Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৪-২০১৪

জামায়াতের দখলে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি

সরোয়ার মোর্শেদ


জামায়াতের দখলে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি

পাবনা, ১৪ জানুয়ারি- পাবনার বিভিন্ন সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরও জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ইমাম গাজ্জালী ট্রাস্টের দখল থেকে মুক্ত হয়নি বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের পাবনার পৈতৃক বাড়িটি। ওই ট্রাস্ট পরিচালিত একটি কিন্ডারগার্টেনের কার্যক্রম চলছে বাড়িটিতে।

স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বাড়িটি দখলমুক্ত করে সুচিত্রা সেনের নামে একটি সংগ্রহশালা করার স্বপ্ন দেখে আসছে।

পাবনায় গঠিত সুচিত্রা সেন সঞ্চৃতি সংরক্ষণ পরিষদ বাড়িটি দখলমুক্ত করতে সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সমেঞ্চলন, চলচ্চিত্র উৎসবসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। পরিষদ নেতাদের অভিযোগ, বাড়িটি না ছাড়তে জামায়াত বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। ফলে আইনি জটিলতায় ঝুলে আছে প্রশাসনের ইজারা বাতিল-প্রক্রিয়া।

সুচিত্রা সেন সঞ্চৃতি সংরক্ষণ পরিষদ জানায়, বাড়িটি শহরের দিলালপুর মহল্লায় হেমসাগর লেনে অবস্থিত। এখানে তিনি বাবা-মা ও ভাইবোনের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন। ১৯৪৭ সালে নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি কলকাতায় চলে যান। সে সময় সুচিত্রার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত পাবনা পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক ছিলেন। ১৯৫১ সালে করুণাময় অবসরে যান। ১৯৬০ সালে করুণাময় বাড়িটি জেলা প্রশাসনের কাছে ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে কলকাতায় চলে যান। এ সময় প্রশাসন বাড়িটি সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার বানায়। ১৯৮৭ সালে বাড়িটি ইজারা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে তদবির শুরু করে জামায়াত। পরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দুর রহমান বাড়িটিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ইমাম গাজ্জালী ট্রাস্টকে ইজারা দেয়। এই ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান ও সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান।

দিলালপুর মহল্লার বাসিন্দা আইনজীবী শফিকুল ইসলাম জানান, করুণাময় কলকাতায় চলে যাওয়ার সময় বাড়িটির স্থাপত্যশৈলী অনেক সুন্দর ছিল। বাড়িটিতে ছাদসহ একটি একতলা ভবন ছিল। পামগাছ, করবী, রজনীগন্ধাসহ ফুলে ফুলে সাজানো ছিল বাড়ির চারপাশ। কিন্তু এরা ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ভবনের ছাদ ভেঙে টিন লাগিয়েছে। মূল্যবান সব গাছ কেটে ফেলেছে।

সুচিত্রা সেন সঞ্চৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সম্পাদক রাম দুলাল ভৌমিক জানান, বাড়িটি স্থায়ীভাবে দখলের জন্য ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ নানা কৌশল নিয়েছে। ১৯৮৭ সালের জেলা প্রশাসন ওই ট্রাস্টকে বাড়িটি বার্ষিক ইজারা দিয়েছিল। ১৯৯১ সালের ১৮ জুন ট্রাস্ট বাড়িটি স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়ার আবেদন করে। তবে ওই বছরের আগস্ট মাসে ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের স্থায়ী বন্দোবস্ত না দিয়ে আবারও বার্ষিক ইজারা দেয়। পরবর্তীকালে ইজারার টাকা পরিশোধ না করায় ১৯৯৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয় ইজারা বাতিল করে। ট্রাস্টের নেতারা বকেয়া পরিশোধ সাপেক্ষে ১৯৯৫ সালের ১৫ আগস্ট পুনরায় ইজারা নবায়ন করান। এর পর থেকেই বাড়িটি তাদের দখলে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক এম সাইদুল হক জানান, ধর্মান্ধ, মৌলবাদী জামায়াতের দখল থেকে সুচিত্রার পৈতৃক বাড়িটি মুক্ত করে ‘সুচিত্রা সংগ্রহশালা’ গড়ে তুলতে জেলাবাসী ঐক্যবদ্ধ। স্বাধীনতাবিরোধী এই চক্রের কবল থেকে বাড়িটি উদ্ধারে দলমত-নির্বিশেষে সবাই আন্দোলন করছেন। ২০০৯ সালে জেলা প্রশাসন ইজারা বাতিল করে ওই ট্রাস্টকে বাড়িটির দখল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা দখল না ছেড়ে উচ্চ আদালত থেকে তাদের পক্ষে স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) আনায়।

এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় মুঠোফোনে গতকাল সোমবার বলেন, মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রয়েছে। কিন্তু শুনানির কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। শুনানি হলে একটি সমাধান হতে পারে।

ইমাম গাজ্জালী ট্রাস্টের সেক্রেটারি আবিদ হাসান বলেন, ‘সুচিত্রার প্রতি আমরাও শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষকের জীবন-জীবিকার স্বার্থে আমরা বাড়িটি ছাড়তে পারছি না। সরকার আমাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে দিলে আমরা বাড়িটি ছেড়ে দেব।’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে