Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৭-২০১৪

ছয় মাস সহিংস কর্মসূচি এড়িয়ে চলবে বিএনপি

ছয় মাস সহিংস কর্মসূচি এড়িয়ে চলবে বিএনপি

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি- আগামী ছয় মাস যতটা সম্ভব সহিংস কর্মসূচি এড়িয়ে আন্দোলন চালানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ‘বাধ্য না হলে’ এ সময়ের মধ্যে টানা হরতাল-অবরোধ দেওয়ার চিন্তা নেই। 
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন হরতাল দেওয়ার বিষয়ে ১৮-দলীয় জোটের কোনো কোনো শরিক দল প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু সহিংসতা এড়িয়ে চলার নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এ প্রস্তাব আমলে নেননি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে সরকার বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে না দিলে তখন ভিন্ন চিন্তা করবে দলটি।
গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যেও আপাতত ধীরে চলার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি হরতাল-অবরোধ অব্যাহত রেখে সরকারকে চাপে ফেলার পুরোনো অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এর পরিবর্তে দলটি সংগঠিত ও দলের প্রতি আস্থা বাড়ানোর জন্য সময় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে দলের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। 
ওই নেতারা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে বিএনপি। সেটি বিবেচনায় নিয়ে দলটি আগামী ছয় মাসের জন্য একটি কর্মপন্থা নির্বাচন করেছে। এই সময়ের মধ্যে বিএনপি নির্বাচন ও সংলাপ নিয়ে সরকারের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের দাবির আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোরও পদক্ষেপ নেবে। তাদের লক্ষ্য, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সরকারকে আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য চাপে রাখা।
তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার ব্যাপারে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না বিএনপি। দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে ১৮-দলীয় জোট ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে সরকার জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার কথা বলছে। নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের থাকা না-থাকার কোনো সম্পর্ক নেই।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি নির্বাচন হয়ে গেছে। যদিও এটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। তার পরও বর্তমান সরকারকেই সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আলোচনা শুরু করতে হবে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সরকারকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।
বিএনপির দপ্তর থেকে জানা গেছে, এ মুহূর্তে টানা হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে ক্রিকেটের কয়েকটি বড় আসর বসার কথা আছে। তাই আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা শেষ হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সমাবেশ ও গণসংযোগের মতো কর্মসূচি পালনের সম্ভাবনা আছে।
যে কারণে ধীরে চলা নীতি: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। দলটির মূল্যায়ন হলো, দশম সংসদ নির্বাচন পণ্ড করতে পারলে বিএনপির চূড়ান্ত বিজয় হতো। তার পরও আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের একটা বড় অর্জন হয়েছে বলে নেতারা মনে করেন। আর তা হলো, একতরফা এ নির্বাচনকে দেশে-বিদেশে অগ্রহণযোগ্য করাতে পেরেছে। এ কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপ-সমঝোতার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। 
বিএনপির নেতারা মনে করেন, একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এ সরকারকে যতই ‘অবৈধ সরকার’ বলা হোক না কেন, এ সরকারের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার উপায় নেই। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন হবে—এমন আশা করাটাও অবাস্তব। আবার, হরতাল-অবরোধ চলাকালে সহিংসতা দেশে-বিদেশে কেউই ভালোভাবে নেয়নি। এই অবস্থায় আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সরকারকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চাপে রাখতে আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। এ ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন ও দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে সহিংস কর্মসূচি এড়িয়ে চলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে