Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.6/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৮-২০১৪

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পেতে ১৮ ডলার অতিরিক্ত দিতে হবে

কামরুল হাসান


মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পেতে ১৮ ডলার অতিরিক্ত দিতে হবে

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি- যন্ত্রে পাঠযোগ্য (মেশিন রিডেবল) পাসপোর্ট পেতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নির্ধারিত ফির বাইরে আরও ১৮ ডলার করে দিতে হবে। এই অর্থ পাবে পাসপোর্টের তথ্য সংগ্রহ ও বই বিতরণের কাজে সহায়তা করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য ৭ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

দরপত্রের শুরুতেই বলা আছে যে প্রবাসীদের পাসপোর্ট দেওয়ার এই প্রকল্পের অর্থ সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকেই সার্ভিস ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় বসবাস করা বাংলাদেশিদের জন্য এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এ কাজের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নির্বাচন করা হয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে দরপত্র চাওয়া হয়েছে। জুনের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ইতালি, ওমান, বাহরাইন এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে বলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে প্রথম দফায় মালয়েশিয়ার ছয় লাখ পাসপোর্টের কাজ দেওয়ার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা নিয়েই অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, সরকারের ক্রয়নীতি লঙ্ঘন করে ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ থাকলেও তা নিষ্পত্তি করা হয়নি।

প্রবাসীদের পাসপোর্টের জন্য সরকার-নির্ধারিত ফির বাইরে কেন অতিরিক্ত ১৮ ডলার করে দিতে হবে জানতে চাইলে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট ও ভিসা প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এত লোকবল নেই। সে কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তারা শুধু তথ্য সংগ্রহ ও পাসপোর্ট বিতরণের কাজ করবে। বাদবাকি সব কাজ করবে অধিদপ্তর।’ তবে অনিয়ম করে কাজ দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই কাজ দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।

সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চের মধ্যে সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে এমআরপি দেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রবাসীদের পাসপোর্টসংক্রান্ত এই সমস্যা সমাধান করতে ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট ও ভিসা প্রকল্প শুরু হয়। দেশের অভ্যন্তরে ৩৪টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও ঢাকা অফিসের মাধ্যমে এবং বিদেশে ৬৫টি দূতাবাসের মধ্যে ৪১টি মিশন থেকে এমআরপি/এমআরভি বিতরণ শুরু হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সময়মতো প্রকল্প শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে প্রকল্পে বিলম্ব হয়। এ কারণে সময়মতো প্রবাসীদের পাসপোর্টও দেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত আউটসোর্সিং বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থান করা বাংলাদেশির মধ্যে পাসপোর্ট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর প্রথম উদ্যোগ শুরু হয় মালয়েশিয়ায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় অবস্থিত ছয় লাখ বাংলাদেশির পাসপোর্টের জন্য দরপত্র চাওয়া হয় গত বছরের ১৯ মে। এতে ১৪টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দিলে প্রাথমিক বাছাইয়ে পাঁচটি কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচনা করা হয়। পরে একটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দিতে ব্যর্থ হলে চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডাটা এজ নামের একটি কোম্পানিকে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়।

ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদের সই করা সারসংক্ষেপে বলা হয়, ডাটা এজ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটটি কেন্দ্র স্থাপন করবে। সেখানে বসবাস করা বাংলাদেশিরা এসব কেন্দ্রে এসে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন। ডাটা এজ সেই তথ্য অনলাইনে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ঢাকায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পাঠাবে। সেখান থেকে তৈরি হওয়া পাসপোর্ট মিশনের মাধ্যমে আবার মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। এরপর ডাটা এজ তাদের লোকবলের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের কাছে বিতরণ করবে। এর বিনিময়ে পাসপোর্ট প্রতি ডাটা এজ পাবে ১৮ ডলার করে। এ হিসাবে সেখানে বসবাসরত ছয় লাখ পাসপোর্ট করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি পাবে আনুমানিক ৮৫ কোটি টাকা।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, প্রতিটি পাসপোর্ট বইয়ের জন্য সরকারের খরচ মাত্র তিন ডলারের কিছু বেশি। কিন্তু ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে তিন হাজার ও ছয় হাজার টাকা করে। তার পরও প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৮ ডলার করে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না।

আবার কাজ না পেয়ে অনিয়মের অভিযোগ এনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেশ করেছে দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার আইরিশ করপোরেশন বারহাদ। এতে বলা হয়, ডাটা এজ বাংলাদেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রকল্পে দুটি বিদেশি কোম্পানির অংশীদার হিসেবে কাজ পায়। এ কাজই তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার একমাত্র যোগ্যতা। অথচ বাদ পড়া আইরিশ করপোরেশন মালয়েশিয়া, বাহামা, কম্বোডিয়াসহ ১০টি দেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরির কাজ করছে। আর ভারতীয় কোম্পানি বিএলএস সাতটি দেশে এমআরপির কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ গ্রহণ করলেও কোনো তদন্ত না করেই ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে সারসংক্ষেপ পাঠায়। যদিও সারসংক্ষেপে অভিযোগ নিষ্পত্তির দাবি করা হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে