Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৪-২০১২

সরকারের ৩ বছর : আওয়ামী লীগের কেউ সুখী নয়

সোহেল সানি


সরকারের ৩ বছর : আওয়ামী লীগের কেউ সুখী নয়
আওয়ামী লীগ শাসনামলের তিন বছরে কেউ সুখী নয়। ঘরে সুখ নেই। মুষ্টিমেয় সুবিধাবাদী, সরকারের আনুকূল্য, রাজনৈতিক সুবিধা লাভ করে সুখের তিনটি বছর কাটালেও দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা-কর্মী, শুভাকাক্সক্ষী ও তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত লাখো লাখো মুজিব-অন্তপ্রাণ মানুষ সুখে নেই। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে 'ব্যালট বিপ্লব'-এ তিন-চতুর্থাংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরা আওয়ামী লীগ সরকার এখন নিজের ঘরেই সমালোচনার তিরে ক্ষতবিক্ষত। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার 'চমক' মন্ত্রিসভায় ষাটের দশকের স্বাধীনতাসংগ্রামী জাতীয় বীরদের বাইরে রাখায় মন্ত্রিসভা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। সরকারের 'তিন বছর পূর্তি'র কয়েক দিন আগে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জননেতা জাতীয় বীর আবদুর রাজ্জাক। আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবদুল জলিল ও শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে অবশিষ্ট দেড় বছর কাজে লাগানো হবে কি না, তা পরিষ্কার নয়। সরকারের বিতর্কিত মন্ত্রীদের এখনো বিদায় করা হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দলীয় এমপিরা দাপটের সঙ্গে তাদের শাসন বহাল রাখলেও সম্প্রতি জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে লোক নিয়োগে তারা সুখী নন। এই নিয়োগকে তাদের পাশে অনির্বাচিত নেতাদের খবরদারিত্বের সুযোগ বলে মনে করছেন। শতাধিক বিতর্কিত সংসদ সদস্য নিয়ে দল অসুখী। টানা ১৫ দিন সরকার ও দলের অন্দর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত খোঁজখবর নিলে আরও নির্বাচিত প্রায় এক হাজার ৪০০ উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে ৯০০ জনই আওয়ামী লীগের মাঠকর্মী। তাদের 'ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার' করে রাখার কারণে তারা চরম অসন্তুষ্ট। পৌরসভার মেয়ররা অসুখীই শুধু নন, রীতিমতো বিক্ষুব্ধও। এলাকায় এলাকায় প্রশাসনের সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব ও মাঠনেতাদের 'ত্রিমুখী' বিরোধে জড়িয়েছেন তারা। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর জামায়াত-বিএনপির দুঃশাসন রুখে দাঁড়াতে মাঠে-ময়দানে যারা নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন, তিন বছরের শাসনামলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অনাদর-অবহেলা-উপেক্ষা ছাড়া তাদের কিছুই জোটেনি। বুকভরা বেদনা ও দীর্ঘশ্বাসে তাদের জীবন রীতিমতো ক্ষয়ে যাচ্ছে। হাইব্রিড আওয়ামী লীগারদের এমপি-মন্ত্রীর সিন্ডিকেট, মুনাফালোভী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী চক্র, তদবির-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও শেয়ার কেলেঙ্কারি দিয়ে সরকারের তিন বছরে সুবিধাভোগীরা তৃপ্ত হলেও গোটা দল এখন হতাশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। দুঃসময়ে যারা দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেসব শুভাকাক্সক্ষী আমলাকেও দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে দলের ওয়ার্কিং কমিটি থেকে দীর্ঘদিনের রাজনীতির পোড় খাওয়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল নেতাদের বাদ দিয়ে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটি তিন বছরে দলকে শক্তিশালী করা দূরে থাক, রীতিমতো সাংগঠনিকভাবেই আওয়ামী লীগকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝখানে সরকার হয়েছে নিষ্প্রভ আর আওয়ামী লীগ হয়েছে স্থবির। একটি জেলায়ও দলীয় সম্মেলন করতে পারেনি। অঙ্গসহযোগী সংগঠন ভারপ্রাপ্তের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সরকার ও দলের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, কেবল দায়িত্ব নিয়েছি, এরই মধ্যে কী বলব। শুধু এতটুকুই বলব, মেঘ না থাকলে আকাশ থেকে লাভ কী, ঢেউ না থাকলে সমুদ্রের কী দরকার? আমি অন্ধকার ঠেলে আলোর মধ্যে থাকতে চাই। এটাই আমার শপথ। শীঘ্রই আওয়ামী লীগের জেলা ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হচ্ছে কি না জানতে চাইলে পরে বলবেন বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা বলেন, নতুন বছরে সরকার ও দলকে রাজনীতির শক্তিতে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নয় তো আমাদের আগামী নির্বাচনে বিপর্যয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু অনির্বাচিত প্রশাসক মাথার ওপর চাপিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় নির্বাচিত নেতৃত্বের সঙ্গে নতুন করে আরেকটা দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছেন মাঠকর্মীরা। সর্বত্র নির্বাচিত নেতৃত্ব আর জেলায় অনির্বাচিত প্রশাসকের নেতৃত্ব কীভাবে সমন্বয় করবে সেটাই এখন প্রশ্ন। সরকারের সৃজনশীল সমালোচক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ায় দলের অভ্যন্তরে নেতা-কর্মীদের মাঝে আশার আলো দেখা গেলেও আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ জাঁদরেল নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির অনিশ্চয়তা না কাটায় হতাশাও আছে। আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদদের যেমন প্রেসিডিয়ামে ঠাঁই দেওয়া হয়নি তেমনি দলে অবহেলিত-উপেক্ষিত সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অধ্যাপক আলী আশরাফ, মুকুল বোস, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, আবদুল মান্নান, বাহালুল মজনুন চুন্নু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, মাহমুদুর রহমান মান্না, হাবিবুর রহমান খানসহ মাঠের পরীক্ষিত নেতাদের অনেকে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতায় হাইকমান্ডের সরাসরি মনিটরিং সেল গঠনের কথা বিভিন্ন সময় ব্যক্ত হলেও এখনো তা অপ্রকাশিত থেকে গেছে। তবে বিতর্কিত মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বদলকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ছাই দিয়ে মাছ ঢাকার সঙ্গে তুলনীয়। বিতর্কিত মন্ত্রীরা ঘুরেফিরে বহাল তবিয়তে থাকায় দুই নতুন মন্ত্রীর নিয়োগ দলের মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি। বারবার কেন্দ্র থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত দিলেও কেন্দ্র থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে একটি জেলারও সম্মেলন হতে পারেনি। উপজেলা সম্মেলন তো দূরের কথা। কেন্দ্রে বড় বড় পদে নবীনরা উঠে আসায় জেলার প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। আধিক্য থাকলেও নবীন নেতারা জেলার প্রবীণ নেতৃত্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারছেন না। তিন বছরে জেলা সফর কর্মসূচি দিয়েও তা সফল করা যায়নি। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রংপুর, যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা পড়েছেন নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের মুখে। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেককে অপ্রীতিকর ঘটনাও বয়ে নিয়ে আসতে হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দলীয়ভাবে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানো যায়নি। এতে সব প্রার্থীই অসুখী। ঢাকা দুই ভাগের উত্তর ও দক্ষিণের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা এত বেশি উঠে আসছে যে এখানেও বিদ্রোহী প্রার্থীর আশঙ্কা রয়েছে। মোট কথা, দলের মধ্যে সর্বত্র চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। বিশৃক্সখল অবস্থা সর্বত্র। আগের মতো প্রেসিডিয়ামের সভাও হয় না। সরকারের তিন বছর পূর্তি হয়ে গেল। এখন দলের কমিটির তিন বছরের মেয়াদ চলে যাবে ২৪ জুলাইর পর। তিন বছর সরকার ও দল ঘরে সুখ দিতে পারেনি কাউকে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে