Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৪-২০১৪

দিনভর শুয়ে-বসে থাকার মাশুল গুনছেন সুচিত্রা সেন

দিনভর শুয়ে-বসে থাকার মাশুল গুনছেন সুচিত্রা সেন

কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি- হয় চেয়ার, নয়তো বিছানা। দীর্ঘদিন ধরে এই দু'পাকেই বাঁধা ছিল সুচিত্রা সেনের ভুবন। আর এই অলস দিনযাপনই তাঁর শরীর ও মনকে আরও কাবু করে ফেলেছে। ওজনও বেড়েছে হু হু করে। ৮০ কেজির উপর। বোঝাই যাচ্ছে, সাত পাকে বাঁধা-র নায়িকা এখন অনেক পৃথুলা। আক্ষেপের সঙ্গে এ-সব কথা জানিয়েছেন মহানায়িকার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত চিকিত্‍সক সমরজিত্‍ নস্কর।

তাঁর কথায়, "আমাকে উনি খুবই স্নেহ করেন। কত বার তাকে বলেছি, একটু হাঁটাচলা করুন, হালকা ব্যায়াম করুন, যাতে শরীরের রক্তসঞ্চালন ভালো থাকে। এমনকি, ফিজিওথেরাপির পরামর্শও দিয়েছি। কিন্তু তিনি কান দেননি।" সমরজিত্‍ অবশ্য জানাচ্ছেন, ডায়েটচার্ট কিংবা ওষুধপত্রের ব্যাপারে কখনও তাঁর কথার অন্যথা করেননি সুচিত্রা।

আইসিইউ-তে বিকল হতে বসা ফুসফুস নিয়ে এখন শুয়ে-বসার থাকারই মাশুল গুনছেন সুচিত্রা সেন। সমরজিত্‍বাবু মনে করেন, ৩০ বছরের বেশি সময় বাড়ির বাইরে বেরোননি সুচিত্রা। এমনকী, ঘরের মধ্যেও কোনও কায়িক পরিশ্রম করেননি। শুয়ে-বসে থেকেছেন বছরের পর বছর। আর তাতেই তাঁর ফুসফুস হারিয়ে ফেলেছে যাবতীয় ধকল সওয়ার সামর্থ্য। শ্বাসযন্ত্রের সেই কর্মক্ষমতা হারানোরই খেসারত এখন দিতে হচ্ছে মহানায়িকাকে।

ফলে, গুরুতর সংক্রমণে একবার কাহিল হয়ে পড়ার পর সেরে ওঠার আর কোনও লক্ষণই দেখাচ্ছেন না তিনি। শুধু ব্যক্তিগত চিকিত্‍সকই নন, এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে সহমত সুচিত্রার চিকিত্‍সায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান সুব্রত মৈত্রও। অভিনেত্রীর সঙ্কটকালে তিনিও কাঠগড়ায় তুলছেন তাঁর ভিআইপি রোগিণীর এহেন দিনযাপনকে। সুব্রতবাবুর কথায়, বেড থেকে চেয়ার, চেয়ার থেকে সোফা। প্রয়োজনে টয়লেট। এর বাইরে ওঁর আর কোনও চলাফেরা ছিল না দীর্ঘ দিন৷ এমন হাউস-বাউন্ড, বেড-বাউন্ড, চেয়ার-বাউন্ড জীবনযাত্রার ছাপ তো পড়বেই শ্বাসযন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গে। আর সেই অঙ্গেই যদি সংক্রমণ হয়, তখন আর তিনি রোগের সঙ্গে লড়বেন কী করে!
 

দুই চিকিত্‍সকেরই বক্তব্য, কায়িক পরিশ্রম কিংবা পর্যাপ্ত সময় খোলা বাতাসে থাকা ফুসফুসের সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এতে, ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্জনের ক্ষমতা (ভাইটাল ক্যাপাসিটি অফ লাং) ভালো থাকে। তাঁরা মনে করেন, সুচিত্রার ক্ষেত্রে ঠিক এর উল্টোটা হওয়াতেই তিনি আশানুরূপ সাড়া দিচ্ছেন না চিকিত্‍সায়৷ মেডিক্যাল বোর্ডের এক চিকিত্‍সকের দাবি, যে সর্বোত্‍কৃষ্ট মানের চিকিত্‍সা দেওয়া হচ্ছে, তাতে সাধারণ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, সুচিত্রার সমবয়সি অন্য যে কেউ আরও তাড়াতাড়ি সেরে ওঠার লক্ষণ দেখাতেন।

ব্যক্তিগত চিকিত্‍সক হিসেবে প্রায় এক দশক যাবত্‍ সুচিত্রাকে দেখে আসা সমরজিত্‍ জানিয়েছেন, সুচিত্রা দেবী সাধারণত খুব সকালেই ঘুম থেকে উঠতেন। চা-বিস্কুট আর হালকা প্রাতরাশ সেরে ফের আশ্রয় নিতেন বিছানার। মধ্যাহ্নভোজনের সময়ে কখনও ডাইনিং টেবিল, কখনও বা হুইলচেয়ারে এসে বসতেন। রাতে খাবার সময়েও সেই এক ছবি৷ বাকি দিনটায় মাঝেমধ্যে টিভি দেখা কিংবা বই পড়া (চোখে ছানির কারণে অবশ্য ইদানীং সে অভ্যেসেও ছেদ), অথবা আয়ার সঙ্গে গল্প কর। আর প্রয়োজনে টয়লেট৷ ব্যস, ওই পর্যন্তই। বাড়িতে সারা দিনের মধ্যে অধিকাংশ সময়ই তিনি কাটিয়ে দিতেন হয় বিছানা, কিংবা চেয়ার বা সোফায়৷ ঘরের মধ্যে পায়চারি কিংবা ঘরের টুকিটাকি কাজকর্মেও ঘোর বিতৃষ্ণা বাংলা সিনেমার কিংবদন্তী নায়িকার।


টলিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে