Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৭-২০১৪

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদের সব ব্যয় বহন করবে রাষ্ট্র

জাকিয়া আহমেদ


প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদের সব ব্যয় বহন করবে রাষ্ট্র

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি- ৫৩ হাজার ১০০ টাকা মাসিক বেতন, সম্পূর্ণ করমুক্ত। সুসজ্জিত অফিস কক্ষ, বিদেশ ভ্রমণ, ভ্রমণের জন্য বিশেষ ভাতা, ইন্সুরেন্স, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা এসব কিছু চলবে সরকারি খরচে। তাকে ঘিরে থাকবেন ১১ জন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারী। দেশ বিদেশে যোগাযোগের জন্য তার বাসা ও অফিসের টিএনটি ফোনের এবং হাতে রাখা মোবাইল ফোনের সব বিল দেবে সরকার। থাকবে সার্বক্ষণিক গাড়ি। চাইলে সুসজ্জিত সরকারি বাড়ি পাবেন। না চাইলে পাবেন ভাড়া আর রক্ষণাবেক্ষণবাবদ ভাতা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে এসব সুযোগ-সুবিধা থাকবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান এবার মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পাবেন অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধাও।

গত ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই দিন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

এরশাদ ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।  

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যান। তিনি তারপর একেক সময় একেক কথা বলে মিডিয়ার নজর কাড়েন।

নির্বাচনের আগেই ঘটে নানান ঘটনা। একসময় জাতীয় পার্টির মনোনয়ন জমাদানকারীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে আদেশ দিলেও তিনি নিজে সেটি করেননি।

গত ১২ ডিসেম্বর রাতে র‌্যাব পুলিশের একটি দল এরশাদকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচ এ চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেয়। যদিও এরশাদের পক্ষ থেকে দাবি কর‍া হচ্ছিলো,  তিনি সুস্থ। তাকে চিকিৎসা নয় আটক করা হয়েছে।

আর পুরো বিষয়টিতে নিরব থাকে সরকার।

নির্বাচনের পরেও শুরু হয় নতুন নাটক। তারই অংশ হিসেবে অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ না নিয়ে দুই দিন পর একা শপথ পাঠ করেন এরশাদ। এর মধ্যেই সেরে ফেলেন আলাপ-আলোচনা। তাতেই তার এই অর্জন। মন্ত্রীর মর্যাদায় বিশেষ দূত।   

এর আগে এমন বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. ফারুক সোবহান। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালের মে মাসে ওয়াশিংটন এবং নিউইয়র্ক সফরও করেন তিনি।

সূত্রমতে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদেরও রয়েছে বিদেশে যাওয়ার প্রগাঢ় ইচ্ছা।

জাতীয় পার্টি এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দশম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি এরশাদের পক্ষে থাকছে না। তারা এরশাদের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছদ্যও বোধ করছেন না। এ অবস্থায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের বাইরে চলে যেতে ইচ্ছা পোষণ করছেন। আর এরই প্রেক্ষিতে এরশাদকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে দেশে থাকুন কিংবা বিদেশে থাকুন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাবেন এইচএম এরশাদ। এরইমধ্যে সরকারি সুযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে পুলিশ প্রোটোকল দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু যখন তাকে বিশেষ দূত করার প্রসঙ্গ তোলা হয় তখনই ফোন লাইনটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার তাকে ফোন করলেও তিনি আর ফোনটি রিসিভ করেন নি।
 
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তাকে আসলে কোথাও পাঠানো হবে না। একটি পদ তাকে দেওয়া হয়েছে সম্মান করে।

আরেকটি সূত্র বলছে, শিগগিরই মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরে পাঠানো হতে পারে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে।   

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে