Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৬ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০২-০৬-২০১৪

শিশুটি ফিরে পেল পরিবার

শিশুটি ফিরে পেল পরিবার

হবিগঞ্জ, ০৬ ফেব্রুয়ারী- হারিয়ে যাওয়া বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটি আদালতে পা ফেলেই ছোট বোন খাদিজাকে (৬) জড়িয়ে ধরে। এরপর মা-বাবাকে একই কায়দায় জড়িয়ে ধরে সে। বুধবার এ দৃশ্য দেখা যায় হবিগঞ্জ আমলি আদালত-২-এ। সাত মাস পর এদিন হারিয়ে যাওয়া শিশুটি ফিরে যায় মা-বাবার কাছে। জানা যায় তার পরিচয়। সে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সংহাই গ্রামের মানিক মিয়ার প্রথম সন্তান মো. আল মামুন রিফাত (১১)।

‘শিশুটি শুধু আদালতে যায়-আসে’ শিরোনামে গত ২৮ জানুয়ারি প্রথম আলোয় বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই সন্তানের খোঁজে নামে শিশুটির পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রিফাত জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী। গত বছরের ২৯ জুন সকালে শাহরাস্তি শহরের হাসপাতাল এলাকার খালার বাসায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তার আর খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনার তিন দিন পর রিফাতের চাচা পুলিশ কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন শাহরাস্তি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর কেটে যায় সাত মাস। কিন্তু রিফাতের খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার।

গত ২৯ অক্টোবর রাত সাড়ে নয়টার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বাজারের লোকজন রিফাতকে কান্না করতে দেখে। কথা বলতে না পারায় তার কাছ থেকে কোনো তথ্য না পেয়ে থানায় পৌঁছে দেওয়া হয়। পুলিশও চেষ্টা করে পরিচয় বের করতে পারেনি। পরে নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য গত ১ নভেম্বর হবিগঞ্জ আমলি আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালতের বিচারক মো. কামাল হোসাইন শিশুটিকে শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। ১০ দিন পর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। পরে আদালত শিশুটিকে সিলেট নিরাপদ আবাস কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেন।

পাঁচ মাস ধরে শিশুটি সেখানেই ছিল। এ বিষয়ে গত ২৮ জানুয়ারি ‘শিশুটি শুধু আদালতে যায়-আসে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে রিফাতের চাচা পুলিশ কনস্টেবল বিল্লাল হোসেনের। তিনি প্রকাশিত ছবি দেখেই তাঁর ভাতিজাকে চিনে ফেলেন। পরে তিনি তাঁর কর্মস্থল বরিশাল থেকে বাড়িতে ফোন করে বিস্তারিত জানান। পরদিন শিশুটির বাবা মানিক মিয়া হবিগঞ্জে আসেন এবং একজন আইনজীবীর মাধ্যমে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন।

আদালত আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য শাহরাস্তি থানার পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ এক সপ্তাহ তদন্ত করে গতকাল বুধবার আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। তাতে পুলিশ শিশুটির পরিচয় ও নিখোঁজ হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে। গতকাল শিশুটিকে সিলেট শিশু আশ্রয়কেন্দ্র থেকে হবিগঞ্জ আমলি আদালত-২-এ হাজির করা হয়। পাশাপাশি শিশুর মা-বাবা তাঁদের মেয়ে খাদিজা (৬) ও সাদিয়াকে (১০ মাস) নিয়ে আদালতে আসেন। আদালতে তাদের দেখেই চিনে ফেলে বাকপ্রতিবন্ধী রিফাত। পরে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত শিশুটিকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মা-বাবাকে ফিরে পেয়ে রিফাত খুশিতে আত্মহারা হয়ে ওঠে। নানা খুনসুটিতে মেতে ওঠে। ইশারায় বাবার সঙ্গে কিছুক্ষণ বলে। আদালতে আসা-যাওয়ার সুবাদে পরিচয় হয়ে ওঠা কোর্ট ইন্সপেক্টর জীবন কৃষ্ণ দেসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আদালত প্রাঙ্গণেই জড়িয়ে ধরে রিফাত।

মানিক মিয়া জানান, গ্রামের পাশে তাঁর একটি ছোট চায়ের দোকান আছে। তা দিয়েই তাঁর পরিবার চলত। ছেলেটি যখন হারিয়ে যায়, অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন। এমনকি ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার জন্য পোস্টার ছাপার টাকাও ছিল না তাঁর। পরে এক আত্মীয় পোস্টার ছেপে দিলে তা শহরের বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো হয়।

হবিগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে