Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ , ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১১-২০১২

রাজধানীর গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা পাঁচ হাজার ৮৬৭টি , মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ৬১৮

ইমরুল কায়সার ইমন


রাজধানীর গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা পাঁচ হাজার ৮৬৭টি , মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ৬১৮
বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছে রাজধানীর বাস চালকরা। কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যার্থ হচ্ছে। ফলে ঘটেই চলছে সড়ক দুর্ঘটনা। বৃদ্ধি পাচ্ছে নিহতের হার। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত দশ বছরে রাজধানীতে পাঁচ হাজার ৮৬৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ৬১৮ এবং আহত হয়েছে তিন হাজার ৬৫১ জন। ২০০১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের জুন পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ৬২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭১ জন নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৭২ এবং আহত হয়েছে ৭৮ জন। গত ১০ বছরের মধ্যে ২০০৮ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি ছিল। ৭৯৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মারা গেছে ৩১৯ জন। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ২০০৯ সালে। ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৩২৪ জন। ২০০৬ সালে সবচেয়ে কম ২৩০টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। তবে বিষেজ্ঞরা মনে করছে বেপরওয়া হয়ে গাড়ি চালানো এই সব দুর্ঘটনার মূল কারণ। এছাড়াও গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলা, বেশি যত্রী উঠানোর জন্য মাত্রাতিরিক্ত বেগে গাড়ি চালানো, বেশি ট্রিপ মারার প্রতিযোগিতাও সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখ যোগ্য কারণ বলে বিশেজ্ঞরা ধারণা করছেন। তবে চালকের কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দুর্ঘটনার সংখ্যা ১০০টি। এর মধ্যে নিহত ৬১ এবং আহত ৩৯ জন। দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবছর ৫৬ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডাটা বিশেষজ্ঞরা রাস্তার জ্যামিতিক ত্রুটি, নেশাগ্রস্ত হয়ে গাড়ি চালানো, পথচারী ও যাত্রীদের অসাবধানতাসহ ১৭টি কারণ চিহ্নিত করা হয়।

গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর প্রধান প্রধান কয়েকটি সড়কে সরেজমিন দেখা যায় চালকদের বেপরওয়া গাড়ি চালানোর সত্যিকারে দৃশ্য। পল্ট মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল ছেড়ে দেয়ার পর বেশ কয়েকটি লোকাল বাস চালকরা বেপরওয়া ভাবে এগিয়ে যাবার প্রতিযোগিতায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। বন্ধু পরিবহনের একটি মিনি বাস মতিঝিল ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি (৬ নং) বাসের সাথে গা ঘেষে চলছিল। বন্ধু পরিবহনের ছোট জানালা কাঁচ ভেঙ্গে যায়। তবুও সামনে এগিয়ে যেতেই হবে। মিনি বাসটির একজন যাতি জানায়, আমাদের কিছুই করার নেই। কারণ গাড়িতো ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের উপরই আমাদের বাঁচা মরা নির্ভর করে। চালক শফিকুল জানায়, সে তার সাইডেই ছিল। অন্য বাসটি যে চালক চালায় যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য তাকে যথেষ্ট সজাগ থাকা উচিত। তাহলে দুর্ঘটনা কমবে। তবে রাস্তায় দায়িত্বরত ট্রাফিক জানালেন ভিন্ন কথা, এধরনের ছোট ছোট ঘটনা তো ঘটবেই। রানিং গাড়িরর মধ্যে ঢুকে এই গাড়ি গুলোকে ধরা অনেক কঠিন। আর ধরলেও একটি গাড়ির কারণে গুরো রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হবে।

রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার পরিখ্যানে দেখা যায়, ২০০১ সালে ৫৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৩৪ এবং আহত ২৯১ জন। ২০০২ সালে ৭১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৬৯ এবং আহত ৪২২ জন। ২০০৩ সালে ৭৬১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩২৩ এবং আহত ৪১৬ জন। ২০০৪ সালে ৬০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫০ এবং আহত ৩৫০ জন। ২০০৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৮ এবং আহত ৪০৭ জন। ২০০৬ সালে ২৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১৯ এবং আহত ৪১৭ জন। ২০০৭ সালে ৭৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৩০ এবং আহত ৪৯১ জন। ২০০৮ সালে ৭৯৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩১৯ এবং আহত ৫০৭ জন। ২০০৯ সালে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩২৪ এবং আহত হয়েছে ২৭২ জন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, রাজধানী ঢাকায় দুর্ঘটনার স্পট ৫১টি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিজয় সরণি, শনিরআখড়া, ফার্মগেট, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, সোনারগাঁও, সায়েদাবাদ, শেরাটন, জিপিও মোড়, জসীমউদ্দীন রোড ক্রসিং, মালিবাগ, মৌচাক, বাংলামোটর, কাকরাইল, শান্তিনগর, বাসাবোসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট। এ ছাড়া ঢাকার ২০০ ইন্টারসেকশনের মধ্যে ৯ ভাগ ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকিপূর্ণ অংশেই রাজধানীর শতকরা ৫২ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম ১০টি দেশের একটি। তাই আগামী ১০ বছরের মধ্যে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে না পারলে সড়ক দুর্ঘটনা হবে দ্বিগুণ যা কোন মতেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। তাই প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে