Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৯-২০১২

টরন্টোতে একটি ব্যতিক্রমী বর্ষবরন অনুষ্ঠান

শওগাত আলী সাগর


টরন্টোতে একটি ব্যতিক্রমী বর্ষবরন অনুষ্ঠান
টেবিলের উপর রাখা ডিজিটাল ডিভাইসটা  কাউন্ট ডাউন করে সময়ের জানান দিয়ে যাচ্ছিলো। কাংখিত মুহূর্তটার জন্য যেন প্রস্তুত হয়েই ছিলেন অভিনেতা  ম্যক আজাদ। ঘড়ির কাটা বারোটার ঘর পেরুতে না পেরুতেই তাঁর হাতের ছোঁয়ায় একে একে সশব্দে বিষ্ফোরিত হতে থাকে বেলুনগুলো। আর সমবেত মানুষগুলো সমস্বরে সুর ধরেন, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার, হ্যাপি নিউ ইয়ার টু ইউ’। পরষ্পরকে জড়িয়ে ধরে, হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছার সাগরে ভাসিয়ে দিতে দিতে বরন করে নেওয়া নতুন বছরকে, ২০১২ সালকে।
হ্যাঁ, ইংরেজী নতুন বছরকে বরন করে নিতে সমবেত হয়েছিলো টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান মানুষগুলো। না, কোনো বানিজ্যিক অডিটরিয়াম নয়, আরেক জনপ্রিয় শিল্পী ফারহানা শান্তা আর আলোকচিত্রী মনির হোসেনের এজাক্সের বাসভবনের বিস্তৃত বেসমেন্টটাই যেন হয়ে উঠে জমকালো মঞ্চ।
শহরের নানা প্রান্তে বসবাসকরা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের চেনামুখগুলো আগেই হাজির হয়েছিলো অনুষ্ঠানস্থলে। তারকাখ্যাতি পাওয়া সব শিল্পীরা  এক অনুষ্ঠানে সমবেত হওয়ায় অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠে ‘তারার মেলা’।  বিশিষ্ঠ লেখক, সংগঠক তাসরীনা শিখার  জানিয়ে দিয়েছিলেন, নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর এই আনন্দ আয়োজনে যা কিছু আনন্দ দেয় তাই পরিবেশন করতে পারবেন যে কেউ। তাসরীনা শিখার কাছ থেকে মাইক নিয়ে মঞ্চে আসেন কাজী আলম লিটন ।নিজের বাছাই করা গানটি গেয়েই  ক্ষ্যান্ত দেননি লিটন। নাট্যকার, কথা সাহিত্যিক আকতার হোসেনের লেখা একটি গান গাইতেও ছাড়েন না তিনি। মাহাজাবীন নূরকে আরো একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হবে বলে তিনি কিছু একটা করেই চলে যেতে চাইছিলেন। গানের শিল্পী কেবল কৌতূক দিয়ে মন ভুলিয়ে দেবেন তা কি হয়। শ্রোতাদের অনুরোধে গানও ধরতে হয় তাকে। বাড়তি পাওনা অবশ্যই কৌতুক।
তবে শুরুতেই সবাইকে চমকে দিয়েছেন আলোকচিত্রশিল্পী মনির হোসেন। যে কোনো অনুষ্ঠানেই ক্যামেরা হাতে ব্যস্ত সমস্ত হয়ে  ছুটাছুটি করা এই মানুষটা বর্ষবরনের আনন্দ অবগাহনের শুরতেই মেলে ধরেন ছবির অসাধারন এক কারুকাজ। ফেসবুক থেকে নানাজনের নানাঢঙ এর ছবি নিয়ে সাজিয়ে তৈরি করেন এক প্রামান্যচিত্র। নতুন বছরকে বরন করতে বসে অকস্মাত পর্দায় নিজেদের স্মৃতিজাগানিয়া সব ছবি দেখে সবারই বিস্মিত হবার যোগাড়।
    ঠিক ছক বাধা কোনো অনুষ্ঠান নয়, আবারো এলোমেলো পরিবেশনাও নয়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক তাসরীনা শিখা মঞ্চটিকে উন্মুক্ত করে দিলে শিল্পীরাই যেন একধরনের শৃংখলায় বেধে ফেলেন আয়োজনটাকে। ফলে কখনো গান, কখনো আবৃত্তি, কখনো হাস্য কৌতূক চলতে থাকে অবিরাম। জীবিনা সঞ্চীতা হক, পারভীন হোসেন, রেহানা রহমান, ফারহানা শান্তা, মায়া মিনহাজ গেয়ে যান একের পর এক । জীবিনা সঞ্চীতা হক, পারভীন হোসেন, রেহানা রহমান, ফারহানা শান্তা-  তারকা শিল্পী। এদের কণ্ঠে একটি দুটি গান কেবল তৃষ্ণাকেই বাড়িয়ে দেয়। দিপ্তী জাহান গান গাইলে তার সঙ্গে পুরো আসরকেই গাইতে হয়, নাচতেও হয়। এই আসরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যারা ভেবেছিলেন, নিশ্চুপ শ্রোতা হয়ে থাকার, তার্দেও অন্তত মাথা নাড়তে হয়েছে দিপ্তীর গানের সাথে। তাসরীনা শিখা কোনো অনুষ্ঠানে বাংলা গানের বাইরে অন্য কিছুই দেখতে চান না, কিন্তু বর্ষবরনের আনন্দ আবাহনের এই ক্ষণে তিনিও ছাড় দিয়ে দেন, ফলে একে একে বাংলা- হিন্দি গানে আসর মাত করতে থাকেন দিপ্তী। অভিবাসী হয়ে টরন্টোয় নতুন আসা শিল্পী দম্পতি ফারাহানা আহমেদ ও সেতু  আব্দুল লতিফের গান্ও প্রশংসা কুড়ায় শ্রোতাদের। কৌতূকে হাস্যরস সৃষ্টিতে সচেষ্ট থাকা গোলাম মহিউদ্দিনও শেষমেষ সুর তুলে নেন কণ্ঠে।শিল্পীদের সঙ্গে তবলায় সহযোগিতা করে যান  কলবে আব্বাস ও রনি পালমার ।

সুমী রহমানের পরিচিতিই আবৃত্তিকার হিসেবে। তাঁর কণ্ঠে কবিতার শব্দমালাও যেন ভিন্ন ব্যঞ্জনা পায়। আর রাশেদা বিলকীস বানু ! আকতার হোসেনের ‘আলতা বানু’ তার কণ্ঠের ছোঁয়ায় যেন রক্তমাংসের জীবন্ত এক আলতা বানু হয়ে উঠে। হৃদয়ের গহীন ভেতর থেকে উঠে আসা আবেগের ছোঁয়ায় তার প্রতিটি উচ্চারনই যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় শ্রোতাদের অন্তর। তাসরীনা শিখা হাজির হন নিজের লেখা একটি চিঠি নিয়ে। ডিসেম্বর তথা বিজয়ের মাসকে উপজীব্য করে পুরনো বন্ধুকে লেখা আবেগঘন এই চিঠিটি তাসরীনা শিখার কণ্ঠ্ওে যেন আরো বাঙময় হয়ে উঠে। মাহমুদ হাসান (বাবু)‘র আবৃত্তিও শ্রোতাদের প্রশংসা পায়। আর আকতার হোসেন নিজের লেখা থেকে পাঠ করে সবাইকে মুগ্ধ করে দেন।পুরো অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রাণ ছিলো অভিনেতা ম্যাক আজাদের কৌতূক। টরন্টোর মঞ্চে অভিনয় করে খ্যাতি প্ওায়া ম্যাক এর নানা ঢঙ এর কৌতূক নির্মল আনন্দে ভরিয়ে দেয় সবাইকে।আকবর হোসেনও কৌতূক পরিবেশন করে শ্রোতাদের ব্যাপক আনন্দ দেন।  বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,কলামিষ্ট মোজাম্মেল এইচ খান, সাংবাদিক শ্ওগাত আলী সাগর নিজেদের পেশাগত জীবনের হাস্যরসাত্মক স্মৃতি তুলে ধরেন দর্শক শ্রোতাদের সামনে।
কেবলি গতানুগতিক গানবাজনার মধ্যেই সীমিত থাকেনি অনুষ্ঠানটি । জুটিদের মধ্যে ম্যাচ করে সাজসজ্জা করে আসা দম্পতিদের পুরষ্কৃত করার বাইর্ওে ছিলো কপালে টিপ পড়ানোর প্রতিযোগিতা। দ্ওেয়ালে এক রমনীর একটি ছবি টানিয়ে চোখ বেধে ছেড়ে দ্ওেয়া হয় প্রতিযোগিদের। যিনি ’ব্যাকারনসিদ্ধ’ভাবে ছবির কপালে টিপ পড়াতে পারবেন তিনিই হবেন বিজয়ী। কেউ মাথায়, কেউ নাকে, কেউ কানে টিপ পরালেও একেবারে যুতসই করে টিপ পড়িয়ে দিয়ে বিজয়ী হন কথা সাহিত্যিক আকতার হোসেন। তার সঙ্গে কৃতিত্বের ভাগিদার হয়ে যান কবি নুরে আলম আল আজাদও ।
গানে আর আনন্দে সিক্ত হতে হতে  ক্যালেন্ডারের শেষ পাতাটা উল্টে যায়। ঘড়ির কাটা ডান দিকে হেলে পড়্ওে আবার সরলরেখায় এসে মিলিত হবার যোগাড় হয়। কিন্তু বর্ষঅবগাহনের রেশ যেন কিছুতেই শেষ হতে চায় না। তবু, সবকিছুরই একটা শেষ থাকে, এই আয়োজনেরও রাশ টেনে ধরতে হয়। আর এইভাবেই  বর্ষবরনে টরন্টোর ব্যতিক্রমী, তারকাসমৃদ্ধ অনুষ্ঠানর্টিও যবনিকা টানতে হয়।


কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে