Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৪-২০১২

নতুন ইংরেজী বছর নিয়ে ভাবনা ও দুর্ভাবনা.

আবদুল গাফফার চৌধুরী


নতুন ইংরেজী বছর নিয়ে ভাবনা ও দুর্ভাবনা.
ইংরেজী নববর্ষে সকলকেই আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। বছরটি কেমন যাবে তা জানি না। এগারো সালটি সারা বিশ্বের জন্যই ভাল যায়নি। বাংলাদেশের জন্য তো নয়ই। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক দুর্বিপাক তো ছিলই। তার ওপর একের পর এক আমাদের প্রিয় মানুষগুলোকে কেড়ে নিয়েছে এগারো সাল।

কবীর চৌধুরীর মতো আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের বোধিবৃৰ, আবদুর রাজ্জাকের মতো মুক্তিযুদ্ধের একজন অগ্রসেনা, তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরের মতো প্রতিভা এই নিষ্ঠুর বছরটি কেড়ে নিয়েছে। বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে একদল শিশু। সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে অকালমৃত্যু ঘটেছে আমার অনুজপ্রতিম রাজনীতিক ও এঙ্ বুরোক্র্যাট ড. মহীউদ্দীন আলমগীরের যুবা পুত্রের। মন্ত্রী নানকপুত্র সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। কেউ আবার ঢাকার অদূরে পিকনিক করতে গিয়ে সদলে পুকুরে ডুবে মারা গেছে। এ ছাড়া আরও অনেক প্রবীণ ও নবীনজনের প্রাণ হনন করেছে নিষ্ঠুর ২০১১ সাল।

মানুষ মরণশীল। প্রতিবছরই কারও না কারও মৃতু্য হবে। কিন্তু ২০১১ সালের মৃতু্য তালিকাটি আমাদের অনেকের জন্য একটু বেশি দীর্ঘ এবং মর্মবিদারক। বছরটি বিদায় নেয়ার মুখেও একটি লাথি মেরেছে আমাদের। সম্ভবত বর্ষশেষের শেষ দিনটিতেই খবর পেয়েছি বন্ধুবর ড. আনিসুজ্জামানের এক জামাইয়ের (একাত্তরের শহীদ অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর ছেলে) ও বন্ধু আনোয়ারুল আমিনের স্ত্রী এবং পঞ্চাশের দশকের খ্যাতনামা কথাশিল্পী রাজিয়া খান আমিনের মৃতু্যর। লন্ডনেও বিবিসি রেডিওর বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান সিরাজুর রহমান এই বছর শেষেই তাঁর একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছেন ক্যান্সার রোগে। এরকম আরও অনেক মৃত্যু ঘটেছে, যা হয়ত আমি জানি না, অথবা এই মুহূর্তে স্মরণ করতে পারছি না।

অর্থাৎ একটি শোক সংবাদের আঘাত সহ্য করতে না করতেই আরেকটি শোক সংবাদের আঘাত। আমার ধারণা, অন্যান্য বছরের চাইতে ২০১১ সালই এ ব্যাপারে আমাদের বেশি আঘাত দিয়েছে। ২০১১ সাল বিশ্বকে এবং বাংলাদেশকে ভাল কিছু উপহার দেয়নি তা নয়, কিন্তু প্রায় একই সঙ্গে একের পর এক শোক সংবাদের আঘাতে সেই উপহার স্মরণে আনা বা রাখা মুশকিল। রাজিয়া খানের মৃতু্য সংবাদটি আমাকে কেউ দেননি। কাগজে পড়েছি। এই খবরটি আমাকে নিয়ে গিয়েছিল পঞ্চাশের দশকে। যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। রাজিয়া খানও তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তবে অন্য ডিপার্টমেন্টে ছিলেন। সম্ভবত আমার চাইতে বয়সে তিনি কিছু ছোট হবেন।

তাঁর নিজের এবং স্বামীর পরিবার দুটোই ছিল অত্যনত্ম রৰণশীল। রাজিয়া খান সাবেক মুসলিম লীগ নেতা তমিজউদ্দীন খানের মেয়ে। অন্যদিকে তাঁর স্বামী আনোয়ারম্নল আমিন সাবেক পূর্ব পাকিসত্মানের শেষ মুসলিম লীগ সরকারের শেষ মুখ্যমন্ত্রী নুরম্নল আমিনের ছেলে। এই দুই পরিবারের রৰণশীলতার প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে রাজিয়া খান একজন মুক্তমনা, আলোকিত নারীর ভূমিকা নিয়েছিলেন তা ছিল আমার কাছে বিস্ময়কর। অবশ্য আনোয়ারম্নল আমিনের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য যা-ই থাকুক, আমিন নিজে একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার এবং আধুনিকমনা মানুষ।

বিদ্যালয়ের ছাত্র জীবনে রাজিয়া খানের সঙ্গে (তখনও তিনি মিসেস আমিন হননি) লেখালেখির সুবাদে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল। এখন আমাদের মধ্যে অনেক বড় মাপের মহিলা কথাশিল্পী, কবি আছেন। তসলিমা নাসরিনের মতো দুঃসাহসী লেখিকাও আছেন। কিন্তু পঞ্চাশের দশকের দিকে রাজিয়া খান যখন লেখালেখি শুরম্ন করেন তখন তাঁর গল্প, উপন্যাসে নগ্ন সমাজচিত্র অাঁকার দুঃসাহস দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। নারী চরিত্র অাঁকায় তিনি ভীরম্ন রৰণশীলতাকে কিছুমাত্র পাত্তা দেননি।
সে সময় ঢাকায় ৯, হাটখোলা রোড থেকে মাসিক 'মেঘনা' নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হতো। রাজিয়া খান তার প্রথম উপন্যাস 'বটতলার উপন্যাস' এই পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে লিখতে শুরম্ন করেন। আমি তখন 'মেঘনা'র সম্পাদক। উপন্যাসটি লেখার সময় তিনি প্রায়শ তাঁর বাসায় আমাকে চা-পানের দাওয়াত দিতেন। তিনি তখন থাকতেন তাঁর বড় বোনের স্বামী এবং অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মির্জা নূরম্নল হুদার (পরে প্রদেশের অর্থমন্ত্রী ও গবর্নর হয়েছিলেন) রমনার বাসায়।
আমরা চা খেতে খেতে শামসুর রাহমানের কবিতা, আলাউদ্দীন আল আজাদের উপন্যাস ও গল্প নিয়ে আলোচনা করতাম। তিনি নিজের উপন্যাসের পরবতর্ী অধ্যায় নিয়েও আলোচনা করতেন। তখনও বাংলাদেশের (সাবেক পূর্ব পাকিসত্মান) মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী পর্দাঘেরা সমাজ। সেই সমাজের নারী চরিত্র অঙ্গনে রাজিয়া খান যে বাসত্মবতাবোধ ও দুঃসাহসের পরিচয় দিয়েছেন তা বিস্ময়কর। আনোয়ারম্নল আমিন ঢাকা কলেজে আমার সহপাঠী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে রাজিয়া খানের বিয়ে হওয়ার পরও দু'তিনবার দেখা সাৰাত হয়েছে। আগের মতোই সাদর সম্ভাষণ করেছেন। বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমার যাওয়া হয়নি। তিনি কেন সাহিত্য জগৎ থেকে সহসা বিদায় নিলেন তা আমার জানা নেই। জানার সুযোগ কখনও হয়নি। কিন্তু তাঁর মধ্যে একজন বড় কথাশিল্পী হওয়ার সম্ভাবনা যে ছিল সে কথা বলতে এখনও আমার মনে কোন দ্বিধা নেই।

যা হোক, শেষ পর্যনত্ম ২০১১ সাল আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলি, 'হেথা হতে যাও পুরাতন।' কিন্তু নতুন বছর আমাদের কি দেবে জানি না। আরও দুঃখ, আরও শোক? না, দুঃখ শোকের উর্ধে আবার এক নতুন যুগানত্মরের সূচনা? ২০১২ সাল অতিক্রানত্ম না হলে সে কথা বলা যাবে না। অবশ্য ২০১৩ সালে পৌঁছে আগের বছরের খতিয়ান করার বয়স ও সুযোগ আমিও পাব কিনা তা জানি না। আয়ু যেন 'পদ্মপত্রে নীর।' শৈশবে পাঠ্যপুসত্মকে পড়া কবিতার লাইনটি এখনও ভুলিনি।

পঞ্চাশের দশক থেকে ষাটের দশক, এমনকি সত্তরের দশক পর্যনত্ম যাদের সঙ্গে সাহিত্য চর্চা করেছি, সাংবাদিকতা করেছি, পরম মিত্রতা এবং চরম শত্রম্নতা ছিল, তাঁদের অধিকাংশই আজ নেই। কোথায় গেল সেই যৌবন ও যৌবনোত্তর উদ্দাম দিনগুলো? শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দীন আল আজাদ, জহির রায়হান_ যে নামগুলো ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, তারা আজ স্মৃতি। সহপাঠী ড. বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীরসহ দু'একজন এখনও ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছেন। টেলিফোনে কথা হলেই বলি, যে আগে যাবে, তার জন্য পরের জন কিছু লিখবে। আমি তো আমার প্রয়াত বন্ধুদের জন্য অনবরত লিখেই চলেছি। মঝে মাঝে ভাবি, নিজের ওবিচুয়ারিটাও নিজেই লিখে যাব কিনা? সাংবাদিকতা যাদের সঙ্গে করেছি, যাদের সঙ্গে কলমযুদ্ধ করেছি তাদেরও বেশিরভাগ এখন নেই। সিরাজুদ্দীন হোসেন (শহীদ), নুরম্নল ইসলাম পাটোয়ারি, এহতেশাম হায়দার চৌধুরী, আহমেদুর রহমান, আনোয়ার জাহিদ, বজলুর রহমান, সনত্মোষ গুপ্ত, আবদুল আওয়াল, মাহবুবুল হক, শহীদুল হক, লায়লা সামাদ, কামরম্নন্নাহার লায়লী এবং আরও অনেকে_এরা আজ কোথায়? পঞ্চাশের দশকের 'বুড়ো শিবের' মতোন এখনও বেঁচে আছেন সাংবাদিক জগতের এবিএম মূসা, ফয়েজ আহমদ, নির্মল সেন। এঁদের কিছুটা ছোট হয়েও বেঁচে আছি আমি। বেঁচে আছেন তোয়াব খান।

নির্মল সেন এখন জীবন্মৃত। ফয়েজ আহমদ কদাচিৎ লিখতে পারেন। ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়েও একমাত্র লিখে চলেছেন এবিএম মূসা। বয়সের জন্য তাঁর লেখায় মাঝে মাঝে কোহেশনের অভাব দেখা দেয়, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তাঁর আস্থা অবিচল। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে দলটির পাশেই তিনি ছিলেন। বিরম্নদ্ধ-শিবিরে যাননি। আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকার তাঁর মূল্যায়ন করেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ৰমতায় আসার পর তিনি 'চ্যানেল একাত্তর' নামে একটি টিভি চ্যানেল খোলার অনুমোদন চেয়েছিলেন। সরকার তুচ্ছ অজুহাতে তা দেয়নি।

শুধু না দেয়া নয়, মূসার পরিকল্পিত টেলিভিশন চ্যানেলের নামটি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ করা হয়। বাজারে গুজব, সেই ভদ্রলোক ফাইন্যান্সের অভাবে এর অর্ধাংশের বেশি মালিকানা এমন এক মিডিয়া গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করেছে যে মিডিয়া গোষ্ঠী আওয়ামী লীগ সরকার_বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রতি অত্যনত্ম 'হস্টাইল' এবং নিজেরা টেলিভিশন চ্যানেল খোলার অনুমোদন চেয়ে তা পায়নি।
মৃতু্যর পর এবিএম মূসাকে হয়ত সদ্য প্রয়াত নেতা আবদুর রাজ্জাকের মতো না হোক, তাঁর কাছাকাছি সম্মান দেখানো হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী এই প্রবীণ সাংবাদিক হয়ত এই তৃপ্তি নিয়ে যেতে পারবেন না যে, দেশ এবং আওয়ামী লীগের প্রতি তাঁর অবদানের কিছুমাত্র মূল্যায়ন হয়েছে। দিলস্নীর এক বিখ্যাত সম্পাদক, যিনি ছিলেন প-িত নেহরম্নর ঘোর বিরোধী, তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে গিয়ে নেহরম্ন বলেছিলেন, 'আপনার সমালোচনা হচ্ছে আমার পথ প্রদর্শক এবং আপনার বিরোধিতা হচ্ছে আমার রাজনীতির শ্রেষ্ঠ সম্মান।' এসব কথা বাংলাদেশে কার কানে পেঁৗছাব?

'বুড়ো শিবের' দলের তোয়াব খান এখনও ঢাকার একজন শুধু জীবিত নন, একজন কিকিং এডিটর, এটা আমাদের সৌভাগ্য। তিনি তাঁর অনুজ বকেয়া বাম সম্পাদকদের মতো পথভ্রষ্ট হননি, আত্মবিক্রয় করেননি, 'জনকণ্ঠ' পত্রিকাটিকে এখনও ধরে রেখেছেন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অকম্প দীপ শিখা হিসেবে। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের আমলে এত ঝড়ঝাপ্টা গেছে তোয়াব খানসহ এই পত্রিকাটির সাংবাদিক, মালিক ও কর্মীদের ওপর দিয়ে তার কোন তুলনা নেই। তোয়াব খান হাল ছাড়েননি। এ জন্য ধন্যবাদ দেব এই মিডিয়াটির মালিক আতিকউলস্নাহ খান মাসুদকেও। অনেকের কাছেই তাঁর সম্পর্কে অনেক অভিযোগ শুনি। আমি জবাবে বলি, একটিমাত্র কারণে তাঁকে আমি সম্মান করি, তা হলো বিএনপি-জামায়াত এবং এক এগারোর আমলের নির্যাতন, অত্যাচার কারাযন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। পত্রিকাটি তাদের হাতে ছেড়ে দেননি।

এই পরিবারের এক সদস্যকেও ২০১১ সাল কেড়ে নিয়েছে। তিনি আতিকউলস্নাহ খান মাসুদের মেজো ভাই হামিদুলস্নাহ খান। তাঁর মৃতু্যর পর রাজনীতি দিয়ে তাঁকে বিচার করব না। বিচার করব একজন ভাল মানুষ এবং সজ্জন হিসেবে, একাত্তরের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। এই পরিবারটির সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘকালের। একেবারে বড় ভাই শহীদুলস্নাহ ছিলেন কলেজ জীবনে আমার সহপাঠী। শেষ জীবনে তিনি যখন আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে বসবাস করতেন তখন আমি লস এঞ্জেলেসে গেলেই ছুটে আসতেন। তাঁর বাড়িতে আতিথ্য না নিয়ে উপায় ছিল না। তাঁর মৃতু্যর পর আরেক ভাই হামিদুলস্নাহ চলে গেলেন। আতিকউলস্নাহ দীর্ঘ জীবন পান, জনকণ্ঠের কণ্ঠ আবার আরও সবল করম্নন এই প্রার্থনাই করি।

নজরম্নল লিখেছিলেন, 'পরোয়া করিনা বাঁচি বা না বাঁচি, যুগের হুজুগ কেটে গেলে।' মাঝে মাঝে ভাবি, আমরাও পরোয়া করি কেন? আমাদের পরেও তো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সব সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদক পথভ্রষ্ট হননি। তাঁরা সংখ্যায় কম হতে পারেন, কিন্তু তাঁরা সৎ ও সাহসী এবং সংগ্রামে অকুতোভয়। ড. মুনতাসীর মামুন, আবুল মোমেন, আবেদ খান, শাহ্রিয়ার কবির এমন আরও অনেক নাম অনত্মত আমার মনে সাহস জাগায়। এরা সকলেই নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকায় কম নির্যাতন সহ্য করেননি। হুমায়ুন আজাদের মতো বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিক তো আত্মোৎসর্গই করে গেছেন। তাই মাঝে মাঝে কবির কথায় ভরসা পাই _'ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর, ধ্বংস নতুন সৃজন বেদন।'

এগারো সালের ধ্বংস, মৃত্য, শোকের বেদনাটি বারো সালে আমাদের জন্য কোন সৃজনশীল ভবিষ্যতের সূচনা করবে? আশা করতে ইচ্ছে হয়। আবার ভয়ও করে। ২০১২ সাল সম্পর্কে বিশ্বের রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের প্রেডিকশন ভাল নয়। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনসহ পশ্চিমের অনেক বিশিষ্ট রাষ্ট্রনেতা ও অর্থনীতিবিদ বর্তমান বছরটি অর্থনৈতিকভাবে আরও ডিফিকাল্ট (কষ্টকর) এবং রাজনৈতিকভাবে 'আনসারটেন' (অনিশ্চিত) হবে বলে সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

এমনিতেও বারো নামাঙ্কিত সালটির পূর্ব ইতিহাস ভালো নয়। ১৯১২ সালের পনেরো কি ষোলোই এপ্রিল আটলান্টিক বৰে টাইটানিক জাহাজ ডুবির ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছিল। এ বছর তার শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। ২০১২ সালের শুরম্নও জাপানে একটি ভূমিকম্প দ্বারা। এগুলো যেন সারা বছরের পূর্বাভাস না হয় এটাই কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে আমারও প্রার্থনা। মানুষ ও মানবতা সকল সঙ্কট থেকে মুক্ত হতে পারবে না। কিন্তু তার অসহনীয় আঘাত থেকে বাঁচুক।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে