Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 5.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৪-২০১২

মজাই লাগে, যখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়কের জন্য আন্দোলন করতে চায়-বিবিসি বাংলাকে প্রধানমন্ত্রী

মজাই লাগে, যখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়কের জন্য আন্দোলন করতে চায়-বিবিসি বাংলাকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার ব্যাহত করার কোনো চেষ্টা তিনি সহ্য করবেন না।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি একটি জাতীয় দাবি এবং সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারকার্য শুরু হয়েছে। এখন যদি কেউ মনে করে, রাস্তায় দুটো বোমা মেরে আর বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে পারবে, সেটা কিন্তু ঠিক না। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ ছাড়া বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক ঠিকই আছে।’
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মিছিল, গাড়ি নিয়ে লংমার্চ, জনসভা প্রভৃতির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার কোথাও তাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিগুলোতে কোনো বাধা দিচ্ছে না।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিন্তু যখন তারা বোমাবাজি করবে, মানুষ হত্যা করবে, বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারবে, সেটা তো কখনো সহনীয় না, সেটা সহ্য করা যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ‘অবশ্যই মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া সরকার হিসেবে আমাদের কর্তব্য এবং আমরা সেটা করব।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছে উচ্চ আদালতের মূল রায় বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে বিরোধী তিন জোটের রূপরেখায় পর পর তিনটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার কথা বলা হয়েছিল। সেই তিনটি নির্বাচন হয়ে গেছে এবং ২০০৭ সালে সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিল না।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে এসে পুরো দুই বছর ক্ষমতায় থাকা, এবং এই যে জেল-জুলুম, মাইনাস টু ফর্মুলা...ওনার (খালেদা জিয়া) তো ভুলে যাওয়ার কথা না।’ শেখ হাসিনার প্রশ্ন, ‘কীভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, বিরোধী দলের নেত্রী কীভাবে ভুলে গেলেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে কীভাবে তিনি নিগৃহীত হয়েছিলেন, তাঁর ছেলেদের কীভাবে মেরে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’
শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, এতসবের পরও বিএনপির চেয়ারপারসন কীভাবে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছেন? তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে যে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, এই নিশ্চয়তা কে দেবে?’
প্রধানমন্ত্রীকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংস্কার করে তার অপব্যবহার রোধ করা যেত কি না, তখন তিনি ২০০৭ সালের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছিল তিন মাসের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশেরই কিছু জ্ঞানী-গুণী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি আছেন, যাঁরা বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারবে।’ কাজেই, আইনের ফাঁকফোকর বের করার মতো লোকের অভাব বাংলাদেশে নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন, সরকার নয় এবং আওয়ামী লীগের তিন বছরে সব উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচন এবং হবিগঞ্জের সংসদীয় উপনির্বাচনের কথা বলেন। তিনটিতেই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার একটু মজাই লাগে, যখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করতে চায়। কারণ আমরা যখন আন্দোলন করেছিলাম, তখন তারা বলেছিল, বাংলাদেশে পাগল আর শিশু ছাড়া আর কেউ নিরপেক্ষ নয়। আমি জানি না, এখন আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী পাগল-শিশু খুঁজে পেয়েছেন কি না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের উচিত, জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং কীভাবে এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারবে, সেই কাজটা করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনের বিজয়ের পর পরাজিত দলগুলোর ওপর কোনো রকম হামলা নির্যাতন চালানো হয়নি, যেটা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হয়েছিল। সব রাজনৈতিক দল স্বাধীনভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এই প্রথমবারের মতো সংসদে স্থায়ী কমিটিগুলোর চেয়ারম্যানের পদ মন্ত্রীর পরিবর্তে সাধারণ সদস্যদের এমনকি বিরোধীদলীয় সদস্যকেও দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত তিন বছর আমরা যে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ধরে রাখতে পারলাম, সেটা তো ইতিবাচক রাজনীতি করি বলেই পেরেছি।’
আপনাদের সরকারের অধীনে পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমাদের সরকার তো নয়, ইলেকশন করবে ইলেকশন কমিশন। নতুন ইলেকশন কমিশন হবে। ইতোমধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি সকলের মতামত নিচ্ছেন। মতামত নেওয়ার পর তিনি যেভাবে ইনস্ট্রাকশন দেবেন, সেভাবে নির্বাচন কমিশন হবে। আমরা তো চাই, বিরোধী দলও সংলাপে যাক। তাদের মতামত দিক। তারা নির্বাচন কমিশন হিসেবে কাকে চায়, কীভাবে চায়, কেমন নির্বাচন কমিশন চায়, তারা তা সংলাপে গিয়ে তারা বলুক।’
শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে তারা ভুল করবে। কারণ মানুষ তাদের অতীত কর্মকাণ্ড এখনো মনে রেখেছে। নির্বাচনে অংশ না নিলে তারা হয়তো রাজনীতিতে ভুল করবে কারণ এমনিতেই তাদের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, স্বজনপ্রীতি, সে ঘটনাগুলো মানুষ নিশ্চয়ই মনে রেখেছে। তারা যদি ভোটে কারচুপির সুযোগ চায়, সেটা তো জনগণ মেনে নেবে না।’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে