Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (45 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৭-২০১২

আব্দুর রাজ্জাকের চিকিৎসায় অবহেলার দায়ভার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এড়াতে পারেনা -নিউ ইয়র্ক থেকে সুব্রত বিশ্বাস

আব্দুর রাজ্জাকের চিকিৎসায় অবহেলার দায়ভার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এড়াতে পারেনা
-নিউ ইয়র্ক থেকে সুব্রত বিশ্বাস
বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম প্রাণপুরুষ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বিগত পাঁচ দশকের চলমান রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষীয়ান জননেতা আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন রোগভোগের পর গত ২৩শে ডিসেম্বর লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্খায় মহাপ্রয়ান ঘটেছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

প্রতিটি মানুষের জন্ম যেমন সত্য তেমনি মুত্যুও নিতান্ত অবধারিত এ মহাসত্য মেনে নিতেই হবে। তবে মৃত্যু নানা কারণে বয়সের বিভিন্ন স্তরে ঘটতে দেখা যায়। যেমন পরিণত বয়সের মৃত্যু, রোগভোগে অপরিণত বয়সের মৃত্যু, অকালমৃত্যু ইত্যাদি। জনাব আব্দুর রাজ্জাক মারা গেছেন ৬৯ বছর বয়সে। দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি ও লিভারের জটিল রোগে ভোগ্ছিলেন। স্বভাবত তার এ মৃত্যু পরিণত বয়সের মৃত্যু বলা যায় না। রোগভোগে অপরিণত বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে বলেই ধরে নেওয়া যায়। তবে এটুকু বলা যায়, যথাসময়ে রোগের যথাযথ চিকিৎসা করালে বহুক্ষেত্রে এই অপরিণত বয়সের মৃত্যু একান্তই ঠেকানো না গেলেও অন্তত দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় ন। তাই জনাব আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই সম্ভবনার প্রশ্নই আজ সকলকে পীড়িত ও ব্যথিত করেছে। এর যুক্তি ও কারণ যথার্থই অনস্বীকার্য। কেননা জনাব রাজ্জাক যে দু’টি জটিল রোগে ভোগছিলেন তার চিাকৎসার জন্য বিরাট অংকের অর্থের প্রয়োজন ছিল। এই বিরাট অর্থব্যয়ের যোগান দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই প্রতীয়মান। কারণ, আরো দশজন আওয়ামী লীগের ন্যায় তিনি অর্থে-বিত্তে ফুলে-ফেপে বিত্তবান ছিলেন না বা হননি। কেন হননি বা হতে পারেননি সে প্রশ্নে পরে আসছি। তবে অর্থের কথা চিন্তা করে যথাসময়ে যথাস্খানে চিকিৎসা গ্রহণে যাননি সেটাই সত্য। নিজের সীমিত সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে সুস্খ্য হওয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ সীমিত গন্ডির খন্ডিত এই চিকিৎসা রোগের বিস্তৃতিরোধে মোটেই সহায়ক ছিল না। ফলে ক্রমগতিতে রোগের বিস্তৃতি ঘটেছে পাশাপাশি উন্নততর চিকিৎসার প্রয়োজন আরো তরান্বিত ও অবধারিত করেছে। অবশেষে বাধ্য হয়ে নিজের এবং বন্ধু-বান্ধবের সহায়তায় ভারতে গেছেন সুচিকিৎসার আশায়। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ভারতের চিকিৎসাও তখন যথেষ্ট নয়। কারণ ইতিমধ্যে রোগ প্রবলভাবে বাসা বেধে ফেলেছে। দেখা দিয়েছে কিডনি পরিবর্তনের। ডাক্তারা পরামর্শ দিয়েছেন আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য উন্নত কোন দেশে যাওয়ার।

ফিরে এসেছেন ভারত থেকে। বিলেত যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংক থেকে ধার নিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংক লোন নেওয়া এবং অন্যান্য আনুসঙ্গিক প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যে আরো অনেক দেরি হয়ে গেছে। অবশেষে বিলেত গিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন কিংস কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও ডাক্তারদের একই বক্তব্য, অনেক দেরি হয়ে গেছে। তারা কিডনি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তনিয়েছেন। তাতেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। প্রথমে কিডনি পাওয়া যায়নি। অবশেষে দেশ থেকে এক সুহৃদ গেছেন তার কিডনি দান করতে। এবার দেখা দিল নতুন সমস্যা,কিডনি স্খাপনে তাৎক্ষণিক অপারেশনের জন্য শরীর উপযুক্ত নয়। এমনি এক পর্যায় আবার কিডনিদাতাও অসুস্খ হয়ে পড়েন। এসব জটিল পরিস্খিতি মোকাবেলার ব্যস্ততায় অবস্খার দ্রম্নত অবনতি ঘটতে থাকে। ডাক্তারদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে পড়ে। তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা সত্বে শেষ রক্ষা করা যায়নি। ২৩শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় জাতির বিবেক, সকলের একান্ত আপনজন আব্দুর রাজ্জাক দু:খ ও বেদনার দায়ভার আমরা অকৃতজ্ঞ বিবেহীনদের ওপর চাপিয়ে চলে গেছেন। অবসান ঘটেছে ৫০ বছরের উজ্জ্বল এক রাজনৈতিক জীবনের। বাংলাদেশের কক্ষ পরিক্রমায় থেমে গেছে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের।

জনাব আব্দুর রাজ্জাক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। একাধিক আসনে পাঁচ পাঁচবার নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ। প্রাক্তন পানিসম্পদ মন্ত্রী,বর্তমান সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি। বিশ্বশান্তি পরিষদ বাংলাদেশের প্রতিনিধি। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সংসদে দু-দু’বার সাধারণ সম্পাদক। স্বেচ্চাসেবক লীগের প্রধান। সামাজিক, রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শেরে বাংলা জাতীয় পুরস্কার, নেতাজী সুভাষ বোস আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস আন্তুর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এতসব বহু গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তারপরও তার চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্র বা সরকারী অনুদানের যোগ্য বিবেচিত হননি। অথচ রাজ্জাকের সমকক্ষ নন সাংবাদিক নির্মল সেন, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য্য, গোবিন্দ হালদার, আযম খান আরো অনেককে চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় অনুদান দেওয়া হয়েছে। অবশ্য তারাও সরকারী অনুদান পাওয়ার যোগ্য। অথচ জনাব রাজ্জাক অর্থাভাবে যথাসময়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি। তার চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্র সরকারী অনুদান দেয়নি, সরকার যথাযথ ব্যবস্খা বা উদ্যোগ নেয়নি এই দু:খ বেদনা আজ সমগ্র জাতির। অভিযোগ উঠেছে, জনাব রাজ্জাককে যে দু:খ-বেদনা ও কষ্ট নিয়ে চলে যেতে হয়েছে, তার দায়ভার প্রধানমন্ত্রী কিংবা তার দল আওয়ামী লীগ এড়াতে পারেন? নিজের নামে জমি দান করায় ময়মনসিংহের কৃষককে দালানকোটা বানিয়ে দেবেন, নিজে গিয়ে ঘটা করে তার উদ্বোধন করবেন ভাল কথা। আত্মীয়স্বজন পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া অসহায় অনাতদের নিজের মেয়ের আদরে স্খান দিয়ে ধুমধামে বিয়ে সাদি দেবেন সেটাও আনন্দের বিষয়। এতে কারো আপত্তির কোন কারণ নেই। এটাই তো জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রীরদায়িত্ব। এসব ঘটনায় মানুষ আপনাকে বাহ্বা দিয়েছে। আপনার মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। তবে আব্দুর রাজ্জাকের চিকিসার ক্ষেত্রেআপনার অবহেলা ও ঔদাসিন্য আপনি এবং আওয়ামী লীগের মুখ উজ্জ্বল করেনি।

অস্বীকার করার উপায় নেই দলের পেছনে আরো দশজন আওয়ামী লীগের ন্যায় আব্দুর রাজ্জাকের শ্রম, মেধা, ঘাম, জেল-জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতনও জড়িয়ে আছে। আপনি সে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সম্ভবত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার প্রস্তুতি মুহূর্তে জাতীয় পার্টির কাজী জাফর আহমদ পত্রিকায় জনাব রাজ্জাকের অর্থকষ্টের ব্যাপার নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন। তিনি দু:খ করে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, রাজ্জাকের চিকিৎসা ব্যয়ভার কেন রাষ্ট্র বহন করবে না? তারপরও বিষয়টি আপনি জানেন না, জানবেন না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আপনি রাষ্ট্রের প্রধান ও দলীয় প্রধান হয়েও আপনার সহকর্মী এবং নেতা আব্দুর রাজ্জাকের চিকিৎসার জন্য সরকারী তহবিল থেকে একটি কপর্দকও আপনি বরাদ্ধ দেননি এটাই বাস্তব সত্য। সেকারণেই জাতির সকল অভিযোগের তীর আপনার এবং দলের দিকে। শাহরিয়ার কবির সহ অনেকেই মরদেহের প্রকাশ্য মিছিলে সাংবাদিকের কাছে এ অভিযোগ করতে দেখা গেছে। সুতরাং এই দায়িত্ব ওকর্তব্য পালনে অবহেলার দায়ভার আপনি এড়াতে পারেন না।

আব্দুর রাজ্জাক বঙ্গবন্ধুর একান্ত ঘনিষ্টজন। বঙ্গবন্ধুর দুর্দিনে এক পর্যায় আপন ভাগ্নে ফজলুল হক মনি তাঁর বিরম্নদ্ধে চলে গেছেন। কিন্তু অকৃতজ্ঞ হতে পারেননি আব্দুর রাজ্জাক। তার প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে যেতে পারেননি, কারণ তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ও একান্ত আপন। তার অন্তরে লালন করতেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। আপনার আশেপাশে অনেকেই আছেন যারা লালন করেন না। জনাব রাজ্জাক ছিলেন অসাম্প্রদায়িক গ্রগতিশীল চিন্তা-চেতনা ও নীতি-আদর্শে অবিচল। ব্যক্তিগত জীবনে একজন সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি অন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গভীরভাবে লালন করতেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত পরিস্কার এবং অটল। এব্যাপারে তার চিন্তা ও চেতনায় কোন খাদ ছিল না। অথচ আপনি এবং অনেকের চেতনায় যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। জনৈক সাংবাদিক তার স্মৃতিচারণে উলেস্নখ করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে উপস্খিত থাকলেও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কোন দিনই বৈঠক করেননি। দলের বৈঠক শেষে জামায়াত-জাতীয় পার্টির নেতারা উপস্খিত হলেই বিনয়ের সঙ্গে বের হয়ে যেতেন। একারণে কোন যৌথ ব্রিফিংয়ে রাজ্জাক ভাইকে কখনও দেখা যায়নি। সংসদ ভবনে এক বৈঠক শেষে তিন দলের বৈঠকের প্রস্তুতির সময় চুপি চুপি বের হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পিছু নিলাম তাঁর। পেছন থেকে ডাকতেই চিরায়ত সেই হাসি। কাঁধে হাত দিয়ে কুশল জানতে চাইলেন। বৈঠক থেকে কেন বের হয়ে যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, যতদিন বেঁেচ থাকব যুদ্ধাপরাধী জামায়েতের সঙ্গে যেন আমাকে বসতে না হয়। এটি তার দলের সিদ্ধান্তের বিরম্নদ্ধে অবস্খান কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দল দলের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলীয় ফোরামে আমি এর বিরম্নদ্ধে বক্তব্য দিয়েছি। এটাকে ‘নোট অব ডিসেন্ট‘ বলতে পার। আমি আমার নিজের সিদ্ধান্তে অটল। ‘আমি ওদের সঙ্গে বসবো না। কথাগুলো বলেই তিনি এসব লিখতে মানা করে দিলেন। বললেন, ‘তোমাকে সত্য কথাটি বলেছি। পত্রিকায় লেখালেখি হলে আন্দোলনের ক্ষতি হবে। এতে লাভবান হবে অগণতান্ত্রিক শক্তি। আমরা চাই তত্ত্ববধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হোক। দেশের গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপলাভ করম্নক। গণতন্ত্রের বিজয় হলে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি একদিন এমনিতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।‘ রাজনৈতিক অঙ্গনে এটাই ছিল তার ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার নীতি, আদর্শের ক্ষেত্রে কখনো আপোষ করেননি।

আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ভীত খূনীচক্র তাঁকে তিন বছর জেলে আটকে রেখেছে।২১শে আগষ্টের রক্তাক্ত ঘটনায়ও তাঁর রক্ত ঝরেছে। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, সেই রক্তাক্ত অবস্খায় সেদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এখন দেশের কি হবে? উত্তর ছিল, নেত্রী কোথায়, তাকে আগে রক্ষা করম্নন। সে না বাঁচলে দেশ রক্ষা করা যাবে না। এরা দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতেই এই আক্রমণ করেছে। অথচ এই মহান হৃদয়ের ব্যক্তির প্রতি আপনার চরম অকৃতজ্ঞতা এর চেয়ে বেদনার আর কি হতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার আশেপাশের মন্ত্রী এমপি, বিশিষ্ট নেতা নেত্রী আপনাকে ঘিরে অর্থে বিত্তে ফুলে ফেপে সকলেরই স্বাস্খ্যের উন্নতি হয়েছে। তারা অসুখ-বিসুখে সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক যেতে আপনাকে অবশ্যই বিরক্ত করেন না। তবে তাদের উন্নতির খবরাখবর মাঝে মধ্যে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেলে নিশ্চয়ই আপনাকে বিব্রত হতে হয়। অর্থ বিত্ত হয়নি জনাব রাজ্জাকের। এটাই তার অযোগ্যতা। না, এটা তার সততা। এটা তার জীবনের আদর্শ ও অলংকার। এ অলংকারই্র তার মৃত্যুতে জাতির চোখে অশ্রু ঝরিয়েছে। অশ্রুসজল কণ্ঠে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, কোন রাজনৈতিক দল বা নেতা সাম্প্রতিককালে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি, রাজ্জাকভাই মৃত্যুর ভেতর দিয়ে সে দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন। তার মৃত্যু দলমত নির্বিশেষে সকলকে এক জায়গায় সমবেত করেছে। এ জমায়েতই প্রমাণ করে আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন সবকিছুকে চাপিয়ে একজন জননেতা।

প্রসঙ্গত আরো বলতে ইচ্ছে করে, এভাবেই তো জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ সহ আরো অনেকেই চরমভাবে অবহেলিত হয়ে আসছেন। কেন আওয়ামী লীগ তাজউদ্দিন আহমদের জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন উপেক্ষা করে এবং কেন সেটা ঘটা করে আওয়ামী লীগকে পালন করতে দেওয়া হয়না? বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্বের ইতিহাস যেমন হয়না, তেমনি তাজউদ্দিন আহমদকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস রচিত হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু সর্বাগ্রে স্খান পাবেন এতে কোন দ্বিমতের অবকাশ নেই। শেখ কামাল, জামাল, বেগম মুজিব তারাও যথাযথ স্খান পাবেন। কিন্তু তাজউদ্দিনসহ অন্যরাও যথাযথ সম্মান ও স্খান পেতে এত ঔদাসিন্য এবং সংকীর্ণতা কেন? আরও বলতে ইচ্ছে করে, মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ ছাড়া ছাত্রইউনিয়ন, ন্যাপ, কমিউনিষ্ট পার্টির ভূমিকা ও অবদান কি অস্বীকার করা যাবে? অস্বীকার করা যাবে সেসব দলের নেতা মোজাফফর আমহদ, মণি সিংহ ও অন্যদের অবদান? তারাও তো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ। সুতারাং এসব দল ও নেতাদের বেলায় একই সংকীর্ণতা কেন? অন্যকে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ দেয়া গেলে এটাও কি ইতিহাস বিকৃতির পর্যায় পড়ে না?

আরেকটি বিষয়, জনাব আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এক কাতারে সমবেত করলেও নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগ সংকীর্ণতার কুপমন্ডপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তারা নিজেরা নিজেদের খন্ডিত অবস্খান থেকে যার যার করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এমনি এ বি সি ডি নামক খন্ডিত একটি অংশের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলাম। উপস্খিত যতজন বক্তাও ততজন। শুরম্নতেই মুক্তিযোদ্ধারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে নির্লজ্জ অমুক্তিযোদ্ধাদের ভিড়ই বেশি লক্ষণীয় ছিল। তারপর একই ব্যক্তিকে আবার বার বার বিভিন্ন সংগঠনের হয়ে ফুল দিতে দেখা গেছে। অর্থাভাবে জনাব রাজ্জাকের যথাযথ সুষ্ঠু চিকিৎসা হয়নি এ অভিযোগের দায় নিজেরা স্বীকার করে দল ও সরকারকেও সমভাবে দায়ী করেছেন বটে, তবে জনাব রাজ্জাকের চিকিৎসায় ব্যয়িত ঋণ শোধের ব্যাপার তারা সকলেই সতর্কতার সাথে এড়িয়ে গেছেন।

সমাজে আজ মায়াকান্না ও নকলবাজদের সংখ্যাই বৃদ্ধি বেশি করে ঘটছে। আব্দুর রাজ্জাকদের মতো ত্যাগী আদর্শবান, সৎ নীতিনিষ্ঠ লোকদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। এইতো ক’দিন আগে চলে গেলেন প্রতিথযশা ব্যক্তিত্ব সর্বজন শ্রদ্ধেয় জনাব কবীর চৌধুরী। সমাজ বা রাষ্ট্র তাদের যথাযথ মূল্যায়ন কতটুকু করতে পেরেছে। অথচ এরা এবং এদের অমর কীর্তিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস। সুতরাং ভবিষ্যতে আর কোন রাজ্জাককে যেন অবহেলা, অযত্ন, আর উপেক্ষায় অপরিণত বয়সে চলে যেতে না হয়। রাষ্ট্র ও সমাজ যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে।
    
 

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে