Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৬-২০১৪

তরুণরা তোমরা এগিয়ে আসো

তরুণরা তোমরা এগিয়ে আসো

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি- অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, আমি তরুণদের অনুরোধ করবো, তোমরা আমাদের সাহায্য করো। তরুণরা তোমরা এগিয়ে আসো। তোমরা পরিকল্পনা করো, কীভাবে কাজটা শুরু করা উচিত। আমি হতাশ হতে চাই না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সংখ্যালঘুদের ওপর সন্ত্রাস-সহিংসতা রুখে দাঁড়াও: রাষ্ট্রিক ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই জাফর ইকবাল ১৯৭১ সালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সে সময়ে আমরা পরিবার নিয়ে একজনের আশ্রয়ে আছি। তো হঠাৎ করে দেখলাম, একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রাণের ভয়ে ছুটে যাচ্ছেন। কারণ হলো, পাকিস্তানি মিলিটারিরা আক্রমণ করেছে। সেই সময়ে আমার মা সেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে থামিয়ে কিছু অর্থ সাহায্য করার চেষ্টা করলেন।

তখন আমরা যে পরিবারের আশ্রয়ে আছি সেই পরিবারের মানুষটি আমাদের কাছে এসে বললেন, আপনি এইটা কী করছেন, আপনি তো বিধর্মীদের সহযোগিতা করছেন। ওদের টাকা-পয়সা দিলে তো আপনার কোনো ছওয়াব হবে না। তার চেয়ে টাকা রেখে দেন একজন মুসলমানকে দিয়ে দিন। তো সেটা হলো ১৯৭১ সাল। আমার কেন জানি মনে হয় যে, এখনো আমরা সেই সময় থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমি নিজে কোনো ফেসবুক ব্যবহার করি না। কিন্তু আমার শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করে। আমাকে তারা বলেছে, স্যার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেই স্ট্যাটাসটা পড়ার মতো না। তাকে যখন অনেকেই আক্রমণ করেছে, তখনও সেই শিক্ষক স্ট্যাটাসটা সরাননি। কাজেই আসলে আমাদের ভেতরে এই জিনিসটা রয়েই গেছে।
 
জাফর ইকবাল বলেন, আমি কিন্তু মানুষদের বিশ্বাস করি। আমি জানি, মানুষ আসলে ভালো। মানুষকে কখনো বলা হয়নি যে, আপনি একজন মানুষ, সাহায্য করলে আনন্দ পাবেন, বেশি সাহায্য করলে বেশি আনন্দ পাবেন। এ কথা কিন্তু বলা হয়নি। তারপরও মানুষ একে অপরকে সাহায্য করে আনন্দ পায়।

তিনি আরেকটি উদাহরণ টেনে বলেন, কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী আমাকে বলেছে, স্যার আমাদের বাংলা শিখতে দেওয়া হয় না। শিক্ষকরা বলেন, বাংলা যে অক্ষর আছে এগুলো হিন্দুদের। তথ্যটা সঠিক না ভুল এটা কিন্তু ব্যাপার না। কিন্তু কী শেখানো হচ্ছে?

জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের দেশে বিশাল একটা জনগোষ্ঠী আছে, তাদের ওপর যদি কখনো এরকম কোনো ঘটনা ঘটতো। তাহলে হয়তো কিছু বলার মতো হতো। সাম্প্রদায়িক হামলায় আমার খুব চোট লেগেছে। মনে হয় বাংলাদেশ পুরোপুরি এখনো হয়নি। এই বুঝি আক্রমণ করতে আসলো। আমার পাশে থাকা শিশুটি নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু কখন যে তাকে আক্রমণ করবে কেউ জানে না। তাহলে কীভাবে এটা বাংলাদেশ হলো। আমার মনে হয় এখনো বাংলাদেশ পাইনি।

কাজেই বাংলাদেশ থাকুক, পদ্মাসেতু থাকুক, ডিজিটাল বাংলাদেশ থাকুক, লেখাপড়া থাকুক, সব থাকুক। প্রথম দায়িত্ব হলো, বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারে। আমরা যদি মন থেকে চাই তাহলে পারবো। চেষ্টা করলে অবশ্যই পারা যাবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে