Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৭-২০১৪

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জীবনাবসান

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জীবনাবসান

কলকাতা, ১৭ জানুয়ারি- বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন মারা গেছেন। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শ্বাসকষ্টের কারণে গত ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুচিত্রা সেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তিনি সর্দি, জ্বর, কাশি আর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। নিশ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় এই অভিনেত্রীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে ডা. সুব্রত মৈত্রের তত্ত্বাবধানে ছিলেন সুচিত্রা সেন।

এর আগে ২০০৭ সালের অক্টোবর, ২০০৮ এর ফেব্রুয়ারি এবং ২০১০ সালের জুন মাসে চিকিৎসক মৈত্রের অধীনেই তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সুচিত্রা সেনের বয়স ছিল ৮২। গত ২৬ দিন ধরে বাঙালির প্রিয় এ নায়িকা কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় তথা বাংলা সিনেমার একটা স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

বাংলাদেশের পাবনায় জন্ম নেয়া ও শৈশব কৈশোর কাটানো সুচিত্রার এ অসুস্থতাকালে তার মৃত্যুর আশঙ্কায় আচ্ছন্ন ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সুচিত্রা ভক্তরা।  গত মঙ্গলবার রাতে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে পাবনার রফিকুল ইসলাম বকুল মুক্তমঞ্চে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।

অবিভক্ত ভারতের অধুনা বাংলাদেশের পাবনা জেলায় ১৯৩১ সালে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রমা দাশগুপ্ত। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে বর্ধিষ্ণু শিল্পপতি পরিবারের সন্তান দিবানাথ সেনকে বিয়ের সূত্রে কলকাতায় চলে যান পাবনার রমা। বিয়ের পরে ১৯৫২ সালে ‘শেষ কথায়’ সিনেমায় রুপালি পর্দায় নায়িকা হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ তাঁর। পাবনার রমার নাম বদলে হয় সুচিত্রা। আর তার পরেরটা শুধুই ইতিহাস। মুনমুন তাদের একমাত্র সন্তান।

সুচিত্রা সেনের অভিনয় অনন্য অভিনয় শৈলীতে বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকার সংজ্ঞাটাই বদলে যায়। তার চাহনি, কটাক্ষ, হাসি অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতা। এসময় তৈরি হয় অবিস্মরণীয় উত্তম-সুচিত্রা জুটি। মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে উপহার দিয়েছিলেন একের পর এক সুপারহিট ছবি। বস্তুতি এ জুটিই বাংলা চলচ্চিত্রে এক স্বর্ণযুগের সূচনা করে। উত্তম-সুচিত্রা জুটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ জুটি হিসেবে পরিচিত।

ওপার কিংবা এপার-দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়তা পাওয়া এ অভিনেত্রী একটা পর্যায়ে হয়ে যান লোক চক্ষুর আড়াল। কিন্তু দর্শকের মনে এক অনন্ত যৌবনা নায়িকা হিসাবে বেশ সুপরিচিতি পান তিনি। এই জন্যই হয়ত তিনি কোন ফটোসাংবাদিকের সামনে নিজের চেহারা দেখাতে চাননি কখনো।

১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ নামে চিলচ্চিত্র দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রুপালী জগতের যাত্রা শুরু হয় সুচিত্রা সেনের। হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেও সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

‘দেবদাস’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ১৯৫৫ সালে জাতীয় পুরষ্কারও অর্জন করেন তিনি। ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে এসে ‘আন্ধি’ ছবিতে রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন সুচিত্রা। স্বামী মারা যাওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন নেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। 

‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ১৯৬৩ সালে ‘মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পান তিনি। আর এই সম্মানের মধ্য দিয়ে প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরষ্কৃত হন সুচিত্রা সেন।

১৯৭৮ সালে ‘প্রণয় পাশা’ ছবিতে সর্বশেষ অভিনয় করেন সর্বকালের জনপ্রিয় এই নায়িকা। এরপর আকস্মিকভাবেই জীবনের ইতি টেনে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান তিনি। পরিবারের লোকজন ছাড়া আর কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না।

২০০৫ সালে সুচিত্রাকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হলেও ভারতের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নিতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দিল্লি যেতে রাজি হননি তিনি। ফলে তাকে আর পুরস্কারটি দেয়া হয়নি।

কলকাতায় তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে মেয়ে ও দুই নাতনি রিয়া সেন ও রাইমা সেন ছাড়া মাত্র গুটিকয়েক পারিবারিক বন্ধুরই প্রবেশাধিকার ছিল।

তার অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র : সাড়ে  চুয়াত্তর (১৯৫৩), ওরা থাকে ওধারে (১৯৫৪), অগ্নিপরীক্ষা (১৯৫৪), শাপমোচন (১৯৫৫), সবার উপরে (১৯৫৫), সাগরিকা (১৯৫৬), পথে হল দেরি (১৯৫৭), হারানো সুর (১৯৫৭), দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯), সপ্তপদী (১৯৬১), বিপাশা (১৯৬২), চাওয়া-পাওয়া, সাত-পাকে বাঁধা (১৯৬৩), শিল্পী (১৯৬৫), ইন্দ্রাণী (১৯৫৮), রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত (১৯৫৮), সূর্য তোরণ (১৯৫৮), উত্তর ফালগুনি (১৯৬৩) (হিন্দিতে পুনঃনির্মিত হয়েছে মমতা নামে), গৃহদাহ (১৯৬৭), ফরিয়াদ, দেবী চৌধুরানী (১৯৭৪), দত্তা (১৯৭৬), প্রণয় পাশা প্রভৃতি।

 

 

 

 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে