Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০ , ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (62 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৪-২০১২

ইতিহাসের রাজমুকুট মাথায় পরা ছাত্রলীগের ললাটে আজ কলঙ্কের তিলক

পীর হাবিবুর রহমান


ইতিহাসের রাজমুকুট মাথায় পরা ছাত্রলীগের ললাটে আজ কলঙ্কের তিলক
ইতিহাসের গৌরবময় রাজমুকুট মাথায় পরা ছাত্রলীগের ললাটে আজ কলঙ্কের তিলক। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের এক বছর পার হওয়ার আগেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। আজ ছাত্রলীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একদিন যে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীকে নিয়ে জাতির হৃদয়ে আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও গৌরবের উল্লাস বয়ে যেত সেই ছাত্রলীগ ৬৪ বছরের মাথায় এসে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ এক সংগঠনের নাম। আজকে ছাত্রলীগ মধ্যরাতে কেক কেটে মিষ্টি বিতরণ, আতশবাজি পুড়িয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সমাবেশ, রক্তদান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎসহ নানা কর্মসূচিতে দিনটি উদযাপন করবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে আজকের নেতৃত্ব কি নিজেদের একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হবে যে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও পূর্বসূরিদের উত্তরাধিকারিত্ব বহন করে পথ চলছেন? এমনকি আজকের ছাত্রলীগের অভিভাবকত্ব যারা পালন করছেন তারাও কি জন্মদিনের আনন্দঘন অনুষ্ঠানে এই উত্তর দিতে পারবেন যে ছাত্রলীগকে সঠিক পথে চলতে দেওয়ার দায়িত্ব তারা ঠিকমতো পালন করছেন। নিয়মিত কেন্দ্র থেকে জেলায় জেলায় ও প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং মেধাবী সংগঠকদের নেতৃত্বে আনার জন্য গণতন্ত্রের অনুশীলন নিশ্চিত করতে পেরেছেন? পঞ্চাশের দশকে দবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন তালুকদার, অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, রফিক উল্লাহ চৌধুরী, এম এ ওয়াদুদ ছাড়াও ছাত্রলীগের নেতারা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছিলেন। ষাটের দশকে ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতিকে স্বাধিকার-স্বাধীনতার পথ ধরে সত্তরের গণরায় আদায় করে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল। ছাত্রলীগের অতীত মানেই ছিল গভীর দেশপ্রেম, আদর্শবোধ ও ত্যাগের মহিমায় লেখাপড়ার পাশাপাশি জাতিগঠনে অনন্যসাধারণ ভূমিকা রাখা। ষাটের দশকের ছাত্রলীগের তিনজন নেতা আবদুর রাজ্জাক, সিরাজুল আলম খান ও কাজী আরেফ আহমেদ 'নিউক্লিয়াস' গঠন করে বঙ্গবন্ধুর ছায়ায় ছাত্রলীগকে স্বাধীনতার সংগ্রামের পথে অগ্রসর করেছিলেন। একই দশকের ছাত্রলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ_ মুজিববাহিনীর এই চার প্রধান সুমহান মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় বীরের ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই দশকেই প্রতি বছর ২১ মার্চের মধ্যে ছাত্রলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করা নিয়মে বাঁধা পড়েছিল। এমনকি সময়মতো সম্মেলন না হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি আপনা-আপনি বিলুপ্ত হয়ে যেত। একবার বিলুপ্তির কারণে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের হাতে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল, যার একজন ছিলেন মহসিন হলের ভিপি ছাত্রলীগ নেতা আজকের বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬১ থেকে '৭০ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাতটি কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হয়েছিল। নেতৃত্বে যারা আসতেন তারা কঠোর পরিশ্রম, অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা, ক্যারিশমা, বাগ্মিতা, মেধা ও মননশীলতায় সবার হৃদয় জয় করেই আসতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা জাতীয় নেতারা তাদের ছায়া দিতেন। ষাটের দশকে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে যেসব নন্দিত তারকা এসেছিলেন তাদের মধ্যে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শেখ ফজলুল হক মণি, কে এম ওবায়দুর রহমান, সিরাজুল আলম খান, সৈয়দ মাজহারুল হক বাকী, আবদুর রাজ্জাক, ফেরদৌস আহমদ কোরেশী, আবদুর রউফ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকী ও শাজাহান সিরাজকে ইতিহাস অমরত্ব দিয়েছে। ডাকসু নির্বাচনও তখন নিয়মিত হয়েছে। ছাত্রলীগ থেকে ডাকসু ভিপি-জিএস নির্বাচিত হয়েছেন কে এম ওবায়দুর রহমান, এনায়েতুর রহমান, ফেরদৌস আহমদ কোরেশী, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন। শাহ মোয়াজ্জেম ও শেখ ফজলুল হক মণি বাষট্টির শিক্ষাবিরোধী আন্দোলনের সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। সৈয়দ মাজহারুল হক বাকী ও আবদুর রাজ্জাক বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনকে সারা বাংলায় ছড়িয়েছেন। আবদুর রউফ, খালেদ মোহাম্মদ আলীরা তোফায়েল আহমেদকে নায়কের আসনে বসিয়ে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবকে পাকিস্তানিদের ফাঁসির মঞ্চ থেকেই ফিরিয়ে আনেননি, আইয়ুবের পতন ঘটিয়েছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষের আবেগ-ভালোবাসার সমুদ্রে দাঁড়িয়ে গোটা বাঙালি জাতির অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে শেখ মুজিবকে অভিষিক্ত করেছেন। এই ছাত্রলীগ বাঙালি জাতিকে বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর; তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা; পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা ও রণাঙ্গনের জাতির হৃদয়ে যুদ্ধের তেজোদীপ্ত জয়বাংলা স্লোগানটি ছড়িয়ে দিয়েছে। এই ছাত্রলীগ স্বাধীন বাংলার পতাকা ঘরে ঘরে উড়িয়েছে। নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম রব, শাজাহান সিরাজ ও আবদুল কুদ্দুস মাখন স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা ছিলেন। ষাটের দশকে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে অগি্নগর্ভ বাংলা মায়ের সন্তানদের অমিত সাহস নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাতে দলীয় নেতৃত্বে না থাকলেও মোস্তফা মহসীন মন্টু, কামরুল আলম খান খসরু, সেলিমদের ইতিহাস তারকা খ্যাতি দিয়েছে। সেদিন মতের বিরোধ থাকলেও বঙ্গবন্ধুর প্রতি আনুগত্যে, স্বাধীনতার প্রশ্নে অবিচল থেকেছেন ছাত্রলীগ নেতারা। খেয়ে না খেয়ে আদর্শকে ঊধর্ে্ব তুলে নেতা-কর্মীর মধ্যে পারিবারিক আবেগ, স্নেহ, মমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-ভালোবাসার বন্ধন গড়ে উঠেছিল। জাতির সামনে সেই ছাত্রলীগ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্বের আসনে বসার সম্মান অর্জন করেছিল। স্বাধীনতা উত্তরকালে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, মুহসীন হলে সেভেন মার্ডারের মতো কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিল। এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পঁচাত্তর-উত্তরকালের দুঃসময়ে ওবায়দুল কাদের ও বাহলুল মজনুন চুন্নুর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগ আদর্শ ও ত্যাগের মহিমায় আন্দোলন-সংগ্রামের পথে মেধা ও সৃজনশীলতায় সারা দেশে ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগকে অপ্রতিরোধ্য সংগঠনে দাঁড় করায়। সেদিনের ছাত্রলীগ নেতারা যে সম্মান পেতেন, আজ মন্ত্রীদের ভাগ্যেও তা জোটে না। ষাটের দশকের মতো এ সময়েও ছাত্রলীগ নেতৃত্ব নিয়মিত সম্মেলন, সমঝোতা না হয় ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ অনুসরণ করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে বিজয়কেতন ওড়ায়। ষাটের দশকের নেতৃত্বের উত্তরাধিকারিত্ব গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সংগঠনকে আদর্শ কর্মী গড়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। এর ধারাবাহিকতায় ডাকসুতে ১২টি পদ। রাকসুতে জাহাঙ্গীর কবির রানা, বাকসুতে আবদুল মান্নান, প্রদীপ কর, চাকসুতে জমির চৌধুরীর মতো ছাত্রলীগ নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। এমনকি সর্বশেষ ডাকসুতে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, জাকসুতে এনামুল হক শামীম, চাকসুতে নাজিমুদ্দিনের মাথায় ভিপির মুকুট ওঠে। স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী গণতন্ত্র হরণকারী সেনাশাসকদের জমানায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত হওয়ায় মেধাবী জনপ্রিয় ছাত্রনেতারা জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে অভিষিক্ত হয়েছেন। কিন্তু এরশাদ-উত্তর গণতন্ত্রের ২১ বছরে জাতীয় নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রাখায় ছাত্ররাজনীতি গৌরব এবং যৌবন দুটোই হারায়। ছাত্ররাজনীতি হয় মেধাহীন না হয় অছাত্রদের হাতে চলে যাওয়ায় মানুষের আগ্রহ ও সম্মানের জায়গাটি হারায়। এই ধারাবাহিকতায় আজকের ছাত্রলীগ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ভাই হয়ে ভাইয়ের ওপর হামলা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, তদবির-বাণিজ্যই নয়, কমিটি-বাণিজ্যের কলঙ্কের ঢোল গলায় পরে হাঁটছে। ছাত্রলীগের অপকর্মের কারণে স্বয়ং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও সাংগঠনিক নেত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। যদিও সাংগঠনিক নেত্রীর পদবি কবে আবির্ভূত হয়েছে বা কবে গ্রহণ করেছিলেন তা জানা যায়নি। ছাত্রলীগ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ওবায়দুল কাদেরও চরম বিরক্ত হয়েছিলেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা এমনকি থানা কমিটি অর্থের বিনিময়ে ঘোষণা করার অভিযোগ গত কয়েক বছর ধরে ছাত্রলীগের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়। ষাটের দশকে বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনের প্রতিবাদ করায় সাহসী ছাত্রনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও আসমত আলী শিকদারের এমএ ডিগ্রি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজকের ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয় সন্ত্রাসের অভিযোগে। এই লজ্জা জাতির। জাতির অভিভাবকদের। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে মাঠ থেকে যারা উঠে আসতেন কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতারা অতীতে তাদের ছায়া দিতেন। গাইডলাইন দিতেন। এখন সেই ধারা নির্বাসনে। এখন কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা হয়। মাঠের নেতা নির্বাচিত হয়। ছাত্রলীগের গর্ব হরণ হয়। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ দেখেছে ট্রেনে দাঁড়িয়ে তোফায়েল আহমেদ, আ স ম রবরা সাংগঠনিক সফরে বের হয়েছেন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুররাও সাধারণ বাসে চড়ে সাংগঠনিক সফর করেছেন। এখন মানুষ ফিরে না তাকালেও ছাত্রলীগ নেতারা বিমানে সফরে যান আর তাদের বরণ করতে হাইব্রিড সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত শাখা সংগঠনের নেতারা সর্বনিম্ন প্রাডো গাড়িতে অভ্যর্থনা জানান। এখন ছাত্রলীগ কর্মীরা নিজেরা মাইকিং করেন না, দেয়াল লিখনের শিল্পের তুলি তাদের হাতে ওঠে না, শিক্ষাঙ্গনে নবীনবরণ সংবর্ধনা ভুলে গেছে। ক্যাম্পাসে অন্যান্য ছাত্র সংগঠন নিয়ে সহাবস্থান দূরে থাক, যেখানে ছাত্র বেতন ও বই-কালির দাম কমানোর দাবিতে, হলে হলে সিট সমস্যার সমাধানে সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে দাবি তুলে মন জয় করার কথা সেখানে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয় না। হলে হলে চলে সিট দখলের ও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। ছাত্রলীগের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নেতৃত্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভদিনে আমাদের প্রত্যাশা কলঙ্কমুক্ত হয়ে অতীতের গৌরব ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে আগামী দিন ছাত্রলীগ পথ হাঁটবে। লেজুড়বৃত্তির বাইরে এসে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে জেলায় জেলায়, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে নতুনভাবে সাজাবে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন আদায় করে সব ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। এতে ছাত্রলীগ নামের প্রতিষ্ঠানটি সব অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে আগামী দিনে জাতির নেতৃত্বদানে গৌরবময় ভূমিকা রাখার নেতা উপহার দিতে পারবে। জাতীয় নেতৃত্বকেও বিষয়টি বিবেচনায় না নিলে অতীতে যেখানে রাজনীতিবিদ জন্ম নিতেন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ অঙ্গন থেকে, ছাত্র সংগঠন থেকে সেখানে আগামীতে জন্ম নেবে টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের মিছিল থেকে। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে সবার প্রত্যাশা শুভ হোক এই জন্মদিন। নবযাত্রার সূচনা ঘটুক। মেধা ও সৃজনশীল তারুণ্যের সংগঠন হোক ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কিংবা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন-উপযোগী আদর্শবান কর্মী গড়ার কারিগর হোক ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস, ছাত্রলীগের ইতিহাস স্বাধীনতার ইতিহাস।' সেই গৌরবময় স্বীকৃতির মর্যাদা অম্লান, অক্ষুণ্ন রাখতে মূল্যবোধ জাগিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে সাহসী তারুণ্যের মিছিলের নাম হোক ছাত্রলীগ।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে