Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (46 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৬-২০১২

তিন বছরে বিরোধীদলের সহযোগিতা পাইনি: প্রধানমন্ত্রী

তিন বছরে বিরোধীদলের সহযোগিতা পাইনি: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ৫ জানুয়ারি: সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ বলেছেন, দেশ পরিচালনায় সরকারকে সহযোগিতা করছে না বিরোধীদল বিএনপি। ভাষণে তার সরকারের তিন বছরের বিভিন্ন সাফল্যের বিবরণ দেয়ার পাশাপাশি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সরকারের সংগ্রামে দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

 

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ৪০ মিনিটের ভাষণটি  বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করেছে।

 

‘জাতির জনক’ থেকে শুরু করে ‘বিএনপি-জামাতের দু:শাসনে নিহত ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষ’কে স্মরণ করে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

ভাষণের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে তাদের সংসদীয় গণতান্ত্রিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন ‘‘দেশ পরিচালনায় গত তিন বছরে আমরা বিরোধীদলের কোনো সহযোগিতা পাইনি।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘আমরা যখন মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ করার চেষ্টা করছি। তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী তাদের রক্ষার ষড়যন্ত্র করছেন।’’

 

বিরোধীদলীয় নেত্রীকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তার প্রতি আমার অনুরোধ, জ্বালাও পোড়াও করে এই মানবতাবিরোধী রাজাকার ও আল বদরদের রক্ষার চেষ্টা করবেন না।’’

 

পরে বিভিন্ন খাতে সরকারের তিন বছরের সাফল্যের বিবরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে, কৃষি খাতের উন্নয়নে ও বিদ্যুত খাতে সরকারের সফলতার বিবরণ দেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ‘‘২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত হবে।’’

 

ভাষণের শেষ পর্বে  মেয়াদের বাকি অংশের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী

সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব মানুষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি তিনি ভাষণের প্রারম্ভে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট নির্মমতম হত্যাকান্ডের শিকার সকল শহীদ, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, স্বাধীনতাযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্বর গ্রেনেড হামলায় নিহত এবং বিএনপি-জামাতের শাসনামলে নিহত ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও নিরীহ মানুষ এবং জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যারা জীবন দিয়েছিলেন তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি শেখ হাসিনা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সরকার করবেই

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে গণরায় দিয়েছে। সরকার যখন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার কাজ শুরু করেছে, তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা  করছেন। জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল ও মানুষ হত্যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে জ্বালাও-পোড়াও করে এই মানবতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরদের রক্ষার চেষ্টা না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যত বাধাই আসুক না কেন বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করবই।

 

দেশ পরিচালনায় বিরোধী দলের কোন সহায়তা পাইনি

প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, কোন কারণ ছাড়াই বিরোধী দল মাসের পর মাস সংসদ বর্জন করছে। বিরোধীদলীয় নেত্রী মাত্র ৬ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। বাধাহীনভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা বক্তব্য দিয়েছেন। তারপরেও কেন এই সংসদ বর্জন?

 

সরকার পরিচালনায় বিরোধী দলের কোন সহায়তা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ পরিচালনায় গত তিন বছরে সরকার বিরোধীদলের কোন ধরণের সহায়তা পাইনি। বরং তারা সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে অনেক সময় দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

 

তিনি সম্প্রতি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার  রাষ্ট্রপতির সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, সরকার জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

 

সরকার দ্রব্যমূল্য কমিয়ে এনেছে

দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ে আসা ছিল আমাদের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার তা কমিয়ে এনেছে। পাশাপাশি জনগণের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। মাথাপিছু আয় ৬৬০ ডলার থেকে ৮২৮ ডলারে উন্নীত হয়েছে। চাকুরির বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করা হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূন্যতম বেতন ১৬০০ থেকে তিন হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও সরকার অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাড় করাতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন বেড়েছে। রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার। জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। রেমিটেন্স আয় ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে। গত  অর্থবছরে ৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এবছর ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।

 

তিন বছরে ২৯০০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন মহাজোট সরকার গঠিত হল সেদিন বিদ্যুত ভয়াবহ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তিন বছরে অতিরিক্ত ২৯০০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই ৪৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।  এর মধ্যে ২৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করেছে। বাকী কেন্দ্রগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হবে। এছাড়া আরও ৫ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান প্রক্রিয়াধীন আছে।

 

তিনি বলেন, গ্যাস ও কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতে ৩টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রূপপুরে ২০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সাথে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত, মিয়ানমার ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিনামূল্যে ১ কোটি ৫ লক্ষ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরও ১ কোটি ৭৫ লক্ষ বাল্ব বিতরণের সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

 

২০১৩ সালে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে

‘২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত হবে’ এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য গুদামগুলোতে রেকর্ড ১৪ লক্ষ ৭৬ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে ১ লক্ষ ১০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার ১৪০টি খাদ্য গুদামসহ সারাদেশে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। ওএমএস, ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর, কাজের বিনিময়ে খাদ্য ইত্যাদি কর্মসূচীর পরিধি ও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি ১৭ লক্ষে উন্নীত হয়েছে।

 

নি:স্ব ও হতদরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা

সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধিতে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নিঃস্ব ও হতদরিদ্র মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। উন্নত দেশগুলো যখন সামাজিক নিরাপত্তা সংকুচিত করছে তখন সীমিত সম্পদ নিয়েও আমরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি করছি। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ানো হয়েছে। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ভোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষে উন্নীত করা হয়েছে। মাতৃকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৬০ হাজার থেকে ২০১১-১২ অর্থবছরে ১ লক্ষ ১২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা সাড়ে ২২ লক্ষ থেকে ২৪ লক্ষ ৭৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় সাড়ে সাত লক্ষ নারীকে মাসিক ৩০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভিজিএফ কার্ড সংখ্যা ৭০ লক্ষ ৬৭ হাজার থেকে থেকে ১ কোটি ৭৬ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

 

বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই

মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব ছাত্র-ছাত্রীকে বছরের প্রথম দিনেই বিনামূল্যে ২২ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩৮৩টি পাঠ্যপুস্তক দেয়ার কথাও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে ৩১ হাজার ২০৮টি সরকারি, রেজিস্টার্ড ও কম্যুনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৬৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বছরে ৭৮ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হয়েছে

স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক পুনরায় চালু করেছে। ১৩৬টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। ২০০টি নির্মাণের কাজ চলছে। ৩০১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। ১০৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় এবং তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। জেলা পর্যায়ের তিনটি হাসপাতাল ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। ১৮টি জেলা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।

 

যোগাযোগ খাতের অগ্রগতি হয়েছে

যোগাযোগ খাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে সরকার। তিন বছরে এগারটি বৃহৎ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর ৭ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।

 

পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পদ্ধা সেতু প্রকল্পের মূল সেতু, নদীশাসন, সেতুর উভয় প্রান্তের সংযোগ সড়ক এবং বিস্তারিত ডিজাইন চূড়ান্ত হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ২য় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর যানজট নিরসনে বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলছে।

 

বিশ্বমন্দা মোকাবেলায় প্রণোদনা

শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের অর্জন তুলে ধরে বলেন, শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়নে সরকার সবধরণের সহায়তা করে যাচ্ছে। বিশ্বমন্দার প্রভাব মোকাবেলার জন্য ৩,৪২৪ কোটি টাকার প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের শিল্প স্থাপনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শিল্প নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে ৫৫ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বার্ষিক ৫ লক্ষ ৮০ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানা স্থাপনের লক্ষে চীনের সাথে চুক্তি সই করেছি। আরও ৩টি ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিসিকের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে ৭ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়াতে শিল্প পার্ক স্থাপনের কাজ চলছে।

 

তথপ্রাপ্তি জনগণের অধিকার মন্তব্য করে শেখ হাসিনা তার ভাষনে বলেন, বর্তমান সরকারই প্রথম তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন গঠন করেছে। রেডিও-টেলিভিশন ও সংবাদপত্র যেকোন সময়ের তুলনায় পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে।

 

স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করা হয়েছে

স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে দক্ষ ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ৪৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে।

যুগোপযোগী নারী উন্নয়ন নীতি হয়েছে

নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের অবদানের কধা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার এজেন্ডা হিসাবে গ্রহণ করেছে। একটি যুগোপযোগী নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। নারীর দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, শ্রমবাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক  ক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।  মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে ৬ মাসে উন্নীত করেছি। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, ২০১০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্ষম

সরকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিল্প এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। পুলিশের ৫২টি মডেল থানা, ১০টি নতুন তদন্ত কেন্দ্র ও ৩টি নতুন থানা স্থাপন করা হয়েছে।

 

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া অনেকদূর এগিয়েছে

তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়নে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতি মাসে ৪০ লক্ষ মানুষ এসব সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা পাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মাসিক আয় গড়ে দুই কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সরকারী উদ্যোগে দোয়েল ল্যাপটপ উৎপাদন শুরু হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিতে মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু হয়েছে। ডাক বিভাগ কর্তৃক ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার চালু হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে

পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারও সাথে বৈরিতা নয়’ এই নীতির আলোকে সকল রাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান ও ভূমিকা জাতিসংঘসহ সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে।

 

বর্তমান সরকারের মেয়াদে কুটনৈতিক সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনবিঘা করিডোর ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের সাথে সীমানা চিহ্নিতকরণ, বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ অমীমাংসিত সমস্যাসমূহের সমাধান করা হয়েছে। চীনের সাথে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার (অনুদান) চুক্তি স্বাক্ষর, কাজীরটেক সেতু নির্মাণে পত্র বিনিময় এবং তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

২০২১ সালে সোনার বাংলা গড়ব

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শেষভাগে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ক্ষুধা, দারিদ্র ও নিরক্ষরতামুক্ত সোনার বাংলা গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সে দেশ হবে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক দেশ - ডিজিটাল বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, যে জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা আনতে পারে, সে জাতির উন্নয়ন কেউ রুখতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়তে দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন তার বক্তব্যে।

 

 

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী

সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব মানুষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি তিনি ভাষণের প্রারম্ভে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট নির্মমতম হত্যাকান্ডের শিকার সকল শহীদ, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, স্বাধীনতাযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্বর গ্রেনেড হামলায় নিহত এবং বিএনপি-জামাতের শাসনামলে নিহত ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও নিরীহ মানুষ এবং জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যারা জীবন দিয়েছিলেন তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি শেখ হাসিনা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সরকার করবেই

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে গণরায় দিয়েছে। সরকার যখন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার কাজ শুরু করেছে, তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা  করছেন। জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল ও মানুষ হত্যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে জ্বালাও-পোড়াও করে এই মানবতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরদের রক্ষার চেষ্টা না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যত বাধাই আসুক না কেন বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করবই।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে