Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (52 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৪-২০১২

ঢাকায় ৪০ বছর লোক সংখ্যা বেড়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ : প্রতিদিন নতুন করে বাড়ছে ১৪০৬ জন মানুষ

ইমরুল কায়সার ইমন


ঢাকায় ৪০ বছর লোক সংখ্যা বেড়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ : প্রতিদিন নতুন করে বাড়ছে ১৪০৬ জন মানুষ
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ঢাকা প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এসময় কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পূর্ববঙ্গের মানুষ ঢাকা কে গড়ে তোলার চেষ্টা করে। তবে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রোধ হলে ঢাকা আবারো সেই পুরনো একটি জেলা শহরে ফিরে যায়। এরপর ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ বিভক্ত হলে ঢাকা আবারো প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা ফিরে পায়। অবশ্য ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হলে ঢাকা একটি সার্বভৌম দেশের পরিপূর্ণ রাজধানী হিসেবে নাম লেখায়। রাজধানী হিসেবে ঢাকার বর্তমান আয়তন ১ হাজার ৫’শ ৩০ বর্গকিলোমিটার। তবে আশঙ্কার কথা হচ্ছে- আয়তনের চেয়েও বহুগুন বেশি মানুষ ঢাকা শহরে বসবাস করে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হয়। বেশী মানুষ আর কম নাগরিক সুবিধা নিয়ে বিশ্বের একমাত্র রাজধানী ঢাকায় মানুষের বসবাস।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যনুযায়ী ১৯৭০ সালের ঢাকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ। ১৯৮১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ লাখ ২৩ হাজার ৮শ ৮৩ জনে। স্বাধীনতার পরবর্তী দশ বছরে লোক সংখ্যা বাড়ে ২২ লাখ ২৩ হাজার ৮শ ৩৮ জন। এরপর ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রাজধানীর লোক সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৮ লাখ ১১ হাজার ৬শ ৪২ জনে। ১৯৮১ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত নয় বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে ২৭ লখ ৮৭ হাজার ৮শ ৪ জন। যা ১৯৮১ সালের থেকেও ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯শ ৬৬ জন বেশি। আবার ২০০১ সালের আদমশুমারিতে দেখা গেছে, ঢাকার জনসংখ্যা ৮৩ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালে এসে লোক সংখ্যা বেড়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪’শ ১৭ জন। হিসাব অনুযায়ী, ১৯৮১-৯১ সালের তুলনায় ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ১২ লাখ ২১ হাজার ৩শ ৮৭ জন মানুষ কম বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নগরীর জন সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ। ২০০১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত লোক সংখ্যা বেড়েছে ৪৬ লাখ ২১ হাজার ৯’শ ৪১ জন।
অপর আরেকটি হিসেবে দেখা গেছে, ১৯৭০ থেকে ১৯৮১ সালে গড়ে প্রতিবছরে রাজধানীর লোক সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩শ ৮৩ জন। উল্লেখিত দশ বছরে প্রতিদিন গড়ে লোক সংখ্যা বৃদ্ধির পরিমান ছিল ৬শ ৯ জন। ১৯৮১-৯১ সালে প্রতিবছরে রাজধানীতে লোক সংখ্যা দাঁড়ায় গড়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ৭শ ৫৬ জনে। যা বৃদ্ধির প্রতিদিনের গড় ৮শ ৪৮ জন। ১৯৯১-০১ সালে ৯ বছরে প্রতিবছর জনসংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬। এখানেও গড়ে প্রতিদিন বেড়েছে ৪’শ ৭৬ জন। ২০০১-১১ সালের নয় বছরে প্রতিবছর ঢাকার জনসংখ্যা বেড়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫’শ ৪৯ জন। প্রতিদিন বেড়েছে ১ হাজার ৪শ ৬ জন মানুষ। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় রেকর্ড সংখ্যক বেশি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর বর্তমান লোকসংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি। ২০০১ সালের রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনবসতি ছিল ৭ হাজার ৯১৮ জন। আর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে বর্তমানে ঢাকা শহরের প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস প্রায় ২৮ হাজার মানুষ। ফলে গত নয় বছরে রাজধানীর প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাসকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ থেকে ২১ হাজার।
ঢাকা বিশববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক নূর-উন-নবী ‘জনসংখ্যা ও বাংলাদেশে শহুরে প্রবৃদ্ধি’ (পপুলেশন অ্যান্ড আরবান গ্রোথ ইন বাংলাদেশ) প্রবন্ধে বলছেন, ২৫ বছরে ঢাকা শহরের মানুষ বেড়েছে চারগুণ। যেখানে ১৯৮০ সালে মানুষ ছিল ৩২ লাখ। সেখানে ২০০৫ সালে এসে তা এক কোটি ২৫ লাখে দাঁড়ায়। তিনি জানান, আগামী ২০১৫ সালে ঢাকাতে মানুষ হবে এক কোটি ৭৯ লাখ। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ঢাকা শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৭ হাজার ৭শ মানুষ বসবাস করছে যা জনস্বার্থের জন্য মারাতœক হুমকি।
এদিকে বর্তমান জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার লক্ষ করে বিশেষজ্ঞদের ধারণা রাজধানীতে প্রতিদিন যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে ২০২৫ সালে ১ হাজার ৫’শ ৩০ বর্গকিলোমিটারের ঢাকায় লোকসংখ্যা দাঁড়াবে ৩ কোটিরও বেশি। গবেষকদের মতে, জীবন-জীবিকার জন্য রাজধানীতে প্রতিদিন ২ হাজার ১’শ ৩৬ জন মানুষ আসছে। সে হিসেবে বছরের শেষে যুক্ত হওয়া নতুন মানুষের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৭ লাখ ৮০ হাজার জন।
মহানগরীতে মানুষ যে হারে বাড়ছে ঠিক সেই হারে কমছে নাগরিক সুবিধা। ফলে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সঙ্কট আর যানজটের সমস্যা প্রকট হচ্ছে। এ বিষয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের জানান, অধিক জনসংখ্যার কারণে অপরিকল্পিতভাবে নগরায়নও গড়ে উঠছে। নগরবাসীকে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন, বর্জ্য অপসারণ, পরিবহন, যানজট, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভয়াবহ সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আগামী ১০বছরে এসব সমস্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কল্পনারও বাহিরে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা বিভাগের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে জাপানের রাজধানী টোকিওর পরেই দ্বিতীয় স্থানে থাকবে ঢাকা। ঢাকার পরে থাকবে ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বাই। ওই হিসাব অনুযায়ী তখন ঢাকা মহানগরীর লোকসংখ্যা দাঁড়াবে দুই কোটির ওপরে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল ইসলাম জানান, দেশে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যত পরিণতি কি হবে তা নির্ণয় করা সত্যি খুব কঠিন। সরকারের উচিত যে কোনো ভাবে বর্তমান জনসংখ্যার বৃদ্ধির হারকে নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি জানান, সারা দেশের মোট জনসংখ্যার ১০ থেকে ২০ ভাগ মানুষ এই নগরীতে বসবাস করে। মানুষের চাপে রাজধানীর আয়তন বৃদ্ধি করে নারায়নগঞ্জ, টঙ্গী, সাভারকে এক সঙ্গে করলেও ২০৫০ সালে বাড়তি জনসংখ্যায় তা পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন পুরো রাজধানীর জনসংখ্যা হবে ২ কোটি ৫০ লাখ। তবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০৫০ সাল বা তার কাছাকাছি সময়ে ঢাকার চিত্র কেমন হবে তা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। শুধু বলেছেন, পরিস্থিতি হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও মারতœক ভয়াবহ। তিনি বলেন, জনসংখ্যার চাপের হাত থেকে ঢাকাকে রক্ষা করতে হলে বিকল্প নগরায়ন ও শিল্পায়ন বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। দেশের সকল জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে শিল্পকারখানা, উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যসেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, তবে ঢাকা শহরে ১ কোটি ৩০ লাখ লোকের বাস এটা জোর দিয়েই বলা যায়। ১৯৫০ সালে লোকসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার, ১৯৬৫ সালে ১০ লাখ, ১৯৭৫ সালে ২৩ লাখ, ১৯৮৫ সালে ৪৮ লাখ, ১৯৮৯ সালের শুরুতে ৬৫ লাখের উপরে, ১৯৯২ সালে ৭০ লাখ। তার মতে, গত ২০ বছরে এ নগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫ গুন হারে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে