Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৭-২০১৪

যেভাবে থেমে গেল নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড

যেভাবে থেমে গেল নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি-  প্রবাসীদের হয়রানির ঘটনা পুরনো হলেও ধীরে ধীরে তা কমার বদলে যেন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে কথা হয় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে। এখানকার বংলাদেশ দূতাবাসে এলে কেমন অসহায় অবস্থা হয় তা না দেখলে উপলব্ধি করতে পারবে না কেউই।

যাদের ঘামঝরানো রেমিটেন্স সঙ্কটময় অবস্থায়ও দেশের রাজস্ব ধরে রেখেছে এবং যাদের অর্থে চলে বাংলাদেশ মিশনগুলো, তারা কতটুকু সেবা পেয়ে থাকে এই দূতাবাস বা মিশনগুলো থেকে, তার তদারকি করছে না কেউই। কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বার বার, তবে এ নিয়ে মাথা ঘামায়নি কেউই। বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বা কোনো মন্ত্রী কাতার সফর করলেও খতিয়ে দেখছেন না তারাও। তাদের পাশে একটি চেয়ারে বসার সুযোগ পাওয়ার আশায় সব অভিযোগ ভুলে যান আমাদের স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কমিউনিটির কথিত নেতারা।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার শর্তে প্রধানমন্ত্রী বা অন্য মন্ত্রীদের পাশে প্রবাসী নেতাদের চেয়ারের বসার সুযোগ পাইয়ে দেন। কেননা চেয়ার বণ্টন করার বিশেষ ক্ষমতা একমাত্র দূতাবাসের বড়কর্তার হাতে। তাই কোনো অভিযোগ উপর মহলে যাওয়ার কোন প্রকার সুযোগ নেই।

সদ্য বদলি হওয়া ১ম সচিব মাকসুদুর রহমান থাকাকালে সাধারণ প্রবাসীদের সমস্যা কিছুটা দেখলেও, বর্তমান ১ম সচিব (শ্রম) সাইফুল আজিম এর কাজের মান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ প্রবাসী বংলাদেশিদের। বিভিন্ন মহলে সমালোচনার হচ্ছে নবাগত এই ১ম সচিবকে নিয়ে। তিনি যে একজন মহামান্য প্রতিনিধি সেটা জাহির করতেই তার সময় চলে যায়।

আগে (শ্রম) সচিব  ১ জন থাকলেও সেবার মান বৃদ্ধির প্রয়াসে বর্তমানে দু’জন (শ্রম) সচিব  নিয়োগ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তথাপিও কমেছে সেবার মান, বেড়েছে নির্মমতা। কাতার সরকার ভিনদেশিদের মত বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য হারে সুযোগ সুবিধা দিলেও সেবা দিতে নারাজ কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখি, এক প্রবাসী তার পরিবার কাতারে আনতে কাবিননামা সত্যায়িত করতে দূতাবাসে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অসহায়ের মত দূতাবাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কোনো সমস্যা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার পরিবার ২০০১ সালে একবার এসেছিল। এই যে সেই পেপার। দূতাবাস তখন এই পেপার সত্যায়িত করছে। এখন আবার ফেমিলি ভিসার জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত। শুধু দূতাবাস সত্যায়িত করলে ভিসাটা পেয়ে যাবো। কিন্তু দূতাবাস তা করতে নারাজ।

তিনি বলেন, আমি বিগত সালের পেপার দেখিয়েছি, এই দেখেন আপনাদের সিল, স্ট্যাম্প, সাইন, তারিখ সব আছে। কিন্তু নবনিযুক্ত ১ম সচিব সাইফুল আজিম বলেছেন, যিনি সত্যায়িত করেছেন তিনিই ভুল করেছেন, আমি ভুল করতে পারব না।

কে যে ভুল করেছেন, আর কে সঠিক করছেন, এটাই প্রশ্ন কাতারপ্রবাসী ভুক্তভোগীদের।

দূতাবাসের সামনে একই দিন দেখা মেলে এক প্রবাসীর, যিনি পাসপোর্ট হারিয়ে হয়রান হচ্ছেন।

তিনি বলেন, দু’মাস আগে আমার পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে। ৫ দিনের মধ্যে আমার কফিল (স্পন্সর) তার পেপার্স ও পুলিশ পেপার্স রেডি করে দিয়েছে। তারপর থেকে প্রায়ই আসতে হচ্ছে দূতাবাসে। সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর আমার সিরিয়াল এলে বিভিন্ন অযুহাত দিচ্ছে দূতাবাস থেকে। কবে নাগাদ আমার পাসপোর্ট পাব তাও সঠিকভাবে বলতে পারছে না দূতাবাসের কেউ।

তিনি আরো বলেন, আর ১৫ দিনের মধ্যে যদি পাসপোর্ট না পাই, আমাকে দেশে চলে যেতে হবে।

অপর এক প্রবাসী বলেন, আমাদের কষ্ট কেউ কখনও বোঝে না। বোঝার চেষ্টাও করে না। বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে কোনো জায়গায়ই আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।

এ নিয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

অনেকেই বলছেন, কাউন্সিলর নাসির উদ্দীন ও প্রথম সচিব সাইফুল আজিম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের না। অন্য মন্ত্রণালয় থেকে তদবির করে এ মন্ত্রণালয়ে এসেছেন।

নব নিযুক্ত প্রথম সচিব বলেন, দূতাবাসে জনবল কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না, তবুও আমাদের সাধ্য অনুযায়ী সেবা দিতে চেষ্টা করছি। এম আর পি পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা অভিযোগ। একটি নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পেতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ৬/৭ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এমনি করেই আরো নানাভাবে একে একে হয়রানির শিকার হয় কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।

মিডিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে