Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৮-২০১২

বিএনপির রোডমার্চ: ব্যয় ১০ কোটি টাকা: প্যাকেজ কর্মসূচী

বিএনপির রোডমার্চ: ব্যয় ১০ কোটি টাকা: প্যাকেজ কর্মসূচী
ঢাকা/চট্টগ্রাম, জানুয়ারি ০৭- দলের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঠিক করে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোড মার্চ শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
রোববার সকালে রোড মার্চ শুরুর ১৪ ঘণ্টা আগে শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সসদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা। বৈঠকে কর্মসূচি ঠিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
রোড মার্চ করে চট্টগ্রাম যাওয়ার পর সোমবার বন্দর নগরীর পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় খালেদার নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথা রয়েছে।
কর্মসূচি কী ঠিক হয়েছে- জানতে চাওয়া হলে বিএনপি নেতারা না বললেও রাজশাহী অঞ্চলের রোড মার্চে খালেদা ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, “প্যাকেজ কর্মসূচি ঠিক হয়েছে।”
“চেয়ারপারসন চট্টগ্রামের মহাসমাবেশেই কর্মসূচি ঘোষণা করবেন,” বলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও আলোচনায় বসে খালেদা জিয়া। আগের মতো চট্টগ্রাম রোড মার্চেও এই দলগুলোর নেতারা অংশ নেবেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা অভিমুখে রোড মার্চের পর চট্টগ্রাম রোড মার্চ করছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলোপের পর থেকে বিএনপির অর্ন্তর্বতীকালীন এই ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
শনিবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন কী? খাল কেটে কুমির আনার দরকারটা কী?”
“তত্ত্বাবধায়ক এলেই যে বিএনপিকে চ্যাং দোলা করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে তা নয়, বরং আবারো জেলের ভাত খেতে হতে পারে,” খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন হাসিনা।
রোববার সকাল ১০টায় নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ৪ হাজার গাড়ির বহর নিয়ে রওনা হবেন তিনি। পথে আরো ২ হাজার গাড়ি যোগ হবে বলে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান।
চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে রোববার কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠ, চান্দিনার মানিকচরের নুর মসজিদ মাঠ এবং কুমিল্লা শহরের পাশে পদুয়ার বাজারে মোট তিনটি পথসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরদিন চট্টগ্রাম পৌঁছার আগে বিকালে ফেনী পাইলট হাইস্কুল মাঠে জনসভা করবেন তিনি।
খালেদার রোড মার্চের দুই দিনের কর্মসূচি ইন্টারনেটে সরাসরি প্রচার হবে www.bnplive.com এই ঠিকানায় তা দেখা যাবে।
রিজভী বলেন, “এ যাবতকালে সর্ববৃহৎ রোড মার্চ হবে এটি। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে ব্যাপক মানুষের সমাবেশ ঘটবে বলে আমরা আশা করছি। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে জনমত গড়ে উঠবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় রোড মার্চের প্রচার চালাতে গিয়ে বাধা পেয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
রোড মার্চ ও পলোগ্রাউন্ডের জনসভা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম বিএনপিও। তারা আশা করছেন, জনসভায় ২০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “রোডমার্চ একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার এ সুষ্ঠু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না।”
জনগণকে সম্পৃক্ত করে শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে চট্টগ্রামবাসী ব্যাপক সাড়া দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন চট্টগ্রামের জনসভা থেকে আগামী দিনের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন। এ রোড মার্চের সাফল্য নিয়ে জনগণ ও বিএনপি নেতবৃন্দের কোনো সন্দেহ নেই।”

ব্যয় হচ্ছে ১০ কোটি টাকা
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে বিএনপির রোডমার্চে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। গাড়িভাড়া, সমাবেশে আগতদের আসা-যাওয়া, খাওয়ার খরচ, হোটেলভাড়া, মঞ্চ, তোরণ ও ব্যানারের পেছনে এই খরচ হচ্ছে বলে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
দলীয় ও ভাড়া গাড়ির মালিক-কর্মকর্তাদের সূত্র জানায়, এই রোডমার্চে শুধু গাড়িভাড়া বাবদ প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা, তেল ও টোল বাবদ ব্যয় হবে আরও প্রায় এক কোটি টাকা, ফেনীতে জনসভার জন্য আড়াই কোটি টাকা, চট্টগ্রামে জনসভার জন্য দেড় কোটি টাকা, কুমিল্লার তিনটি পথসভার জন্য ৪০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে হোটেলভাড়া বাবদও খরচ হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের স্বীকার করা এই হিসাবের বাইরেও বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় ও খরচ হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
রোববার সকাল ১০টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এই রোডমার্চ শুরু হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন খালেদা জিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে এই রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে সিলেট, উত্তরাঞ্চল ও খুলনা অভিমুখে একই দাবিতে রোডমার্চ করা হয়।
গাড়ির ব্যয়: বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ঢাকা থেকে প্রায় চার হাজার গাড়ির বহর চট্টগ্রাম অভিমুখে চারদলীয় জোটের রোডমার্চে অংশ নেবে। আর দুই হাজার গাড়ি বিভিন্ন স্থান থেকে রোডমার্চে যুক্ত হবে। শুধু ঢাকা থেকে তিন হাজার গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে।
গাড়ি ভাড়া দেয় এমন একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তিন হাজার গাড়ির ভাড়া বাবদ বিএনপিকে খরচ করতে হচ্ছে নূন্যতম সাড়ে চার কোটি টাকা। অন্য গাড়িগুলোর তেল ও টোল বাবদ ব্যয় হবে আরও প্রায় এক কোটি টাকা।
রাজধানীর পুরান ঢাকা, খিলগাঁও, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক ভাড়া গাড়ির (রেন্ট-এ কার) ব্যবসায়ী ও সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও ভাড়ার টাকার অঙ্কের বিষয়ে কাছাকাছি তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপির সূত্র জানায়, রোডমার্চের গাড়িবহরে যুক্ত হতে ঢাকার ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে কমপক্ষে দুই হাজার ৮০০ মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাড়া করা হয়েছে। এর বাইরে টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার থেকেও গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে।
রোডমার্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা জানান, ‘সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীদের মধ্যে রোডমার্চ ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। কেবল ঢাকা থেকে বহরে থাকবে চার হাজার গাড়ি। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা থেকে আরও দুই হাজারের মতো গাড়ি রোডমার্চে অংশ নেবে। আশা করছি, ছয় হাজার গাড়ির এই রোডমার্চ হবে সর্বকালের সবচেয়ে বড় রোডমার্চ।’
রেন্ট-এ কারের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, সাধারণত অন্য সময়ের তুলনায় রোডমার্চে অংশ নেওয়া গাড়ির ভাড়া কম নিতে হয়। কারণ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা গাড়ি ভাড়া করেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে দুই দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া নিলে ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। কিন্তু এখন কিছুটা কম নিতে হচ্ছে।
বিএনপির রোডমার্চ আয়োজক কমিটির এক সদস্য বলেন, খরচের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে বলা যায় না। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা পৃথকভাবে এই কাজ করে থাকেন। কেন্দ্রীয় কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে হয়তো ৩০ লাখ টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে ওই নেতা বলেন, এককটি রোডমার্চের পেছনে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়। এর হিসাব নির্ণয় করা কঠিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নেতা বলেন, জনসভা ও পথসভায় বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা-কর্মীরা যোগ দেন। তাঁদের খাবার ও যাতায়াত খরচ আছে। এগুলো স্থানীয় নেতারা বহন করেন। তা ছাড়া জনসভায় আসা ব্যক্তিদের ‘হাতখরচ’ দেওয়ার একটা অলিখিত রেওয়াজও চালু হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে থাকা নেতা-কর্মীদের খাওয়ার খরচও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বহন করতে হয়।
ফেনীতে খরচ আড়াই কোটি টাকা: রোডমার্চ কর্মসূচিতে শুধু ফেনীতেই ব্যয় হচ্ছে আড়াই কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে অর্ধকোটি টাকার সংস্থান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বাকি টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে স্থানীয়ভাবে।
রোডমার্চ কর্মসূচির বড় দুটি জনসভার একটি হবে ফেনীতে। খালেদা জিয়ার জেলা হওয়ায় এখানে বড় ধরনের জনসমাগমের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এই আয়োজনে জড়িত একাধিক দায়িত্বশীল নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকৃত খরচ হবে কয়েক গুণ বেশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নেতা বলেন, এর বাইরে জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা এবং কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ফেনীর আরেক ব্যক্তিত্ব এই আয়োজনের জন্য অন্তত দুই কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছেন। ঢাকা থেকেই তাঁরা এই তহবিল সংগ্রহ করেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে জনসভা মঞ্চ তৈরি, এক সপ্তাহ ধরে সারা জেলার প্রতিটি হাটবাজার, গ্রামগঞ্জ ও শহরে মাইকে প্রচার, মহাসড়কসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে শত শত তোরণ নির্মাণ, রোডমার্চে গাড়িবহরের সঙ্গে আসা নেতাদের ফেনীতে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থক জনসভাস্থলে আনার জন্য প্রায় ৫০০ বাস, মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়েছে। এসব গাড়িভাড়া বাবদ অন্তত ১০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।
দাগনভূঁঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন বলেন, তাঁর এলাকা থেকে ১১৬টি গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। সব টাকার ব্যবস্থা তিনি করবেন। আকবর বিএনপির চেয়ারপরসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই।
পরশুরাম উপজেলা থেকে ১১০টি, সোনাগাজী থেকে ১০০, ফুলগাজী থেকে ৪০টি গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। এ বাবদ খরচ স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানতে চাইলে ফেনী সদর বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান দাবি করেন, খরচের বাজেট তিনি জানেন না।
চট্টগ্রামে খরচ জনসভায়: চট্টগ্রামে সমাবেশের আগের দিন রাতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের রাত যাপনের জন্য নগরের অন্তত ১৫টি কমিউনিটি সেন্টার এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের চার শতাধিক কক্ষ ভাড়া নিয়েছে বিএনপি।
নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামের জনসভার জন্য অন্তত দেড় কোটি টাকা খরচ হতে পারে। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা খরচের অঙ্ক অনেক কম বলে দাবি করছেন।
নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাইরের জেলার নেতাদের অনুরোধে আমরা কয়েকটি কমিউনিটি সেন্টার ও আবাসিক হোটেলের চার শতাধিক কক্ষ বুকিং দিয়ে রেখেছি। ব্যবহারকারীরা ভাড়া পরিশোধ করবে। এর ভার আমাদের নয়।’
রোডমার্চের বাজেট প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘মঞ্চ তৈরি, ব্যানার, মাইক ও অন্যান্য বাবদ আমাদের ২০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। দলীয় নেতারা চাঁদা তুলে টাকার জোগান দিয়েছেন।’
মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাতক আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ডিজিটাল ব্যানারের ব্যবস্থা করেছে। নগরে এ রকম কয়েক হাজার ব্যানার সাঁটানো হয়েছে, যেখানে বিএনপির তহবিল থেকে কোনো খরচ হয়নি। তবে মাইক ব্যবহারের জন্য আমরা সামান্য টাকা খরচ করেছি।’
বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, বড় আকৃতির একটি ডিজিটাল প্রিন্টের ব্যানারের জন্য ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ছোট ব্যানারে খরচ কম। ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এই খরচের জোগান দিচ্ছেন।
গোলাম আকবর আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলা ও জেলা থেকে গড়ে শতাধিক বাস ভাড়া করে নেতা-কর্মীরা জনসভায় যোগ দেবেন। বাসভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচের টাকা সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা কমিটি থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে।

খালেদার জন্য রাজকীয় চেয়ার, ৩০০ নেতার মঞ্চ
নগরীর রেলওয়ের পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ রোডমার্চ পরবর্তী মহাসমাবেশ। আর এ মহাসমাবেশকে ঘিরে পলোগ্রাউন্ডে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। তৈরি করা হচ্ছে ২৪০০ বর্গফুটের মঞ্চ আর খালেদার জন্য চারফুট দৈর্ঘের রাজকীয় চেয়ার।
বিএনপি নেতাদের দাবি, ২০ লাখ লোকের বিশাল উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের এই সমাবেশ নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে। এই সমাবেশ থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তাই এই সমাবেশের মঞ্চসজ্জা থেকে শুরু করে সার্বিক আয়োজন ত্রুটিমুক্ত রাখতে দফায় দফায় মাঠ পরিদর্শন করে দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন চট্টগ্রাম বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। শুধু তাই নয়, সমাবেশস্থলে খালেদা জিয়ার প্রবেশের জন্য পৃথক ফটক নির্মাণেরও  উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঞ্চ প্রস্তুতের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান শাহাবুদ্দিন ডেকোরেটরের ম্যানেজার খন্দকার মানিক আহমেদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জনসভা মঞ্চ হচ্ছে চট্টগ্রামে জনসভার জন্য নির্মিত এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। এর আগে এত বড় মঞ্চ কখনো করা হয়নি। ২৪০০ বর্গফুটের এই মঞ্চ হবে ৪০ বাই ৬০ বর্গফুটের। এর আগে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভামঞ্চ ছিল ৪০ বাই ২৪ ফুটের।
তিনি আরো জানান, ফ্যাশন শোর মঞ্চের আদলে ‘টি’ আকৃতিতে তৈরি হবে খালেদা জিয়ার জনসভা মঞ্চে। মাটি থেকে সাত ফুট উচুতে বাঁশ ও কাঠের ফ্রেমে নির্মিত এ মঞ্চে সর্বোচ্চ আড়াই শ’ থেকে তিন শ’ নেতা বসার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।
বিশাল এই মঞ্চ নির্মাণে আনুমানিক ছয় থেকে সাত লাখ টাকা খরচ পড়বে বলে ধারণা করছেন। মঞ্চ থেকে ৪০ ও ৫৫ ফুট দূরে নির্মাণ করা হচ্ছে দুটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তথা ব্যারিকেড।
শাহাবুদ্দিন ডেকোরেটরের এই কর্মকর্তা আরো জানান, এই মঞ্চের ডিজাইন ও সাজসজ্জার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজকে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য কারুকার্য খচিত সেগুন কাঠের দৃষ্টিনন্দন চেয়ারও নির্মাণ করা হচ্ছে।
পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভা মঞ্চসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি জানান, ‘রোববারের মধ্যে মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ শেষ হবে। আমরা তো মাত্র ৪/৫ দিন আগে মাঠ পেয়েছি, তাই কাজ করতে পারিনি।’
মঞ্চ প্রস্তুতিতে কত খরচ হচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা সবাই কন্ট্রিবিউট করছে, তাই খরচ কত হচ্ছে হিসাব করা হয়নি।’
তিনি জানান, জনসভা মঞ্চে প্রবেশের জন্য খালেদা জিয়ার জন্য পৃথক গেইটসহ আরো তিনটি গেইট তৈরি করা হবে। পলোগ্রাউন্ডে পেছনের দেয়াল ভেঙে পলোগ্রাউন্ড কলোনি এলাকায় নির্মিত ওই গেট দিয়ে জনসভার মঞ্চে প্রবেশ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তার সাথে গাড়ি বহরে আসা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়া  পলোগ্রাউন্ড মাঠের রেলওয়ে স্টাফ মসজিদ সংলগ্ন দেয়াল ভেঙে একটি ও সিআরবিস্থ পলোগ্রাউন্ড স্কুলের পাশে আরো একটি গেট করা হবে। নারীদের প্রবেশের জন্য থাকবে পৃথক গেট। এছাড়া সামনের মূল গেটও ভেঙে বড় করা হবে।
শনিবার সরেজমিনে পলোগাউন্ড মাঠ পরিদর্শনকালে দেখা যায় মাঠের শেষ প্রান্তে পশ্চিম দিকে বিশাল মঞ্চের প্লাটফর্ম তৈরির কাজ করছে অর্ধশতাধিক শ্রমিক। কেউ গর্ত খুঁড়ছেন, কেউ বা মঞ্চের প্লাটফর্মে বাঁশ ও কাঠের সাথে প্লাটিকের রশি বাঁধছেন। মঞ্চের সামনে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করছিল আরো একদল শ্রমিক। একইসাথে মাঠের বিভিন্ন প্রান্ত জুড়ে রোডমার্চ ও খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে  বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের ডিজিটাল ব্যানার স্থাপনের জন্য বাঁশের খুঁটি গাড়া হচ্ছিল।  অন্যদিকে বুলডোজার দিয়ে চলছে মাঠের মাটি সমান করার কাজ।  
মাঠে কর্মরত ডেকোরেটর কর্মী ওমর ফারুক জানান, গত চারদিন ধরে ৩০ জন কর্মী মঞ্চ তৈরির কাজ করছে। আর বিশাল এই মঞ্চ তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে তিন থেকে চার হাজার বাঁশ ও সমপরিমাণ কাঠ। রোববার ফলস সিলিংয়ের কাপড় টানানো হবে।
এদিকে শাহাবুদ্দিন ডেকোরেটরের কর্মকর্তা মানিক আরো জানান, রোববারের বিকেলের মধ্যে মঞ্চ-প্রস্ততি শেষ হবে।  মঞ্চের বামপাশে মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে প্যাভেলিয়নের ওপরে নির্মিত হচ্ছে জাসাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ। ৯ জানুয়ারি জনসভা শুরুর আগে ও পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে মাঝ মাঠজুড়ে  মাইক স্থাপনের জন্য চলছিল গর্ত খোঁড়া। এজন্য ঢাকা থেকে এসেছে তাহের মাইক সার্ভিস।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানজোর শাহেদ আহমেদ জানান, সমাবেশস্থলে ১২০টি মাঠের বাইরে ভাষণ প্রচারের জন্য ৮০টিসহ মোট দুই শতাধিক মাইক লাগানো হবে।
শনিবার দুপুরে পৃথকভাবে একে একে পলোগ্রাউন্ড মাঠে নিমার্ণাধীন মঞ্চ ও সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনের পর আসেন জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম, নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ  বিএনপি নেতাদের একটি দল।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোগে প্রতি বছর মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা হলেও দীর্ঘ ১৩ বছর পর এই মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজনৈতিক দলের জনসভা। এই প্রথম  পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে একই মাঠে বক্তৃতা করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে