Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৪-২০১৪

১০ দেশের নাগরিকদের ব্যাপারে সতর্কতা

ফুয়াদ হাসান


১০ দেশের নাগরিকদের ব্যাপারে সতর্কতা

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি- টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমা। দেশে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবারের ইজতেমার নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। দুই পর্বের এ ইজতেমাকে ঘিরে থাকছে দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পুলিশ ও র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এবারের ইজতেমায় নজিরবিহীন সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য আছে, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর দেশীয়দের সহায়তায় বিদেশি জঙ্গিরা ইজতেমাস্থলে নাশকতা চালাতে পারে।

এদিকে নাশকতাকারী চক্র তবলিগ জামাতের মধ্যে ঢুকে পড়েছে বলেও একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে পাকিস্তনসহ ১০টি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রদান ও চলাফেরার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া তবলিগ জামাতের কেন্দ্রস্থল কাকরাইল মসজিদের আমির এবং ইজতেমার সংগঠনদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ইজতেমাস্থল টঙ্গীর মাঠসহ আশপাশের এলাকায় ৬০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করে প্রায় ২০ হাজার পুলিশ-র‌্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। স্ট্র্যাকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। ইজতেমা শুরুর তিন দিন আগে, অর্থৎ ২১ ডিসেম্বর থেকে পুরো এলাকা নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। বিদেশি মেহমানদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা। আকাশ পথে টহল দেবে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকার সবকটি সিনেমা হল ১০ দিন বন্ধ থাকবে।

ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার মো. গিয়াসউদ্দিন জানান, ২৪ জানুয়ারি ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম পর্ব তিন দিন। চার দিন বিরতি দিয়ে ৩১ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। শেষ হবে ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।

তিনি জানান, দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেবেন এ ইজতেমায়। প্রতি বছরের মতো এবারও জেলাওয়ারি খিত্তায় অবস্থান নেবেন মুসল্লিরা। তুরাগ তীরবর্তী ১৬০ একর বিস্তৃত ময়দানের উত্তর-পশ্চিমে তৈরি হচ্ছে বয়ান মঞ্চ। পশ্চিম প্রান্তে তৈরি হচ্ছে বিদেশি মেহমানদের থাকার ঘর। বিদেশি ২৫ হাজারসহ ২০ লক্ষাধিক মুসল্লি এ ইজতেমায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ইজতেমা মাঠের নিরাপত্তায় কাজ করছি আমরা। তবে সাম্প্রতিক নাশকতার কারণে এবার বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে আমাদের সর্বত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।’  

১০ দেশের ব্যাপারে সতর্কতা:
পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, ডিসিম্বর মাসে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শাহান আরা স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগ জামায়াতে অন্তত ১০টি দেশের নাগরিকদের আসা ও যাওয়ার ভিসার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা ইস্যুর আগে যাচাই-বাছাই অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনে তাবলিগ আয়োজক কমিটিকে অবহিত করতে হবে। কমিটির পাঠানো সুপারিশ সন্তোষজনক হলে সেই ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যু করা যেতে পারে।

সতর্কতা আরোপ করা দেশগুলো হল- পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তন, ইরাক, সুদান, সিরিয়া, জর্ডান, মিসর ও ইয়েমেন।

সূত্র জানায়, দেশের বাইরের জঙ্গিগোষ্ঠী ছাড়াও দেশের নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্ক আছে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত-শিবিরসহ সরকার বিরোধী নাশকতাকারীরা তবলিগ জামাতের ছদ্মবেশে নিজেদের আড়াল করছে। তারা ইজতেমা মাঠেও নাশকতা চালাতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি কাকরাইলের কেন্দ্রীয় মসজিদের তবলিগ সংগঠকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে ইজতেমার নিরাপত্তা বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও গাজীপুর পুলিশ সুপার সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়া ভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শককে (প্রশিক্ষণ) আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ইজতেমাস্থলে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও র‌্যাব ডিজির তত্ত্বাবধানে চারটি কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। দায়িত্বরত পুলিশ বা র‌্যাব প্যান্ডেলের ভেতর অবস্থান নিতে পারবে না। প্যান্ডেলের ভেতরে গোয়েন্দারা অবস্থান করবে। ইজতেমা শুরু হওয়ার পর আকাশ পথে র‌্যাবের দু’টি হেলিকপ্টার টহল দেবে। চলতি সপ্তাহেই উত্তরা, টঙ্গী ও গাজীপুরসহ আশপাশ এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করবে র‌্যাব ও পুলিশ।

গাজীপুর পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ইজতেমার নিরাপত্তার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। মাঠের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য চারটি কন্ট্রল রুম ও টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে।’

সেবামুলক ব্যবস্থা:
সূত্র জানায়, এবার ইজতেমাস্থল, তুরাগ নদীর পাড় এবং উত্তরা পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ মাইক সম্প্রসারণ করা হবে। ইজতেমাস্থলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ ও পানি নিশ্চিত করা হবে। মুসল্লিদের আগমন ও প্রস্থানের সুবিধার্থে অতিরিক্ত ঢাকা শহর রক্ষা বাঁধ থেকে তুরাগ নদীর ওপর ১০-১২টি পন্টুন ব্রিজ নির্মাণ করছে সেনাবাহিনী। ইজতেমার সময় মুসল্লিদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা সেবা থাকবে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পর্যাপ্ত পরিমাণ ওরস্যালাইন, প্রয়োজনীয়সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্সসহ পুরুষ-নারী সমম্বয়ে অন্তত শতাধিক মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। সার্বক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থাকবে। তবে প্যান্ডেলের ভেতর রান্নার ব্যবস্থা করতে দেয়া হবে না।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতাসহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী আখেরি মোনাজাতে অংশ নেবেন। ভিভিআইপিরা ইজতেমায় আসার সময় এবং সেখানে অবস্থানকালে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে।

বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা:
যোগাযোগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, আখাউড়া, লাকসামসহ আরো কয়েকটি স্থান থেকে চলাচল করবে বিশেষ ট্রেন। সেই সঙ্গে বিআরটিসির ৩০০ বাস চলাচল করবে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এগুলোর চলাচল শুরু হবে। রাজধানীর গুলিস্তান, কমলাপুর, ফার্মগেট, গাবতলী, মহাখালী ও আজিমপুর থেকে ইজতেমাস্থলে এসব বাস আসা-যাওয়া করবে। এছাড়াও আরিচা ও পাটুরিয়াঘাট, মিরপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন ন্থান থেকে বিশেষ বাস চলাচল করবে।

এদিকে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের টঙ্গাই-বাইপাস-কামারপাড়া সড়ক পরিদর্শন করেছেন। বিশ্ব ইজতেমা মাঠে আসা-যাওয়ার প্রধান এ সড়কটি আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে।

অন্যদিকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলাসহ অন্যন্যা স্থান থেকে নদীপথে বাড়তি লঞ্চও চলাচল করবে বলে জানা গেছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে