলের নেতারা বর্জন করেন। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মদকে মেনে নিতে তাকে পর্যবেক্ষণ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
 ইয়াজউদ্দিন আহম্মদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে যারা উপদেষ্টা ছিলেন তারা হলেন—মাহবুবুল আলম, সফিকুল হক চৌধুরী, ধীরাজ কুমার নাথ, আজিজুল হক, অধ্যাপক সুফিয়া রহমান, ইয়াসমিন মোর্শেদ, ড. শোয়েব আহমদ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী ও অধ্যাপক মাঈনুদ্দীন খান।
 তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ৭৩ দিনের মাথায় সেই সরকার পদত্যাগ করে। ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্বাবধায়ক সরকার নানান ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে দুই বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি পদত্যাগ করে। ক্ষমতায় আসে ২০০৮ এর ৩০ ডিসেম্বর সাধারন নির্বাচনে জয়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে