Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৭-২০১৪

পাটগ্রামে জামায়াত-শিবিরের আগুনে ২১ পরিবার গৃহহীন

আহমেদ রাজু


পাটগ্রামে জামায়াত-শিবিরের আগুনে ২১ পরিবার গৃহহীন

লালমনিরহাট, ১৭ জানুয়ারি- জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের মির্জারকোটের ২১ পরিবার গৃহহীন।

গত ১৫ ডিসেম্বর দুই গ্রামের ওই বাড়িগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে জামায়াত-শিবির। তীব্র শীতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই।

পুলিশের গুলিতে ওই দিন জামায়াত-শিবিরের চার কর্মী নিহত হন। এর জের ধরে পাটগ্রাম উপজেলা শিবিরের সভাপতি সোহেল রানার নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার কর্মী একযোগে ওই দুই গ্রামে হামলা চালায়।

জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা প্রথমে দুই গ্রামের নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে অতর্কিতে হামলা ও লুটপাট চালায়। লুটে নেয় নগদ টাকা-পয়সা, সোনার গহনা ও মূল্যবান আসবাবপত্র। গ্রামের নিরীহ মানুষদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করে দেয়।

এরপর পেট্রোল ও গান পাউডার দিয়ে বাড়িগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার সময় ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা জীবন রক্ষায় যে দিকে পারেন, ছুটে পালিয়ে যান। তারা দৌড়ে কয়েক গ্রাম দূরের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। তাদের অনেকেই এখনো ভয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর ১৮ দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে রাস্তায় নামে জামায়াত-শিবির। সকাল থেকেই তারা পাটগ্রাম সরেঅ বাজার রেলগেটে জড়ো হতে থাকে।

সকাল নয়টার দিকে রেললাইনের ওপর অবস্থান নেয় তারা। পাটগ্রাম থেকে নীলফামারী যাওয়ার রাস্তা তারা বন্ধ করে দেয়। রাস্তার ওপর তারা বিক্ষোভ করতে থাকে।

একই সময়ে পাটগ্রাম থেকে একটি ট্রেন আসছিল। ট্রেনটির যাওয়ার কথা ছিল লালমনিরহাটে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এ সময় ট্রেনটি থামিয়ে দেয়। ট্রেনের চালককে সামনে যেতে বাধা দেয়। জামায়াত-শিবিরের বাধার মুখে ট্রেনটি আবার পাটগ্রাম ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন চালক।  

ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার কথা শুনে সেখানে পুলিশ ছুটে আসে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তখন রেললাইনের ওপর অবস্থান নেয়। পুলিশ এসে তাদের রেললাইন থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। সরে না গিয়ে তারা বরং পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

দেশিয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর তারা আক্রমণ চালায়। এরপর বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি ছোড়ে। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শিবিরের তিন কর্মী নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয় আরেকজন। সেই দিনই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, পুলিশের গুলিতে তিন কর্মী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আরো মারমুখী হয়ে ওঠে। তারা সরেঅ বাজারের আশপাশের বাড়িঘরে লুটপাট শুরু করে। তারপর তারা ওই বাড়িগুলোয় আগুন লাগিয়ে দেয়।  

তারা বাড়িঘর লুটপাট ও আগুন দিতে দিতে মির্জারকোট গ্রামের দিকে যেতে থাকে। গ্রামটিতে গিয়ে তারা নূরুল ইসলামের টিনশেড বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে তারা বাড়ির মালামাল  লুট করে। এরপর বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মুহূর্তের মধ্যে নূরুল ইসলামের বাড়ির আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ির সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

বাড়িটিতে গিয়ে কথা হয়, নূরুল ইসলামের বড় ছেলে সামিনুর রহমান সানুর সঙ্গে। তিনি পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন বাবুলের গাড়িচালক।

আওয়ামী লীগ নেতার গাড়ি চালানোর কারণেই জামায়াত-শিবির তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান সানু।  

বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, রান্নাঘর বাদে বাড়ির সব ঘরই পুড়ে গেছে। বাড়িতে থাকার কোনো অবস্থা নেই। তাই, নূরুল ইসলাম থাকেন রান্নাঘরে এবং বড় ছেলে সানু থাকেন চাচার বাড়িতে।

অন্য দুই ছেলে স্ত্রীর সঙ্গে শ্বশুর বাড়ি চলে গেছেন। জামায়াত-শিবিরের দেওয়া আগুনে নূরুল ইসলামের পরিবার এখন গৃহহীন।

পাশের বাড়ির বাসিন্দা মিলন হোসেনের বাড়িও জ্বালিয়ে দিয়েছে জামাত-শিবির। মিলনের বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। পাঁচ ভাই থাকেন এক বাড়িতেই। বাড়িতে আগুন দেওয়ার পর শুধু পরনের কাপড় নিয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

তাদের সহায়-সম্বল সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মিলন জানান, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগুন দেওয়ার পর বাড়ির সামনেই অবস্থান নেয়। বাইরের কাউকেই সেখানে আসতে দেয়নি তারা।

তিনি জানান, গ্রামবাসী আগুন নেভাতে এগিয়ে এলেও তাদের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পর দুপুর বারোটার দিকে চলে যায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে, পাটগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কুদরত-ই-এলাহী বাবুলের বাড়িও পুড়িয়ে দিয়েছে জামায়াত-শিবির। বাড়িটির চারপাশ সুরক্ষিত দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বাড়ির মূল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

ঘরে ঢুকে তারা আলমারি, শোকেস ও লকার ভেঙে লুটে নেয় মূল্যবান মালামাল। তারপর ঘরের কাপড়-চোপড় ও আসবাপত্র তছতছ করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আগুন দেওয়ার পর সবাই প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির উঠানে রাখা জাপা নেতার মাইক্রোবাসটিও পুড়ে যায়। আগুন দেওয়ার সময় জাপা নেতা বাবুল বাড়ি ছিলেন না। তাকে পেলে জামায়াত-শিবির হত্যা করতো জানান বাবুলের পরিবারের সদস্যরা।

বড়খাতা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নূর এ এলাহী বকুলের বাড়িও পুড়িয়ে দিয়েছে জামায়াত-শিবির। বকুল জানান, তিনি কোনো রাজনীতি করেন না।

আওয়ামী লীগ নেতার প্রতিষ্ঠিত কলেজে চাকরি করেন তিনি। তার ছোট ভাই কাদের এলাহী লাভলু পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক। এটিই তার অপরাধ। এ কারণেই তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে ঢুকে ছোট ভাই লাভলু কোথায় জানতে চান। লাভলুকে হত্যা করতেই তারা তাকে খুঁজছিল বলে জানান অধ্যক্ষ বকুল।

বকুল জানান, তার ছোট ভাই লাভলুর বাড়িও জ্বালিয়ে দিয়েছে জামায়াত-শিবির। আগুন দেওয়ার আগে তার এবং ছোট ভাই লাভলুর বাড়িও লুট করেছে জামায়াত-শিবির।

নগদ টাকা-পয়সা, গহনা এবং ঘরের মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিয়ে গেছে। তারপর পেট্রোল ও গান পাউডার দিয়ে বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে বলে জানান তিনি।

অধ্যক্ষ বকুল আরো  জানান, তার বাড়ি থেকে থানার দূরত্ব ৫ মিনিটের পথ। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করে জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু, পুলিশ আসেনি। পুলিশ এসেছে আগুন লাগার দুই ঘণ্টা পর।
তখন আগুনে পুড়ে সব কিছুই শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এভাবে পর পর একুশটি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। অথচ পুলিশ আসেনি।

পুলিশ না আসায় ঘটনাটিকে তারা সন্দেহের চোখে দেখছেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে