Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৪-২০১৪

দ্বন্দ্বটা এবার স্বামী এরশাদের সাথে স্ত্রী রওশনের

মোস্তফা ইমরুল কায়েস


দ্বন্দ্বটা এবার স্বামী এরশাদের সাথে স্ত্রী রওশনের

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি- নিছকই দাম্পত্য কলহ নয়। বুড়ো বয়সে এসে এমন পারিবারিক দ্বন্দ্বে পড়তে হবে এ কথা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ‍হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রওশনের সঙ্গে এতোবছর ঘর করলেন, অনেক অনুযোগ আবদার নিশ্চয়ই পূরণ করেছেন। মাঝে অবশ্য তরুণী ভার্যা নিয়ে সংসার পাততে গিয়ে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল কিন্তু খুব শিগগির দিশা খুঁজে পাওয়ায় সম্পর্কটা আবার স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কিন্তু শেষ বয়সে এসে স্ত্রীর এই অসম্ভব আবদার কীভাবে পূরণ করবেন এরশাদ?

রাজনীতির উত্তাপে পুড়তে থাকা দেশে আলু পুড়ে খাওয়ার উৎসবে মেতেছে জাতীয় পার্টি। এই সুযোগে রাজনীতির ‘আবাল’ অনেকে মন্ত্রী হলেন। আর জাতীয় পার্টির প্রাপ্তির সঙ্গে উপরিপাওনাও যোগ হয়েছে। তারা এখন সংসদে প্রধান বিরোধী দল। আর বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদপত্নী সাবেক ফার্স্ট লেডি রওশন। ২৯ জানুয়ারি সংসদে দাঁড়িয়ে জীবন ধন্য করবেন তিনি। এতো বড় প্রাপ্তিতে তার আকণ্ঠ ভক্ষণের তৃপ্তির ঢেকুর তোলার কথা ছিল। কিন্তু না, তিনি আরো চান। এবার পার্টির চেয়ারম্যানের পদটিও তার চাই!

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন নিজের গাড়িতে দলীয় পতাকা ব্যবহার করার জন্য অনুমতি চেয়েছেন স্বামীর কাছে। কিন্তু এরশাদকে কিছুতেই রাজি করাতে পারছেন না তিনি। এরশাদ আজীবন দলের চেয়ারম্যান থাকতে চান।

এখন হঠাৎ করেই স্ত্রীর এমন খায়েশ কীভাবে পূরণ করবেন তা এরশাদকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে। এতে করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটা ঠাণ্ডা যুদ্ধও চলছে।

পার্টির সূত্র জানায়, দুই দিন আগে রওশন হঠাৎ করেই এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কের একজন কর্মচারীকে দলীয় পতাকা তার বাসায় দিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। বিষয়টি হাসপাতালে থাকাকালীন এরশাদকে জানানো হলে তাতে অসম্মতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘না, আমি বেঁচে থাকতে কেউই পার্টির চেয়ারম্যান হতে পারবে না। সে যাই বলুক তার হাতে পার্টির পতাকা তুলে দেয়া হবে না।’

এদিকে গত রোববার সন্ধ্যায় এক মাস পর এরশাদ তার নিজ বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে ফিরলে তাকে দেখার জন্য ছোটভাই জিএম কাদের ও পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দেখতে যান। কিন্তু রওশন হাসপাতালফেরত স্বামীকে এখন পর্যন্ত দেখতে যাননি। স্বামীর সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগও হচ্ছে না। এমনকি রওশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হওয়া জাপার নেতারাও এরশাদকে দেখতে যাননি। স্ত্রী ও সুবিধাভোগী নেতাদের এমন আচরণে এরশাদও বেশ ক্ষিপ্ত।

গত ১২ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর এখনও গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেনি এরশাদ। তাকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না নাকি তিনিই কথা বলতে চাচ্ছেন না তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা কথা রয়েছে।

এখন রওশনের নয়া আবদার নিয়ে এরশাদ ও নেতাকর্মীদের মাঝে উৎকণ্ঠা  বিরাজ করছে। কেননা এরশাদ নির্বাচনে থেকে সরে এলেও রওশন কখনোই সরে আসার ইঙ্গিত দেননি। এছাড়া রওশনের নামে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ থাকায় তখন এরশাদ অন্য কাউকে লাঙ্গল প্রতীক না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দিয়েছিলেন।

নেতাকর্মীদের মাঝেও রওশনের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে। নেতাকর্মীদের অনেকে এতদিন বিশ্বাস করতেন, রওশন তার স্বামীর সিদ্ধান্তের বাইরে কখনও যাননি এবং যাবেন না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে রওশন গভীর জলের মাছ। তার স্বরূপ দেখে অনেকে হতভম্ব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যদের সঙ্গে জাপার এমপিরা শপথ গ্রহণের পরদিন ১১ জানুয়ারি রওশন এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আওয়ামী লীগ তাকে নানা প্রলোভন দেখাচ্ছে। তার অনুসারীরাও এরশাদকে বাদ দিয়ে মাথা চাড়া দিতে চাচ্ছেন। রওশনকে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। আর রওশনও বড় নেতাদের পাশে পেয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও রওশনকে বারবার ফোন করে বোঝানো হচ্ছে যেন তিনিই জাপার চেয়ারম্যান হন। এতে তিনি অনেক লাভবান হবেন এবং তার স্বামীকে বিভিন্ন মামলা থেকে অব্যাহতিও দেয়া হবে।

একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের যাওয়ার আগে থেকেই নানা বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রওশনের দর কষাকষি চলেছে। কখনও তা হয়েছে ফোনে কখন তা পার্টির নেতাদের মাধ্যমে। টোপ হিসেবে রওশনকে বলা হয়েছিল, বর্তমানে সরকারের অধীনে থাকা এরশাদের জনতা টাওয়ার তার নামে করে দেয়া হবে। পাশাপাশি তাকে আরও অনেক কিছু সুযোগ সুবিধাও দেয়া হবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে গেলে।

এসব শর্তে রাজি হওয়ার পর আওয়ামী লীগ থেকে এবার তাকে বোঝানো হচ্ছে, তিনি যেহেতু বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছেন তাই তার জন্য পার্টির চেয়ারম্যানের পদে থাকা জরুরি। তাছাড়া এরশাদকে তো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয়েছে। এরশাদ অসুস্থ ও বার্ধক্যে আক্রান্ত হওয়ায় তার চেয়ারম্যান পদে থাকাটা অতটা অত্যাবশ্যকীয় নয়।

আওয়ামী লীগের পাশাপাশি রওশনের অনুসারী জাপা নেতারাও চাচ্ছেন পার্টির চেয়ারম্যান তিনি হোন। তাই তারা দিনরাত তাকে নানাভাবে বোঝাচ্ছেন এবং তার বাসায় ঘনঘন যাতায়াতও করছেন।

যেসব নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদ পাননি তারাই এ কাজে তাকে বেশি অনুপ্রাণিত করছেন বলেও জানান রওশনের কাছের কয়েকজন নেতা।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে