Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৯-২০১৪

সুচিত্রাময় কলকাতা

সুচিত্রাময় কলকাতা

কলকাতা, ১৯ জানুয়ারি- বাড়ির ভেতরে সুনসান নীরবতা। মূল প্রবেশপথ দিয়ে মানুষের তেমন আসা-যাওয়া দেখা গেল না। কিন্তু বাইরে উৎসুক নানা বয়সী মানুষের ভিড়। সবার নজর বাড়িটির দিকে। যেখানে সুচিত্রা সেনের কেটেছে দীর্ঘদিন। মাত্র এক দিন আগে তিনি শেষবারের মতো এই বাড়িতে এসেছিলেন। সাদা বেনারসি শাড়িতে তিনি ছিলেন নীরব, নিথর। কত স্মৃতি এ বাড়িতে তাঁর।

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতি-জাগানিয়া এ বাড়ি ছিল গতকাল শনিবার অসংখ্য মানুষের আগ্রহের বিষয়। প্রিয়জন হারানোর ব্যথায় অনেকের চোখে পানি গড়াতে দেখা গেছে। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় এ বাড়িতে আবারও এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মহানায়িকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। জানা গেছে, গতকাল সারা দিন সেখানে গীতাপাঠের আয়োজন চলেছে। কাল সোমবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জীবনের শেষ দিনগুলোতে মহানায়িকা নিজেও মনে-প্রাণে চাইছিলেন বাড়ি ফিরতে। কিন্তু ফেরা হলো না। শুক্রবার ২৬ দিনের লড়াই শেষ হয়ে গেল। তিন দশক নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার পর চির অন্তরালে চলে গেলেন মহানায়িকা। গতকালও কলকাতাবাসীর আগ্রহ-আলোচনার বিষয় ছিলেন সুচিত্রা। পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে, দোকানে, ক্লাবে দেখা গেছে সেই চিরচেনা ভুবন ভোলানো হাসির সুচিত্রার সাদা-কালো প্রতিকৃতি। সেখানে নানান রকমের ফুল। যেন মহাপ্রয়াণের পর নতুন করে ফিরলেন মহানায়িকা!

অঞ্জনা কীর্ত্তনিয়া। থাকেন শহরের উপকণ্ঠে, কেষ্টপুর। গতকাল তাঁর সঙ্গে দেখা হলো সুচিত্রার বাড়ির সামনে। সেখানে আসার কারণ জানতে চাইলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। বললেন, ‘কেন যে এখানে এলাম নিজেও জানি না। উনি তো আমার আত্মীয় ছিলেন না। তবু কেন যে এত মিস করছি, বুঝতে পারছি না। বিশ্বাস করুন, মনের অজান্তেই আজ এখানে চলে এসেছি।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখ রীতিমতো ভিজে যাচ্ছিল অঞ্জনার। মিতালী পাল এসেছিলেন স্বামীর সঙ্গে। বললেন, ‘পাশের এলাকায় থাকি। কিন্তু কখনো জানতাম না এ বাড়িতে মহানায়িকা থাকেন।’ স্বামী বিশ্বজিৎ পাল বললেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) থেকে আসার জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি করছেন স্ত্রী। কিন্তু কাল তো ধারে-কাছে আসা যায়নি। তাই আজ এলাম।’ উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল কেওড়াতলা শ্মশানেও। যেখানে সুচিত্রার দেহ চিরতরে বিলীন হয়েছে পঞ্চভূতে। মূল শ্মশানকেন্দ্রে গতকালও প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত ছিল।

এদিকে কেওড়াতলার যে অংশে সুচিত্রা সেনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে স্মৃতিফলক স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেন এখানকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, মহানায়িকার স্মৃতি রক্ষার্থে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের একাংশের নাম রাখা হবে ‘সুচিত্রা সেন সরণি’। বালিগঞ্জ ফাঁড়ির নাম হবে ‘সুচিত্রা সেন স্কয়ার’।

শহরের সল্টলেক এলাকা থেকে মধ্য কলকাতায় আসার পথে পড়ে বেলেঘাটা এলাকাটি। গতকাল সকালে এ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলাম বালিগঞ্জের দিকে। ট্যাক্সিতে ১০ মিনিটের পথ। এই ১০ মিনিটের পথে অন্তত ১৫ জায়গায় দেখা গেল সুচিত্রা সেনের বিশাল বিশাল প্রতিকৃতি। এই সড়ক থেকে যেসব ছোট গলি চলে গেছে, সেসব গলির মুখেই ছিল এসব প্রতিকৃতি। অনেকে সকালে দৈনন্দিন পূজা শেষে সেখানে এসে ফুল দিয়েছেন। ফুল দিতে দেখা গেছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদেরও। পুরো কলকাতায় সুচিত্রার ঠোঁটে পুরোনো চলচ্চিত্রের গানগুলো বাজতে শোনা গেছে। এমনকি সল্টলেকের যে পানদোকানে সব সময় মোহাম্মদ রফির গান শোনা যেত, সেই দোকানে গতকাল শোনা গেছে, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো...’। ভিডিও সিডির দোকানে মহানায়িকার অভিনীত ছবির সিডিগুলো বিক্রি বেড়েছে বলে জানা গেছে।

মানুষের আগ্রহ ছিল টালিগঞ্জের চণ্ডী ঘোষ রোডের নিউ থিয়েটার্সের এক নম্বর সাজঘরের দিকে। যেটি বরাদ্দ থাকত শুধু সুচিত্রা সেনের জন্য, যেভাবে এই সাজঘরের ঠিক দক্ষিণ-পূর্ব কোণের সাজঘরটি থাকত উত্তমকুমারের জন্য। দশকের ব্যবধানে একাধিকবার সংস্কার হলেও মূল আদল এখনো মোটামুটি একই রয়েছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামলাল নন্দী। জানালেন, এই সাজঘরে সাজসজ্জা করেই গৃহদাহ, উত্তর ফাল্গুনী, কমললতা, ফরিয়াদ, দেবী চৌধুরানীর মতো একের পর এক বিখ্যাত ছবির ফ্লোরে গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। সুচিত্রা সেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে এ দিন তাঁর বিশাল ছবিতে ফুল-মালায় শ্রদ্ধা জানিয়েছে নিউ থিয়েটার্স। উত্তমকুমারের সাজঘরকে যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তেমন করেই সুচিত্রার ব্যবহূত সাজঘরকে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রী দিয়ে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে