Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.6/5 (44 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৭-২০১২

সব জরিপেই সরকারের জনপ্রিয়তায় টান

সব জরিপেই সরকারের জনপ্রিয়তায় টান
৬ই জানুয়ারি ২০০৯-তে শুরু হওয়া মহাজোট সরকারের তিন বছরে একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত জরিপে ক্ষমতাসীন দল বা মহাজোট, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বা চারদলীয় জোটের প্রতি মানুষের সমর্থন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ইস্যু, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার কাজে জনগণের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার কাজে জনগণের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন, দুর্নীতি হ্র্রাস বা বৃদ্ধি, দারিদ্র্যবিমোচন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির সর্বশেষ অবস্থান উঠে এসেছে। জরিপ বিশ্লেষণ করলে সরকারের জনপ্রিয়তায় টান পড়েছে এমন চিত্রই পাওয়া যায়। প্রথম আলোর জনমত জরিপ বলেছে, ক্ষমতা গ্রহণের তিন বছরের মাথায় আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ৩৮ শতাংশ আর জাতীয় পার্টির ৮ শতাংশ, সম্মিলিতভাবে ৪৬ শতাংশ। বিপরীতে বিরোধী দল বিএনপির জনসমর্থন ৪৩ শতাংশ আর জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর ৪ শতাংশ, সম্মিলিতভাবে ৪৭ শতাংশ। বাকি ৭ শতাংশ উত্তরদাতা কোন দলের প্রতি সমর্থন দেননি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জাতীয় সংসদ সক্রিয় করা নিয়ে সরকারি দলের উদ্যোগহীনতা আর বিরোধী দলের সংসদ বর্জনকে বেশির ভাগ উত্তরদাতা পছন্দ করেনি। দেশে দুর্নীতি, নৈরাজ্যের রাজনীতি বেড়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সঠিকভাবে কাজ করছে না বলেও জানিয়েছে বেশির ভাগ উত্তরদাতা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না করার সিদ্ধান্তকে বেশির ভাগ উত্তরদাতা সঠিক মনে করছেন না। গত এক বছরে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সরকারের আওতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না বলে ধারণা বেশির ভাগ উত্তরদাতার। বর্তমান সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের (যুদ্ধাপরাধ) বিচার করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে হ্যাঁ-না উভয় পক্ষে ৪৭ শতাংশ মত পড়েছে। জরিপ বলছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সরকার সবচেয়ে সফল। ৮৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো সঠিক ছিল। ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ খাতে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। তবে কৃষিখাত নিয়ে মানুষ হতাশ। ৩৭ শতাংশ মনে করছেন, ধান-পাটসহ বেশির ভাগ কৃষিপণ্যের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষক অখুশি। ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। ৫৭ শতাংশ মনে করছেন, দেশ সঠিক পথে চলছে না। এ মুহূর্তে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপিকে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন ৩৮ শতাংশ। জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-কে ৮ ও জামায়াতে ইসলামীকে ৪ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে চেয়েছেন। জোট ধরে হিসাব করলে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পক্ষে ৪৬ শতাংশ এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের পক্ষে ৪৭ শতাংশ ভোট পড়বে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে দেশে রাজনীতি করতে দেয়া উচিত কিনা প্রশ্নের জবাবে ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা না করতে দেয়ার পক্ষে এবং ৪০ শতাংশ করতে দেয়ার পক্ষে। ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা বিরোধী দলের প্রতি সরকারের আচরণ সঠিক মনে করেন না। ৫৪ শতাংশ মনে করেন, বিরোধী দলকে সংসদে নিতে সরকার আন্তরিক নয়। বিরোধী দলের হরতাল ও নৈরাজ্যের মতো পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসবে কি? ৪০ শতাংশ মানুষ এ আশঙ্কা করছেন। ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা সরকার সঠিক পন্থায় বা ইতিবাচক উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধন করেনি বলে জানিয়েছে। ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন দলীয়করণ বেড়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা বিচারবহির্ভূত হত্যার বিপক্ষে। ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বিচার ব্যবস্থার উন্নতি না অবনতি হয়েছে- এমন প্রশ্নে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন উন্নতি হয়েছে। ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা বলছেন, ভারতকে ট্রানজিট দেয়া লাভজনক হবে না। তিস্তা চুক্তি না হওয়ার জন্য ২২ শতাংশ উত্তরদাতা বাংলাদেশকে ও ২০ শতাংশ ভারতকে দায়ী করেছেন। চুক্তি না হওয়ায় উভয় দেশকেই দায়ী- জানিয়েছেন ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন হয়েছে বলে মনে করেন ৬৮ শতাংশ। জীবনযাত্রার মান খারাপ হয়েছে বলেছেন ৩৬ শতাংশ। ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অসফল। সফল বলেছেন ২১ শতাংশ উত্তরদাতা। যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন নিয়ে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। কর্মসংস্থান বাড়ানো নিয়ে সরকার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে বলছেন ২৪ শতাংশ। ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতি বেড়েছে বলে মত দিয়েছেন। ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে কোন ইতিবাচক পরিবর্তন নেই। হরতাল, সহিংসতা ফিরবে না- এমন আশা ৪০ শতাংশ মানুষের। পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা। ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেননি বেশির ভাগ মানুষ। ৭৩ শতাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। ২৫ শতাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পক্ষে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে কি- ৪৭ শতাংশের মত হ্যাঁ, ৪৬ শতাংশ মানুষের জবাব না।
অন্যদিকে, দৈনিক জনকণ্ঠের জরিপ বলছে- এখনই নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩৫ ভাগ, বিএনপি ২৭ ভাগ ভোট পাবে। জাতীয় পার্টি পাবে ৬ ভাগ, জামায়াত পাবে ৩ ভাগ ভোট। কোন দলকেই ভোট দেবেন না ৩ ভাগ, ভোটই দেবেন না ১ ভাগ, সিদ্ধান্ত নেননি ১১ ভাগ, মন্তব্য নেই ১৪ ভাগ। কোন দলের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি- এ প্রশ্নে জনমত গেছে আওয়ামী লীগের পক্ষে। জরিপ বলছে, আওয়ামী লীগের দিকে ব্যাপক সমর্থন ৩৮ ভাগ মানুষের, মোটামুটি সমর্থন ২৮ ভাগ, দু’ ভাগ মিলিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থন ৬৬ ভাগ মানুষের। বিএনপির প্রতি ব্যাপক সমর্থন ২১ ভাগ মানুষের। মোটামুটি সমর্থন ৩০ ভাগ মানুষের। দু’ ভাগ মিলিয়ে ৫১ ভাগ মানুষের। জাতীয় পার্টির প্রতি ব্যাপক সমর্থন ৯ ভাগ মানুষের। মোটামুটি সমর্থন ৪৭ ভাগ মানুষের। দু’ ভাগ মিলিয়ে সমর্থন ৫৬ ভাগ মানুষের। জামায়াতের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন ৬ ভাগ, মোটামুটি সমর্থন ২১ ভাগ। দু’ভাগ মিলিয়ে সমর্থন ২৭ ভাগ। জনকণ্ঠ বলছে, সমর্থন বাড়েনি বিএনপির। কমেছে আওয়ামী লীগের। বেড়েছে জাতীয় পার্টির। জরিপের বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রতি এখনও দেশের শতকরা ৬৬ ভাগ মানুষ আস্থাশীল। জনপ্রিয়তায় এখনও শীষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে গত বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র জনপ্রিয়তা হ্রাস-বৃদ্ধি না পেলেও বেড়েছে এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির। দেশের ৫২ ভাগ মানুষ মনে করে বর্তমান সরকার সঠিক পথেই এগুচ্ছে। আর এখনই নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে দেশের ৩৫ ভাগ, বিএনপিকে ২৭ ভাগ, জাতীয় পার্টিকে ৬ ভাগ এবং জামায়াতকে ৩ ভাগ মানুষ ভোট দেবে। জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ৮০ ভাগ উত্তরদাতা শিক্ষা, কৃষি, জঙ্গিবাদ দমন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে সরকারের সফলতায় তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বেশির ভাগ মানুষই হতাশ। জনপ্রিয়তার বিচারে খালেদা জিয়ার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে রয়েছেন। রাজনীতি নিয়ে হতাশা থাকলেও বেশির ভাগ মানুষই সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন, দুর্নীতি হ্র্রাস, দারিদ্র্যবিমোচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ সামগ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগকেই দক্ষ মনে করে। দেশের শতকরা ৫২ ভাগ মানুষ মনে করে বর্তমান মহাজোট সরকার সঠিক পথেই চলছে। আর ৪৮ ভাগ মানুষ মনে করে সরকার অনেক ক্ষেত্রেই চলছে ভুলপথে। ৩৮ ভাগ মানুষ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ওপর সর্বোচ্চ আস্থাশীল আর ২৮ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভাল মনে করে। দুটি মিলিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের ওপর সর্বোচ্চ আস্থাশীল দেশের ৬৬ ভাগ মানুষ। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির প্রতি সর্বোচ্চ আস্থাশীল দেশের ২১ ভাগ মানুষ। বিএনপিকে ভাল মনে করে ৩০ ভাগ মানুষ। সব মিলিয়ে বিএনপির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন দেশের ৫১ ভাগ মানুষ। এছাড়া মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির ওপর জোর আস্থাশীল ৯ ভাগ মানুষ। এ দলটিকে ভাল মনে করে ৪৭ ভাগ মানুষ। এছাড়া চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতকে ভাল মনে করে ৬ ভাগ মানুষ। আদালতের ওপর ৪৪ ভাগ মানুষের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বিভিন্ন খাতে সরকার কেমন করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ৬৪ ভাগ মানুষ বলেছে ভাল আর ৩৬ ভাগ মানুষ বলেছে সরকার ভাল করছে না। বিভাজনের চিত্র অনুযায়ী সরকারের পক্ষে থাকা ৬৪ ভাগ মানুষের মধ্যে ১৬ ভাগ মানুষ বলেছে, সরকার ‘খুবই ভাল’ করছে আর ৪৮ ভাগ মানুষ মনে করে ‘অপেক্ষাকৃত ভাল’ করছে। বিপক্ষে থাকা ৩৬ ভাগ মানুষের মধ্যে ২৯ ভাগ মানুষ করে ‘ভাল করছে না’ আর ৭ ভাগ মানুষ মনে করে ‘একদমই ভাল করছে না।’ দেশের মানুষের সমস্যা সমাধানে কোন দল সবচেয়ে বেশি দক্ষ- এমন প্রশ্নের জবাবে সব খাতেই যোগ্যতা ও দক্ষতার শীর্ষে রয়েছে আওয়ামী লীগ। মানসম্মত শিক্ষাখাতের উন্নয়নে ৫৪ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে বেশি দক্ষ ও যোগ্য বলে মনে করে। বিএনপিকে দক্ষ মনে করে দেশের ২৫ ভাগ মানুষ। সাধারণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দেশের ৪৩ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগকে আর ৩১ ভাগ মানুষ বিএনপিকে দক্ষ মনে করে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির দক্ষতায় ৪৫ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগকে আর ২৫ ভাগ মানুষ বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছেন। দারিদ্র্যবিমোচনে ৩৮ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগকে আর ২৩ ভাগ মানুষ বিএনপিকে দক্ষ মনে করে। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এ খাতের সমস্যা সমাধানেও ৪০ ভাগ মানুষ মনে করে সমস্যা সমাধানে আওয়ামী লীগ আর ২১ ভাগ মানুষ মনে করে বিএনপি বেশি যোগ্য। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৩৫ ভাগ মানুষ মনে করে আওয়ামী লীগ যোগ্য আর ২৪ ভাগ মানুষ মনে করে যোগ্য বিএনপি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ২৯ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগ বেশি দক্ষ আর ২৭ ভাগ মানুষ মনে করে যোগ্য বিএনপি। এখনই নির্বাচন হলে কোন দলকে ভোট দেবেন- এ প্রশ্নে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চায় ৩৫ ভাগ মানুষ। বিএনপিকে ভোট দিতে চায় ২৭ ভাগ মানুষ।
দৈনিক সমকাল-এর জরিপ বলছে, সরকারের তিন বছরের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট নন ৪৪ ভাগ, সন্তুষ্ট ৯ ভাগ, মোটামুটি সন্তুষ্ট ৪২ ভাগ, জানি না ৫ ভাগ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার কাজের মূল্যায়ন- ভাল করছেন বলেছেন ৪২ ভাগ, খুব ভাল করছেন ৮ ভাগ, ভাল করছেন না ৩৬ ভাগ, জানি না ১৪ ভাগ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে? না ৫১ ভাগ, কিছুটা ৩২ ভাগ, হ্যাঁ ১৭ ভাগ। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে সরকারের এ দাবি কি সঠিক? আংশিক ৪০ ভাগ, হ্যাঁ ৩৪ ভাগ, না ২৩ ভাগ, জানি না ৩ ভাগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিরোধী দলের সংসদে গিয়ে বক্তব্য রাখা উচিত? হ্যাঁ ৭৪ ভাগ, না ১৫ ভাগ, মতামত নেই ১১ ভাগ। মন্ত্রিসভায় ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা মনে করেন কিনা? হ্যাঁ ৫২ ভাগ, আংশিক ৩৪ ভাগ, না ৮ ভাগ, জানি না ৬ ভাগ। সংসদ কার্যকর করায় সরকারি জোট দায়িত্ব পালন করছে? না ৩৮ ভাগ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৩৯ ভাগ, হ্যাঁ ১৫ ভাগ, জানি না ৮ ভাগ। দৈনন্দিন জীবনে আপনি কি নিরাপদ বোধ করেন? হ্যাঁ ২০ ভাগ, মোটামুটি ৪৪ ভাগ, না ৩৬ ভাগ। সমকাল জানিয়েছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করে, তিন বছরে দুর্নীতি বেড়েছে, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি অনেক স্থানেই অসহনীয়, দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত সাধারণ মানুষ। শিক্ষা-বিদ্যুৎ-তথ্যপ্রযুক্তি-কৃষি ইত্যাদি খাতে সাফল্য থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা, মন্ত্রিসভা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভাগ করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, তিস্তা-টিপাইমুখ বাঁধ প্রভৃতি ইস্যুতে তারা সরকারের যথেষ্ট সমালোচনা করেছে। বিরোধী দলের অব্যাহত সংসদ বর্জন এবং হরতালের মতো কর্মসূচি তাদের পছন্দ নয়। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখতে চায়, কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আস্থাভাজন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার কাজের মূল্যায়ন- প্রশ্নে সাড়ে ৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলছেন ‘খুব ভালো করছেন’। ৪২ শতাংশের কিছু বেশি বলছেন ‘ভালো করছেন’। অর্থাৎ ৫০ শতাংশের বেশি তাকে ভালো বা খুব ভালো বলছেন। কাজের অনুমোদন প্রশ্নে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার তুলনায় এগিয়ে। খুব ভালো বা ভালো- বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশের কিছু বেশি উত্তরদাতার কাছ থেকে মত এসেছে।
ডেইলি স্টার-এর জরিপ বলছে, এখনই নির্বাচন হলে কোন দলকে ভোট দেবেন? জবাবে আওয়ামী লীগকে ৪০ ভাগ, বিএনপিকে ৩৭ ভাগ, জাতীয় পার্টিকে ৬ ভাগ, জামায়াতকে ২ ভাগ, অন্যান্য ১ ভাগ, না ভোট ৩ ভাগ, ভোট দেবো না ২ ভাগ, মন্তব্য নেই ৯ ভাগ। দেশ কি সঠিক পথে এগোচ্ছে? জবাবে ভুল পথে ৪৪ ভাগ, সঠিক পথে ৪১ ভাগ, জানি না ১ ভাগ, পরিবর্তন নেই ১৪ ভাগ। সরকারের ৩ বছর নিয়ে আপনার মন্তব্য কি? অসন্তুষ্ট ৩৯ ভাগ, সন্তুষ্ট ৩৩ ভাগ, খুব অসন্তুষ্ট ৫ ভাগ, খুব সন্তুষ্ট ৫ ভাগ, কিছুই না ১৭ ভাগ, মন্তব্য নেই ১ ভাগ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকায় আপনি কি সন্তুষ্ট? না ৫০ ভাগ, হ্যাঁ ২৬ ভাগ, খুব অসন্তুষ্ট ৪ ভাগ, কিছুই না ১১ ভাগ, খুব সন্তুষ্ট ৫ ভাগ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অগ্রগতিতে আপনি কি সন্তুষ্ট? অগ্রগতি হয়েছে ৪১ ভাগ, অবনতি ৩৩ ভাগ, পরিবর্তন নেই ২৩ ভাগ, এত আগে বলা সম্ভব নয় ১ ভাগ, জানি না ২ ভাগ। দুর্নীতি কোন পর্যায়ে? বেড়েছে ৪৫ ভাগ, কমেছে ৩৪ ভাগ, স্থিতিশীল ১৮ ভাগ, জানি না ২ ভাগ। ৩ বছরে প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৩৪ ভাগ, অসন্তুষ্ট ২৯ ভাগ, খুব সন্তুষ্ট ৬ ভাগ, খুব অসন্তুষ্ট ১৩ ভাগ, জানি না ১৭ ভাগ, মন্তব্য নেই ১ ভাগ। খালেদা জিয়ার কাজে সন্তুষ্ট ২৬ ভাগ, অসন্তুষ্ট ২৬ ভাগ, জানি না ৩৩ ভাগ, খুব সন্তুষ্ট ৪ ভাগ, খুব অসন্তুষ্ট ৫ ভাগ, মন্তব্য নেই ৬ ভাগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সমর্থন করেন? না ৭৪ ভাগ, হ্যাঁ ২০ ভাগ, জানি না ৬ ভাগ। সরকারের সফলতার ক্ষেত্র- যুদ্ধাপরাধ ৩০ ভাগ, সার সরবরাহ ২৫ ভাগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ২০ ভাগ, আইন-শৃঙ্খলা ১৭ ভাগ, শিক্ষা ১৬ ভাগ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ৯ ভাগ, মন্তব্য নেই ৮ ভাগ, সফল নয় ৩ ভাগ, জানি না ১০ ভাগ। বিএনপির কার্যক্রমে আপনি কি সন্তুষ্ট? হ্যাঁ ৪৪ ভাগ, না ২৮ ভাগ, কার্যক্রম আগের মতোই ২৭ ভাগ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে