Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৭ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (64 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৪-২০১৪

১শ’ টাকায় স্কুলছাত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও

১শ’ টাকায় স্কুলছাত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও

নরসিংদী, ০৪ ফেব্রুয়ারী- স্কুলছাত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র এখন বাজারে। মাত্র একশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অশ্লীল ভিডিওচিত্রটি। এর ক্রেতা উঠতি বয়সের তরুণরা। তরুণরা ভিডিওচিত্রটি দেখে আবার ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েব পোর্টালে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বখাটে প্রেমিকের ধারণ করা অশ্লীল ভিডিওটি গ্রামের এক স্টুডিও ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করে। পরে আস্তে আস্তে ভিডিও গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে লোকলজ্জার ভয়ে স্কুলছাত্রীর পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে।

ওই ছাত্রীটি নরসিংদীর মনোহরদীর খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করলে শনিবার রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

আটককৃতরা হলো ছাত্রীর কথিত প্রেমিক রোমান মিয়া (১৫), খিদিরপুর বাজারের এসআর ডিজিটাল স্টুডিও’র মালিক সোহাগ মিয়া (১৬) ও অপারেটর সুজন মিয়া (১৫)। তারা অশ্লীল ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

পুলিশ সূত্রে গেছে, খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রীর সঙ্গে মনোহরদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রোমান মিয়ার প্রেম বিনিময় হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠলে দৃশ্যটি ধারণ করে।

রোমান মিয়া স্থানীয় চর আহাম্মদপুর গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে। স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিওচিত্র হাটবাজারসহ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের হাতে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নজরে এলে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।

এরপর চেয়ারম্যান বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। পরে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ শনিবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে অশ্লীল ভিডিওচিত্রটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বখাটে রোমান মিয়া ছাত্রীটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গোপনে সম্পর্কের চিত্রটি ভিডিও ধারণ করে। তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে স্টুডিও ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তা এলাকার উঠতি বয়সের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

খিদিরপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার দাশ বলেন, এ ঘটনায় এলাকায় নানা রকম কথা ছড়াচ্ছে। বিষয়টি যেহেতু অন্যরকম তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

এদিকে আটক প্রেমিক রোমান মিয়া দাবি, ‘দুই বছর ধরে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। সে যেন আমাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে না যায় সেই কারণেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে বন্ধু সুজনের কম্পিউটারে রেখেছিলাম। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক বন্ধু ভিডিও ক্লিপটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে।

মনোহরদীর রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে স্টুডিও মালিক সোহাগ মিয়া ও অপারেটর সুজন ভিডিওচিত্রটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়াসহ তরুণদের কাছে বিক্রির কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

স্কুলছাত্রীর মা গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

নরসিংদী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে