Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯ , ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৭-২০১২

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ‘মৃত্যু-দেয়াল’

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ‘মৃত্যু-দেয়াল’
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে ‘মৃত্যু-দেয়াল’ ও ‘দক্ষিণ এশিয়ার বার্লিন প্রাচীর’ আখ্যা দিয়েছে আমেরিকার প্রভাবশালী গণমাধ্যম গ্লোবালপোস্ট। এতে ভারতের দেয়া কাঁটাতারকে ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও রক্তঝরানো’ বলা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চার হাজার কিলোমিটার লম্বা এই সীমান্ত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সীমান্ত। ভারতের পক্ষে দেশটির বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ এটা পাহারা দেয় এবং কোনো প্রকার সতর্কতা ছাড়াই নিরস্ত্র জনতাকে হত্যা করে। যাদের শীর্ষভাগই বাংলাদেশী।

এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে। কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভেঙে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হবার পর থেকে ভারত যে দৃষ্টিতে সীমান্তকে দেখে আসছে, তাতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আনেনি।

গ্লোবাল পোস্টের রিপোর্টটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসীরাই মূলত বিএসএফ’র নির‌্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এতে বলা হয়, ভারতীয় কর্মকর্তারা বলে থাকেন, প্রতিবছর ২০ লাখ বাংলাদেশী অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে ঢোকে। কিন্তু ভারতীয় মিডিয়া দাবি করে সংখ্যাটি হবে ‘২ কোটি’।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জোর গলায় দাবি করে, ক্রমবর্ধমান হারে বাংলাদেশীরা ভারতে ঢোকার কারণ হচ্ছে বেকারত্ব। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাস চালানোর পাশাপাশি জঙ্গি তৎপরতা চালাতেও বাংলাদেশীরা ভারতে ঢোকে। সরকারের এই ব্যাখ্যার কারণে বিএসএফ ট্রিগার টিপতে পারলেই খুশি।

রিপোর্টে বলা হয়, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতে জন্মগ্রহণকারী ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গাতে পারলেও কিশোরী ফেলানী আড়াই মিটার উঁচু কাঁটাতারের শীর্ষে ওঠার পর বিএসএফ সদস্যরা তাকে দেখে ফেলে এবং খুব কাছ থেকে তাকে গুলিতে হত্যা করে।

ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ফেলানীর বাবা বলেন “বিএসএফ কোনো প্রকার সতর্কতা ছাড়াই ফেলানীকে হত্যা করেছে। ওরা থামতে বললেই ফেলানী বেঁচে যেতো”।

বধূবেশী ফেলানীর লাশ কাঁটাতারের ওপর পাঁচ ঘণ্টা ঝুলে ছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবাসী এই করুণ দৃশ্য দেখেছে। পরে বিএসএফ ফেলানীর হাত ও পায়ের ফাঁকে বাঁশ ঢুকিয়ে তাকে বহন করে নিয়ে যায়।

৩০ ঘণ্টা পর ফেলানীর লাশ বিজিবি ও ফেলানীর বাবার হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। ফেলানীর বাবা বলেন “ওরা মৃত ফেলানীর অলঙ্কারগুলো মেরে দিতে ভুল করেনি।”

কাঁটা তারে ঝুলে থাকা ফেলানীর লাশের ছবি মিডিয়ায় প্রকাশিত হবার পর বাংলাদেশ ও ভারতে বিএসএফ’র নিষ্ঠুরতা নিয়ে কথা ওঠে। পরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম ঢাকা সফরে এসে ঘোষণা দেন, “বিএসএফ এখন থেকে নিরস্ত্র মানুষকে কোনো অবস্থাতে হত্যা করবে না।”

কিন্তু চিদাম্বরমের ঘোষণা বাস্তব হয়নি, ঘোষণাই রয়ে গেছে। বিজিবির দাবি, হত্যাকাণ্ড কিছুটা কমলেও নতুন উপসর্গ হিসেবে যোগ হয়েছে বেদম পিটুনি, ঝুলিয়ে রাখা, পাথর মারা ও বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ।

রিপোর্টটিতে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গত এক দশকে বিএসএফ এক হাজারের বেশি বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে বিএসএফও স্বীকার করে নিয়েছে ২০০৬ সাল থেকে তারা ৩৬৪ বাংলাদেশী ও ১৬৪ ভারতীয়কে হত্যা করেছে।

রিপোর্টে বলা হয়, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ দেখেই ভারত সরকার অনুপ্রাণিত হয়েছে।

রিপোর্টে এটাও বলা হয়, বিএসএফ মানুষ মেরেও সীমান্তে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে পারেনি। এতে আরো বলা হয়, আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশ আমেরিকার আইওয়া রাজ্যের চেয়েও ছোট। অথচ ওখানে বাস করে ১৫ কোটি মানুষ। রয়েছে চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া। ফলে দেশটির জনগণ ‘আবদ্ধ’ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন।

ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ ‘অধিকার’ এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্টতে বলা হয় “কাঁটাতারের বেড়া প্রভুত্বের একটি মনস্তাত্ত্বিক অভিব্যক্তি। ভারত বাংলাদেশের তিন দিক কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেছে। উচ্চ ক্ষমতার ফ্লাডলাইট, কাঁটাতারের বেড়া---দেখতে মনে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প।”

রিপোর্টটিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত চেনার দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন নেই। সীমান্তবাসী জানে না, তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে নাকি বাংলাদেশী ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন।
(সংযুক্ত ভিডিওটি দেখুন)

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে