Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৬-২০১৪

প্রার্থনা সঙ্গীত শুনছেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন

প্রার্থনা সঙ্গীত শুনছেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন

কলকাতা, ১৬ জানুয়ারি- স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রয়েছে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের। একটানা ২৪ দিন হাসপাতালে থেকে বিরক্ত তিনি। বারবার রক্ত নেওয়া, ফিজিওথেরাপি এমনসব চিকিৎসা পদ্ধতিতে হাপিয়ে উঠেছেন তিনি। তাই চিকিৎসকদের কাছে জানিয়েছেন বাড়ি ফেরার ইচ্ছার কথা। মহানায়িকার অবসাদ কাটাতে তাই মিউজিক থেরাপির ব্যবস্থা করেছেন চিকিৎসকেরা। বুধবার তাঁর বাড়ি থেকে মিউজিক সিস্টেম হাসপাতালে পৌঁছে দেন তাঁর মেয়ে মুনমুন সেন।

যতক্ষণ তিনি জেগে থাকছেন ততক্ষণ তাঁকে শোনানো হচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রার্থনা সঙ্গীত। এই প্রার্থনা সঙ্গীত সুচিত্রা সেনের অত্যন্ত প্রিয়। সেই কারণে এই সঙ্গীতই শোনানো হচ্ছে তাঁকে। মেজাজ বুঝেই এই হাইপ্রোফাইল রোগীর চিকিৎসা করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। গত ২৩ ডিসেম্বর বেলভিউতে ভর্তি হন বাংলার মহানায়িকা সুচিত্রা সেন।

বৃহস্পতিবার সুচিত্রা সেনের স্বাস্থ্য বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে,আগের থেকে সঙ্কট অনেকটাই কেটেছে সুচিত্রা সেনের। তবে এখনও তাঁকে পুরোপুরি সঙ্কটমুক্ত বলতে রাজি নন চিকিৎসকেরা। গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় নতুন করে মহানায়িকার স্বাস্থ্যের কোনও অবনতি হয়নি। তবে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় তাঁকে একটানা অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। মহানায়িকার রক্তে অক্সিজেনের পরিমান পঁচাশি থেকে নব্বইয়ের মধ্যে রয়েছে। খুলে নেওয়া হয়েছে নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন। তবে খোলা হয়নি রাইলস টিউব। আপাতত আইটিইউতেই মহানায়িকাকে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আজ সকালে রাইলস টিউবের সাহায্যে তরল খাবার দেওয়া হয়েছে সুচিত্রা সেনকে। আইটিইউর বেডে বসানো হয় তাঁকে। নিজের হাতে চা খান সুচিত্রা সেন। তবে তাঁর শরীর অত্যন্ত দুর্বল থাকায় খুব ধীরে ধীরে কথা বলছেন মহানায়িকা।

এদিকে আজ আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে,রক্ত পরীক্ষার জন্য সূচ ফোটানো। আর মাঝে-মধ্যে খাওয়ার জন্য জোরাজুরি। এই দুইয়ে বিরক্ত হচ্ছেন সুচিত্রা সেন। এবং এ নিয়ে নিজের অসহিষ্ণুতা ডাক্তার ও নার্সদের কাছে সরাসরিই প্রকাশ করছেন মহানায়িকা। ডাক্তারেরা অবশ্য এই মুহূর্তে তাঁর বিরক্তিকে খুব বেশি আমল দিতে চাইছেন না। চিকিৎসকদের বক্তব্য, টানা বেশ কিছু দিন ভুগলে যে কোনও রোগীই অবুঝ হয়ে পড়েন। সেটাকে গুরুত্ব দিলে চিকিৎসা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

সুচিত্রা সেনের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উনি শরীরে সূচ ফোটাতে বরাবরই ভয় পান। ভয় পান শরীরে যে কোনও কাটা-ছেঁড়ায়। তাই ছানি অস্ত্রোপচারের দিনক্ষণ স্থির হয়ে যাওয়ার পরে উদ্বেগজনিত কারণে ওঁর হৃদ্স্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতির এমনই অবনতি হয়েছিল যে, তাঁকে স্থানান্তরিত করতে হয় আইটিইউয়ে।

বুধবার হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়, অবস্থা অপরিবর্তিত। চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। বুকের কফ তুলতে চলছে ফিজিওথেরাপি। চা ও জল ছাড়া বাকি সব খাবার খাওয়ানো হচ্ছে রাইলস টিউব মারফত। এখনও উনি যথেষ্ট দুর্বল। মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যেরা বার বার তাঁর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। চলছে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টাও। ফুসফুসের সংক্রমণটা কি কমানো গিয়েছে? কলকাতার সাংবাদিকেদের এমন প্রশ্নে মেডিক্যাল বোর্ডের অন্যতম সদস্য, চিকিৎসক সুব্রত মৈত্র বলেন, “বুকের কফ এখনও পুরোটা বার করা যায়নি। আটকে রয়েছে। বয়সটা এ ক্ষেত্রে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। তবু আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।”

তবে সুচিত্রার হৃদ্স্পন্দন মাঝে-মধ্যে কিছুটা অনিয়মিত হলেও হার্টের অবস্থা স্থিতিশীল বলেই চিকিৎসকদের দাবি। “রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণও তুলনায় স্থিতিশীল। ৮২ থেকে ৮৮-র মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।” মাঝে-মধ্যে শ্বাসকষ্ট হয়েছে, কিন্তু তখনও উনি ডাক্তারদের ইশারায় বুঝিয়েছেন, নিজেই সামলে নেবেন। সুচিত্রার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্যের কথায়, “উনি ভয় পাচ্ছেন। ভাবছেন, শ্বাসকষ্ট বাড়লে ফের যদি ওই এন্ডোট্র্যাকিয়াল টিউব পরানো হয়! তাই বারবার বোঝাতে চাইছেন, ঠিক আছি।”

ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর মধ্য কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালটিতে ভর্তি হন সুচিত্রা সেন। হঠাৎ অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৮ দিন আগে তাঁকে কেবিন থেকে আইটিইউয়ে স্থানান্তরিত করা হয়।

 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে