Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২০-২০১৪

সুজয় ঘোষের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’?  

অনির্বাণ চৌধুরী


সুজয় ঘোষের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’?

 

কলকাতা, ২০ জানুয়ারি- কহানি’-র সিক্যুয়েলের কাজ সেরেই কি পরিচালক সুজয় ঘোষ ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবির রিমেকে হাত দেবেন? তেমন খবরই অন্তত ভেসে বেড়াচ্ছে টলিপাড়ার আনাচে-কানাচে।

অবশ্য সত্যাণ্বেষী পরিচালক কোনও গুজবে বিশ্বাসী নন! তাছাড়া, যে ছবির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সত্যজিৎ রায়ের মতো কিংবদন্তি পরিচালকের নাম, সেখানে অপপ্রচারের ঝুঁকি কেউ কেন-ই বা নেবেন? কিন্তু গুজবের হাওয়া আঁধির চেহারা নিচ্ছে দেখে ব্যাপারটা নিজেই খোলসা করে দিলেন পরিচালক। জানিয়ে দিলেন, কহানি-র সিক্যুয়েলের পর আর যে ছবিই বানান না কেন, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র ধার-কাছ দিয়েও যাবেন না।

পরিচালকের স্পষ্ট বিবৃতির পরেও খটকা একটা থেকেই যায়। হঠাৎ এরকম একটা খবর কেন ভেসে এল হাওয়ায় হাওয়ায়? আসলে সুজয়ের পরের ছবির থিম হতে চলেছে ব্রোম্যান্স বা ব্রাদারলি রোম্যান্স। সেই ছবিতে চার বন্ধুর ঘনিষ্ঠতা, দুনিয়া থেকে আলাদা হয়ে একসঙ্গে বাঁধনছেঁড়া হুল্লোড়- সবই থাকবে। যেমনটা ছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ উপন্যাসে আর রায়ের ছবিতেও। শুধু এই মিলটুকুর জন্যই কি এই গুজবের জন্ম?আদতে তা নয়। সুজয় নিজেই স্বীকার করেছেন যে কিংবদন্তি ছবিটির একটা রিমেক বানানোর ইচ্ছা তাঁর ছিল! এমনকী, ঠিক কীভাবে এগোবে তাঁর ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনাও শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। আর সেখান থেকেই এই খবরের জন্ম। তা, ঠিক যখন করেই ফেলেছিলেন পরিচালক, তখন পরিকল্পনা খারিজ করে পিছিয়ে এলেন কেন?

আসলে ছবিটাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে সুজয় বুঝতে পারেন, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-কে কোনওভাবেই রিমেক করা সম্ভব নয়। ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ তো শুধু চার বন্ধুর গল্প নয়, তা একইসঙ্গে সত্তরের সময়ের আয়নাও। সেই সত্তরের দশকই সত্যি বলতে কী ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র কেন্দ্রীয় চরিত্র। সেই সময়ের ওপর ভর করেই তৈরি হয়েছিল চার বন্ধুর চরিত্র, এমনকী তাদের নিরুদ্দেশের জঙ্গল-সফর! এই সময়ের চরিত্ররা তো বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের জঙ্গলে যেতে পারবে না। গেলেও, স্বাধীনভাবে সেই বনভূমিতে স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ পাবে না। সেই সূত্রে সম্ভব হবে না সাঁওতাল-রমণীর সঙ্গে প্রণয়ও। কিন্তু সময়টাকে এক রাখলে তো আর কোনও অসুবিধা থাকার কথা নয়। সত্তরের দশক যে কোনও বাঙালি পরিচালকের কাছে এক লোভনীয় বিষয় হওয়ারই কথা। তাহলে কেন পিছিয়ে এলেন সুজয়? কারণ এই সময় আর এই প্রজন্ম! এই প্রজন্ম কিছুতেই বুঝে উঠতে পারবে না সেই সময়ের মানুষদের। তাদের রকম-সকম, মূল্যবোধ- সবই তাদের কাছে হাসির খোরাক হবে; হয়তো বা বিরক্তিরও! এটা বুঝতে পেরেই ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র রিমেকের ব্যাপারটা মাথা থেকে মুছে ফেললেন সুজয়।

তাছাড়া, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসের পাতা থেকে রায়ের সেলুলয়েডে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পড়েছিল বিতর্কের মুখে। খোদ লেখক নানা সময়ে জানিয়েছিলেন যে, কিংবদন্তি পরিচালকের ছবিটা তাঁর একটুও ভাল লাগেনি! সুনীল যেভাবে লিখেছিলেন উপন্যাস, সত্যজিৎ সেই ফ্লেভারটা তাঁর ছবিতে রাখতে পারেননি। তিনি নিজের মতো করে গড়ে-পিটে নিয়েছিলেন বলেই হারিয়ে গিয়েছে অরণ্যের দিনরাত্রির উদ্দামতা, এমনটাই অকপটে জানিয়েছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তার পরে, আরেক কিংবদন্তি পরিচালক গৌতম ঘোষ বিখ্যাত ছবিটির সিক্যুয়েল করেন ‘আবার অরণ্যে’ নামে; কিন্তু ছবিটি মোটেও জনপ্রিয় হয়নি! এসব নানান দিক ভেবেই হয়তো এবার সুজয় আর হাত দিলেন না রিমেকে।

তারই সঙ্গে আরেকটা কারণও দর্শালেন পরিচালক। ‘সময়টা যদি একই রাখি, তাহলে তার জন্য সত্যজিৎ রায়ের ছবিটাই তো রয়েছে! অত ভাল একটা ছবি থাকতে একই জিনিস নিয়ে আরেকটা পিরিয়ড-ড্রামা করার কোনও মানে হয় না’, স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিলেন সুজয় কারণটা! তা বলে, ব্রোম্যান্স ছবি করার ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই মাথা থেকে মুছে ফেলেননি তিনি। পরিচালক অরিন্দম শীলের জন্য ব্রোম্যান্স নিয়ে একটি চিত্রনাট্য তৈরি করে ফেলেছেন সুজয়। এই চিত্রনাট্য লেখার কাজে তাঁকে সাহায্য করেছেন পার্থ দাশগুপ্ত।‘আমার আর পার্থর প্রায় একটানা বছরখানেক লেগেছে এই চিত্রনাট্যটা বানাতে! প্লটটাও সবার পছন্দ হবে বলেই আমার বিশ্বাস। একদল বন্ধু আর তাদের সমসাময়িক নানান ঘটনা নিয়ে চিত্রনাট্যটা লিখেছি আমরা। ছবিটা বাংলাতেই হবে, তবে জানিয়ে রাখি, এটার সঙ্গে অরণ্যের দিনরাত্রির কোথাও এতটুকুও সম্পর্ক নেই’, হাসতে হাসতে জানালেন সুজয়।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে