Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১০-২০১২

সরকারকে আর ঋণ নিতে মানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সরকারকে আর ঋণ নিতে মানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ আরও বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অত্যধিক ঋণ দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিতে পারে- এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে দশা হতে পারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর মতো।

সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৪৩তম সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ব্যাংক বলেছে, “ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের আকস্মিক অত্যুচ্চ প্রবৃদ্ধি বেসরকারি খাতে ঋণ যোগানের পর্যাপ্ততা এখনো তেমন বিঘিœত করেনি। কিন্তু সরকারের ঋণ আরও বৃদ্ধি পেলে এই বিঘেœর ঝুঁকি বাড়াবে।”
গভর্নর আতিউর রহমান বৈঠকে উপস্থিত থেকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “সরকারি বিল/বন্ডের প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকগুলো (যারা বিল/বন্ড নিলামে অংশ গ্রহণ ও ক্রয়ে বাধ্য) অত্যাধিক মাত্রায় সরকারি বন্ড স্থিতিভারে ভারগ্রস্ত ও তারল্য ঝুঁকিগ্রস্ত দাঁড়িয়েছে ইতিমধ্যেই। কারণ সরকারি বিল/বন্ডের সক্রিয় সেকেন্ডারি মার্কেট এখনো সৃষ্টি হয়নি।”
সরকারের বৈদেশিক ঋণ/অনুদান সংগ্রহের স্বাভাবিক ধারা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতকে উচ্চমাত্রায় সরকারি ঋণভারগ্রস্ত করার বিকল্পও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরূপণ ও অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয় প্রতিবেদনে।

বড় অঙ্কের ধার দিয়েই চলতি অর্থবছর শুরু করেছিল সরকার। দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে নতুন অর্থবছরের মাত্র ১০০ দিনে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত (ছয় মাস পাঁচ দিনে) সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১৮ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
অবশ্য পরে কিছু ঋণ শোধ করার কারণে ১৫ নভেম্বর এ ঋণ ১৬ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।
গত ২১ ডিসেম্বর ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ২১৬ কোটি টাকা।
৫ জানুয়ারি তা বেড়ে ১৮ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে বাজেটে সরকার গোটা অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১৮ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার ঋণ নেবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে।
এর আগে গত অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের নিট ঋণ সব পরিকল্পনা ছাপিয়ে যায়। সে সময় ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ করে ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা ওই অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার কোটি টাকা বেশি ছিল।
‘মূলস্ফীতি নিম্নমুখি হবে’
আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিুমুখি হবে- এ প্রত্যাশার প্রকাশ করে করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া নানা পদক্ষেপ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্থরতার সূত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল/নিম্মমুখি পণ্যমূল্যের প্রভাব সামনের মাসগুলোয় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও আসবে।”

এ প্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরের সামনের মাসগুলোয় বাংলাদেশের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ক্রমশ স্থিতিশীল হয়ে শেষ ত্রৈমাসিক থেকে নিম্মগামী হতে পারে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে এ ক্ষেত্রে দেশের ভেতরের বা বাইরে নতুন কোনো ‘বড়ো প্রতিকূলতার’ বাধা হতে পারে বলে মনে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংসখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
গত দশ মাস ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অংকের ঘরে অবস্থান করছে।

গত নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অক্টোবরে ছিল ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
খাদ্যপণ্যের দাম কমায় ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমেছে বলে জানায় বিবিএস।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে