Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (53 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৬-২০১৪

‘সঠিক ফিউশন বিরোধি আমি নই’

রুদ্র হক


‘সঠিক ফিউশন বিরোধি আমি নই’

ওস্তাদ আমজাদ আলি খান একজন স্বনামধন্য ভারতীয় সরোদবাদক তথা শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ। তার জন্মও হয় এক স্বনামধন্য সংগীতজ্ঞ পরিবারে। তিনি ছিলেন গোয়ালিয়র রাজসভার সভাগায়ক হাফিজ আলি খান ও রাহাৎ জাহানের ছয় সন্তানের কনিষ্ঠতম। তাঁর পরিবার বঙ্গাশ ঘরানার উত্তরপুরুষ যাঁরা নিজেদের সরোদের আবিষ্কর্তা বলে দাবি করেন।  পিতার নিকট আমজাদ সংগীতে তালিম নেন। তিনি অত্যন্ত অল্পবয়স থেকেই নানা স্থানে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুরু করেন।  ১৯৬০-এর দশক থেকে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। ২০০১ সালে তাঁকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হয়।

১৯৬৩ সালে আমজাদ আলি খান প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরোদ বাজান। ২০০০-এর দশক পর্যন্ত এদেশে একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁকে সপুত্র সরোদ বাজাতে দেখা গেছে। সারা জীবন ধরে তিনি তাঁর বাদ্যযন্ত্রের উন্নতিতে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছেন।আমজাদ আলি খান হংকং ফিলহার্মোনিক অর্কেস্ট্রায় সরোদ বাজিয়েছেন এবং নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্প্রতি আমজাদ আলি খান তার পিতা ও তার বেড়ে ওঠা নিয়ে আত্মজীবনীমূলক বই ‘মাই ফাদার, আওয়ার ফ্রেটারনিটি: দ্য স্টোরি অফ হাফিজ আলি খান অ্যান্ড মাই ওয়ার্ল্ড’ লিখেছেন। এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি কলকাতায় তিনি একটি সাক্ষাতকারে তিনি স্মৃতিচারণ করেছেন তার অতীত নিয়ে, জানিয়েছেন বর্তমান নিয়ে তার অভিমত...

পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারটি প্রকাশিত হল-

সরোদ ছেড়ে কলম৷ তাও আবার বাবাকে নিয়ে৷ কীভাবে শুরু হল?

প্রায় বারো বছর আগে আমার দুই ছেলে আমান ও আয়ান আমাকে নিয়ে একটা বই লিখেছিল৷ সে বই আমি পড়েছি৷ খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম৷ বলা যায় সেই সময় থেকেই ঠিক করেছিলাম বাবাকে নিয়ে একটা বই লিখব৷ আরও একটি ঘটনা যা আমাকে অনুপ্রাণিত করে৷  পুরো পরিবারকে নিয়ে ভিয়েনা গিয়েছিলাম৷ সেখানে বিটোভেনের বাড়িতে যাই৷ কি সুন্দর করে সেই দেশের সরকার বিটোভেনের সমস্ত জিনিস সংরক্ষণ করেছে৷ তাঁর পিয়ানো, তাঁর মিউজিক স্ক্রিপ্ট৷ শুধু বিটোভেন কেন, শেক্সপিয়রের মিউজিয়ামেও গিয়েছিলাম একবার৷ সেই সব দেখেই প্রথমে মনে এসেছে আমার বাবা কিংবদন্তি শিল্পী ও আমার গুরু হাফিজ আলি খানের কাজকেও সংরক্ষণ করা উচিত৷ তাই নিজেই দায়িত্ব নিলাম৷ দুঃখ লাগে, আমাদের দেশে কিংবদন্তি শিল্পীদের কাজ সংরক্ষিত হয়নি সেভাবে৷ তবে খুশির কথা অন্তত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাজ তো সংরক্ষিত৷

শুধুই কি সংরক্ষণের খাতিরে বই লেখা? নাকি অন্য কারণও রয়েছে?

এখানে আমি বলতে চাই৷ প্রায় দু থেকে তিন বছর লেগেছে পুরো লেখাটা শেষ করতে৷ তার পর একদিন পুরো লেখাটা দেখে মনে হয়, দূর আমি লিখেতেই পারি না৷ গোটা লেখাটা ডাস্টবিনে ফেলে দিই৷ আয়ান আর অমন লেখাটাকে ডাস্টবিন থেকে তুলে, বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়৷ তাই ঠিক সংরক্ষণ কিনা জানিনা৷ তেবব হ্যাঁ, আমার বাবার কথা, তাঁর সঙ্গীত জীবনের কথা, সবকিছুই জানাতে চেয়েছিলাম বিশ্বকে৷ খুব কম লোকেই তো তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ জানেন না৷ কীভাবে তাঁর রক্তে শুধু সুর বয়ে বেড়াত সেটাও জানে না৷ এটা একটা মোক্ষম কারণ বই লেখার৷

বাবাকে নিয়ে বই লেখা মানেই তো ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যাওয়া৷ কিছু ঘটনা যা লিখতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন?

বহু ঘটনা৷ বাবার সংস্কৃতি ছায়ায় ছোটবেলা থেকে বড় হওয়া৷ আর সবথেকে বেশি বাবার কাছে সঙ্গীতের অনুশীলন৷ বাবা খুব কমই সরোদ বাজাতেন৷ উনি গান ধরতেন আর আমি সরোদে তাঁকে অনুসরণ করতাম৷ আমার বাবা ছিলেন খুবই ইনোসেন্ট আবেগপ্রবণ মানুষ৷ সঙ্গীত ছাড়া তিনি কিছুই বুঝতেন না৷

বহু মানুষ নানা কারণে বাড়িতে আসতেন৷ তিনি তাঁদের কথা শোনার আগেই সঙ্গীত নিয়ে আলোচনায় বসে পড়তেন৷ তার পর বহুক্ষণ পরে বাবার খেয়াল হত পুরো বিষয়টি৷ (হেসে ফেলে)৷ এরকম আরও ঘটনা রয়েছে৷ ১৯৬০ সালে পদ্মভূষণের সময় বাবা নেহেরুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন৷ আমি সঙ্গেই ছিলাম৷ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন, উস্তাদজি কেমন আছেন? বাবা উত্তর দিলেন, ‘আমি তো ঠিকই আছি, কিন্তু দরবারি রাগের খুব খারাপ অবস্থা৷ কিছু একটা করুন সবাই তো যা খুশি করছে এই রাগ-টাকে নিয়ে৷’

আসলে বাবা সঙ্গীত নিয়েই বেঁচে থাকতেন, খুব খুঁতখুঁতে ছিলেন তিনি৷ আমার একবার মনে আছে, হঠাৎ সঙ্গীতচর্চা করতে করতে বাবা বলে উঠলেন, ‘তানসেনের মেঘমল্লার বেশ খারাপ৷ উনি কি বানিয়েছেন এটা!’

আপনার বাবাই ছিল আপনার গুরু৷ কিন্তু অনেকেই মনে করেন সঙ্গীতের ক্ষেত্রে দু’জনেই বেশ আলাদা৷ আপনি কী মনে করেন?

হ্যাঁ, লোকে বলেন৷ কিন্তু সত্যি বলতে কি আমার তেমন কিছু মনে হয় না৷ আমি বাবাকে অন্ধের মত অনুসরণ করি৷ যদি কিছু নিজের থাকে তাহলে গোটাটাই ভগবানের আর্শিবাদ৷ এমনকি অমন-আয়ানেরও নিজস্বতা রয়েছে৷


বহু শিল্পীরাই বলছেন আজকাল ভারতীয় সঙ্গীত নিজস্বতা হারিয়ে পাশ্চাত্যে মিশেছে৷ আপনি কি মনে করেন?

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে রয়েছে প্রচুর ইম্প্রোভাইজেশন৷ পাশ্চাত্যেও রয়েছে৷ এখানে সারেগামাপা, পাশ্চাত্যে তাই ডো রে মি সা৷ তাই মিশেল হতেই পারে৷ বিষয়টা হল, গুণগতমান৷ সঠিক ফিউশন বিরোধি আমি নই৷  বিদেশে অনুষ্ঠান করার সময় আমিও বহুবার সরোদে উই শ্যাল ওভার কাম, জলি দ্য গুড ফেলো বাজিয়েছি৷

আর নতুন প্রজন্মের বিষয়ে কি বলবেন?

এটা পুরোটাই আমাদের দায়িত্ব৷ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যেতে হবে, তবেই না তাঁরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কাছে পৌঁছবে৷ আগে সাত মিনিটের এক এলপিতেই শিল্পীরা জনপ্রিয় হয়ে পড়তেন৷ প্রত্যেক এলপি তে বড় জোড় দুটো গান থাকত৷ এখন  সেই ব্যাপারটা নেই৷ ইন্টারনেটের দয়ায় হাতের মুঠোয় চলে এসেছে সারা বিশ্বের সঙ্গীত৷ আমার তো মনে হয়, নতুন প্রজন্মের মানুষের কাছেও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জনপ্রিয়৷ অমন-আয়ন তো নতুন প্রজন্মেরই৷ ওদের কাছেই শুনেছি, বহু ইয়ং ছেলেমেয়ে কনর্সাট শুনতে আসছে৷ এই প্রজন্মের বহু ছেলেমেয়ে অনুশীলনও করছেন৷ এই প্রজন্মের একটা জিনিস আমার ভাল লাগে৷ ভালটা ওরা একসেপ্ট করে, মন্দকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছুঁড়ে ফেলে দেয়৷

সংগীত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে