Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২২-২০১৪

আংশিক দাবি মিটলেও চাপের মুখে ধরনা তুললেন কেজরি

আংশিক দাবি মিটলেও চাপের মুখে ধরনা তুললেন কেজরি

নয়াদিল্লি, ২২ জানুয়ারি- দু'দিনেই ধরনা-আন্দোলনের মেয়াদ শেষ৷

দাবি পুরোপুরি মেটার আগেই ধরনা তুলে নিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ আজ রাত সাড়ে আটটা নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলন করে ধরনা তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন দিল্লির মুখমন্ত্রী৷ উপ রাজ্যপাল নাজীব জং তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পরই ধরনা তোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন কেজরি৷ একে আপে জয় বলেও দাবি কেজরিওয়ালের৷ যদিও, আপের এই ধরনার তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস৷ ধরনাকে অসাংবিধানিক মন্তব্য করেছে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব৷

আজ সাংবাদিক সম্মেলনের পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমাদের আংশিক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে৷ উপ রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলেই সিান্ত৷ সাধারণতন্ত্রে অনুষ্ঠান নষ্ট না হয়, তার অনুরোধ করেছিলেন উপরাজ্যপাল৷ তার পরই আমরা এই সিান্ত নিয়েছি৷ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের ছুটি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ উপ রাজ্যপাল তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন৷" কেজরিওয়ালের দাবি ছিল, অভিযুক্ত পুলিশদের সাসপেন্ড করতে হবে৷ নিজেদের দাবি আংশিক মানা হয়েছে স্বীকার করেও কেজরিওয়ালের দাবি, "এটা আপের জয়৷ সাধারণের জয়৷ দিল্লি পুলিশকে রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হল আজ৷"

এ-দিকে, কেজরিওয়ালের ধরনা থেকে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ খুঁজে পাচেছ রাজনৈতিক মহল৷ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন কেজরি৷ বাধ্য হয়ে জনতার দরবার বন্ধ করে দিয়েছেন৷ বেফাঁস মন্তব্য করে দলকে বিব্রত করেছেন আপের একাধিক শীর্ষ নেতা৷ এমনকী, গাড়ি-বাড়ি বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েছেন কেজরি৷ বিরোধী হয়ে দাবি-আন্দোলন আর সরকার চালানো এক নয়, বুঝতে পেরেছেন কেজরিওয়াল৷ আর তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চাইছেন৷ তথ্যাভিজ্ঞমহলের মতে, ১৪চ্ছ্র ধারা উপেক্ষা করে ধরনা বা তার কারণে যদি সাধারণতন্ত্রের অনুষ্ঠান ভেস্তে গেলে সাংবিধানিক বিধিভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হতেন কেজরি৷ এই অভিযোগে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদও ছাড়তে হতে পারত৷ আর তা-হলেই এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে৷ দায়িত্ব থেকেও রেহাই পেতেন৷ কেউ আঙুলও তুলতে পারতেন না৷ কিন্ত্ত, উপ রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনার পরই কেজরি বুঝে গিয়েছেন তাঁর ধরনার ফলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচেছ জনসাধারণের মধ্যে৷ তাই বাধ্য হয়েই পিছু হটতে বাধ্য হলেন কেজরি৷ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগ্বিজয় সিং টুইটে লিখেছেন, "প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা যেত৷ সংসদে বিল আনা যেত৷ তা না করে প্রোটোকল ভেঙে মুখমন্ত্রী নিজেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন৷ এটা প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়৷" কংগ্রেসের মুখপাত্র অজয় মাকেনের কটাক্ষ, "কেজরিওয়াল পালাতে চাইছেন৷ কংগ্রেস সমর্থন তুলে কেজরিকে ‘শহীদ' হতে দেবে না৷"

ধরনায় ফলে আজ সকাল থেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল গোটা দিল্লি৷ চারটি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ নাভিশ্বাস ওঠে সাধারণের৷ দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সঙঘর্ষ বাধে আপ সমর্থকদের৷ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে আপের সমর্থকরা৷ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে তারা৷ আইনমন্ত্রী সোমনাথ ভারতী এবং মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল যে ভাবে রাস্তা বন্ধ করে ধরনা-আন্দোলন করছেন, তার বিরু‌ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে৷ শুক্রবার এই মামলার শুনানি৷ পরিস্হিতি খোঁজ নিতে আজ প্রধানমন্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে ছিলেন রাষ্ট্রপতি৷ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় তাঁদের মধ্যে৷

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে