Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১২-২০১৪

কোনো পার্টি নয়, বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলতে হবে ভারতকে

কোনো পার্টি নয়, বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলতে হবে ভারতকে

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি- বিশেষ কোনো পার্টির প্রতি নয়, বাংলাদেশ ও বাঙালিদের পক্ষে যায় এমন ভাষায় কথা বলতে হবে ভারতকে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে নতুন সংসদ নির্বাচিত হলো তা হতে হবে অস্থায়ী। যতক্ষণ পর্যন্ত পুনরেকত্রীকরণ এবং সবাই পরবর্তী একটি নির্বাচনে না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে এ সংসদ।

শনিবার ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত শীর্ষ মন্তব্য ভাষ্যে এসব কথা বলা হয়।

‘ব্যাকিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ ভাষ্যটি লিখেছেন সুহাসিনী হায়দার।

এতে তিনি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এর গ্রহণযোগ্যতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের সমর্থন দেয়া ও তার পরিণতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

তিনি লিখেছেন, যেকোনো অর্থে ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়েছে তা গণতন্ত্রের মাপকাঠিতে অনেক নিম্নমাত্রার। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দেশের ভেতর থেকেই নন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকেও তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। এ নির্বাচনে ভারত খোলাখুলিভাবে সমর্থন দিয়েছে শেখ হাসিনাকে। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে উঠেছে এটিই।

তিনি লিখেছেন, অভিযোগ আছে যে, বাংলাদেশের ভিতরে বাংলাদেশী নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যদের পোশাক পরে বাংলাদেশের ভিতরেই গোপনে অভিযান চালাচ্ছে ভারতীয়রা। বাংলাদেশীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশে ভারত পাঠিয়েছে বিশেষ টিম। ওদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ নেয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তদবির করছে ভারত। এসব অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তবে ভারতকে এমন বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে, যাতে দেখা যায় তারা মাত্র একটি বিশেষ দল বা নেতার সঙ্গে কাজ করছে।

সুহাসিনী হায়দার লিখেছেন, নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা যে জাতীয় সংসদে ফিরলেন সেখানে শুধুই তার কণ্ঠ প্রতিধ্বনি তুলবে। সেখানে তার বক্তব্য হবে অন্তঃসারশূন্য, যেমন বিজয় তিনি নিজে পেয়েছেন। জাতীয় সংসদের তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন তিনি। কিন্তু তিন-চতুর্থাংশ ভোটার ভোটই দেন নি। ১৯৯৬ সালে এমন বিজয় অর্জন করেছিলেন হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া। তখন হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলে। খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেবারও দ্বিতীয় দফা নির্বাচন দেয়ার জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে ভারত সমর্থন দিয়েছে। এটা লক্ষ্য করার মতো বিষয়। তবে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো এ নির্বাচনের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা এ নির্বাচনকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরেকটি নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি রাখার তীব্র সমালোচনা করা হয় শেখ হাসিনার। এমন অবস্থাকে খালেদা জিয়া ‘গণতন্ত্রের মৃত্যু’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় বাংলাদেশকে প্রচণ্ডভাবে চাপে ফেলে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সে পথ অনুসরণ করে। কিন্তু এর মধ্যেও বাংলাদেশের পক্ষ নেয় ভারত। নতুন নির্বাচন না দিয়ে শেখ হাসিনার সামনে কোনো বিকল্প নেই।

এর অনেকগুলো কারণ আছে। নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ সাংবিধানিক সঙ্কটে পড়তো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই এমন নির্বাচন অনুমোদন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আরও দল যদি নির্বাচন বর্জন করতো তার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করা যেতো না।

১৯৯২ সালে সন্ত্রাসকবলিত ভারতের পাঞ্জাবে শুধু আকালি দল ছাড়া সব দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। তখন শতকরা ৯ ভাগ ভোট পেয়ে কংগ্রেসের বিয়ন্ত সিং নির্বাচিত হন মুখ্যমন্ত্রী।

সুহাসিনী হায়দার আরও লিখেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে বিবৃতি দিতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে এ উদ্যোগে সমর্থন দেয় বৃটিশ পার্লামেন্ট, মানবাধিকারবিষয়ক গ্রুপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংগঠন। শেখ হাসিনা এ বিচার সম্পন্ন করছেন। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের চেষ্টা করছেন। বেশ কিছু এনজিও জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের সহ জিহাদি কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করে এমন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। এর ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ সৌদি আরবের সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতিতে বলা যায়, ভারতের অনেকেই সাউথ ব্লককে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জন্য প্রতিরক্ষার একটি ভূমিকা রাখার জন্য বলতে পারেন। শেখ হাসিনা যে চাপ মোকাবিলা করছেন তার ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য ভূমিকা রাখতে বলতে পারেন। এটাও হতে পারে একটি ভুল পদক্ষেপ। প্রতিবেশী দেশটির কাছে ভারত কৌশলগতভাবে এত শক্তিশালী যে, তারা বাংলাদেশের একটি বিশেষ দলের স্বার্থে পক্ষপাতী ভূমিকা পালন করতে পারে।

সুহাসিনী আরও লিখেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারত প্রকাশ্যে সমর্থন দেয় শেখ হাসিনাকে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তাকে সে পথ থেকে ফেরাতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। কিন্তু তার সেই উদ্যোগ বুমেরাং হয়।

সুজাতার সঙ্গে ওই সাক্ষাতের পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঘোষণা দেন যে, সুজাতা সিং তাকে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন দলের উত্থানের বিরুদ্ধে ভারত।

ওই ভাষ্যে সুহাসিনী লিখেছেন, বাংলাদেশে কোন দল ক্ষমতায় তা বিবেচনায় না নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে যায় এমন ভূমিকা অবশ্যই রাখতে হবে ভারতকে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দু’ বছরেরও বেশি আগে কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক ঢাকা সফর করেছিলেন। তখন তিনি সীমান্ত চুক্তি করেন, তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তা এখনও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি।  

সুহাসিনী হায়দার উল্লেখ করেন, নেপালি কংগ্রেস পার্টির সুশীল কৈরালা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নাশীদকে এমন সমর্থন দিয়ে একই রকম অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিল ভারত।

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে