Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৫-২০১৪

হিন্দুপল্লীগুলোতে এখন শুধুই শিশু আর বৃদ্ধদের বসবাস

রহমান মাসুদ


হিন্দুপল্লীগুলোতে এখন শুধুই শিশু আর বৃদ্ধদের বসবাস

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি- যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হাজরাইলের ঋষিপল্লীতে একই পরিবারের তিন নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চাঁপাতলা গ্রামের মালোপাড়ায় সম্প্রদায়িক হামলার পর চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে যশোরের হিন্দু পল্লীগুলোতে।

এ আতঙ্কের কারণেই এখানকার হিন্দু পরিবারগুলো তাদের তরুণীদের বাড়ি থেকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর আত্মীয় বাড়িতে। তরুণ-যুবকরাও সহিংসতার ভয়ে সেই পথে পা বাড়িয়েছেন। মধ্যবয়স্ক নারী-পুরুষরাও রাতে থাকছেন না বাড়িতে।

আক্রান্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ধীরে ধীরে হিন্দুপল্লীগুলো পরিণত হচ্ছে শুধুই শিশু আর বৃদ্ধদের বাসস্থানে।

অভয়নগরে সাম্প্রদায়িক হামলার পর থেকে মালোপাড়ায় রাত কাটানো বন্ধ করেছেন এখানকার হিন্দু পরিবারের নারী সদস্যরা। সন্ধ্যা হলেই সকলে পাড়ি জমান ভৈরব নদের ওপারে দক্ষিণ দেয়াপাড়ায়। আতঙ্কে অবিবাহিত তরুণীরা চলে গেছেন নড়াইল ও খুলনাসহ পাশের জেলাগুলোর আত্মীয় বাড়িতে। গত ৭ জানুয়ারি রাতে পাশের উপজেলা মনিরামপুরের হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের হাজরাইল ঋষিপাড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে তিন নারী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় মালোপাড়াবাসীসহ এ এলাকার কোনো হিন্দু পরিবারই নিজ ভিটেয় নিজেদেরকেই নিরাপদ মনে করছেন না।

ঋষিপাড়ার ক্ষত এলাকাবাসীর মন থেকে মুছে না যেতেই চারদিনের মাথায় গত শনিবার আবার ঋষিপাড়ার পাশের ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁপাকোনা গ্রামে চার জামায়াত কর্মী হিন্দু বাসিন্দাদের ওই রাতেই বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ওই গ্রামে গোপনে অবস্থান নেওয়া সাদা পোশাকের পুলিশ আটক করে হুমকিদানকারীদের।

এরপর থেকেই বিস্তীর্ণ হিন্দু জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খুলনা, যশোর ও নড়াইল জেলার অর্ন্তগত এ অঞ্চলের ৯৬টি গ্রামে দেখা দেয় চরম নিরাপত্তাহীনতা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ বাড়ির তরুণীদের এরই মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহসহ অন্যান্য জেলার আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সচ্ছল অনেক পরিবারের মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষায় বেনাপোল এবং ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আপদকালীন জরুরি ব্যবস্থায় ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছেন অভিভাবকরা। সীমান্তে এ ক্ষেত্রে ভারতীয়রা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করেননি বলে দাবি করেছেন অনেকেই। তবে পরিস্থিতি ভালো হলেই ভারত থেকে সবাই ফেরত আসবেন বলেও দাবি করছেন অভিভাবকরা।

ঝিনাইদহে স্বজনের বাড়িতে দুই তরুণী এবং এক কিশোরী মেয়েকে রেখে আসা মনিরামপুরের এক বাবা বলেন, এমন ভয়ঙ্কর পরিবেশে মেয়েদের মন ভেঙ্গে গেছে। আমার মেয়েরা পড়াশোনা করছে। তারা বড় হয়েছে। কিন্তু জন্মের পর থেকে তারা এমন পরিস্থিতি দেখেনি। এ অবস্থায় এবং পরের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়াতো এক ধরনের শরণার্থীর জীবন যাপন। ওদের করুণ মুখ বাবা হিসেবে সহ্য করা কঠিন। তাই আপাতত তাদের সম্ভ্রম রক্ষায়ই এ উদ্যোগ নিয়েছি।

ওরা আর যাই হোক, মামা বাড়িতে কয়েকদিন শান্তিতে থাকবে বলে উদাস দৃষ্টিতে তাকান অবসরপ্রাপ্ত এই স্কুল শিক্ষক।

অভয়নগরের মালোপাড়ার এক মা জানান, তিনি তার ছোট মেয়েকে নড়াইলের এক গ্রামে বড় মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন গত ৭ জানুয়ারি। এ অবস্থা গ্রামের প্রায় সকল পরিবারেরই।

যশোরের মনিরামপুর ও অভয়নগরের প্রায় সবখানেই চলছে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। এ অভিযানে ধরা পড়ছেন জামায়াত, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী এ অভিযানেও কাটছে না আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতি। এলাকা ত্যাগ করছেন প্রায় সবাই। এরই মধ্যে প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে এ জনপদ। সব মিলিয়ে যশোরের  হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলো তৈরি হচ্ছে যেন শিশু ও বৃদ্ধদের আশ্রমে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে