Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৪-২০১২

ট্রাইব্যুনালে নবম সাক্ষী : সাঈদীর নির্দেশ, শালাকে গুলি কর

ট্রাইব্যুনালে নবম সাক্ষী : সাঈদীর নির্দেশ, শালাকে গুলি কর
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের নবম সাক্ষী মো. আলতাফ হোসেন হাওলাদার (৫৮) আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ‘সাঈদীর নির্দেশে এক রাজাকার পিরোজপুরের উমেদপুর গ্রামের বিসা বালীকে গুলি করে। ঝোপের আড়ালে দাঁড়িয়ে তিনি এ ঘটনা দেখেছেন।’
ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে আলতাফ হোসেন হাওলাদার আরও বলেন, সাঈদীর নেতৃত্বে পিরোজপুরের পারেরহাট ইউনিয়নে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম শুরু হয়।
শুরুতে আলতাফ জবানবন্দিতে বলেন, একাত্তরের ৭ মে পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা পারেরহাটে আসার ছয়-সাত দিন আগে সেখানে শান্তি কমিটি গঠিত হয়। সেকান্দার শিকদারের নেতৃত্বে গঠিত শান্তি কমিটিতে সাঈদী, মোসলেমউদ্দিন মাওলানা, দানেশ আলী মোল্লা ও আরও অনেকে ছিল। এরপর সাঈদীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। শান্তি কমিটির সদস্যরাই এই রাজাকার বাহিনীতে ছিল। পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে এই রাজাকার বাহিনী পারেরহাট বন্দরের ৩০-৩৫টি দোকান ও বাসাবাড়ি লুট করে। পরে পাকিস্তান সেনারা পারেরহাটের রাজলক্ষ্মী স্কুলে এবং স্থানীয় ফকির দাসের ভবনে ক্যাম্প স্থাপন করে।
জবানবন্দিতে আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, একাত্তরের ২ জুন তিনি মামার বাড়ি উমেদপুর গ্রামে যান। সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে তিনি দেখেন, সাঈদীসহ আরও অনেক রাজাকার একদল পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে উমেদপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ায় ঢুকছে। আলতাফ রাস্তার পাশে একটি ঝোপের আড়ালে গিয়ে ঘটনা দেখতে থাকেন। তিনি দেখেন, পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা হিন্দুপাড়ার লোকজনের মালামাল লুট করে ১৮-২০টি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় রাজাকাররা বিসা বালী নামের এক ব্যক্তিকে ধরে নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। সাঈদী তখন এক পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে আলোচনা করে বলেন, ‘শালাকে গুলি কর।’ এ কথা বলার পর একজন রাজাকার লম্বা একটি অস্ত্র দিয়ে (রাইফেল না পিস্তল বলতে পারেননি, কারণ চেনেন না) বিসা বালীকে গুলি করলে তিনি চিত্কার করে ওঠেন। ওই দিন বিকেলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তিনিও হিন্দুপাড়ার পোড়াবাড়ি ও বিসা বালীকে হত্যার স্থান দেখতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি রক্ত দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন বলেন, তাঁর লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী মাহাবুবুল আলম হাওলাদার এবং পঞ্চম সাক্ষী মাহতাবউদ্দিন হাওলাদারও ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছিলেন, সাঈদীর নির্দেশে এক রাজাকার বিসা বালীকে গুলি করেছিল।
প্রায় আধঘণ্টা ধরে আলতাফ জবানবন্দি দেন। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন। জেরার এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, তিনি পারেরহাট ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং একাত্তরের ছয়-সাত বছর আগে থেকে তিনি সাঈদীকে চেনেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিসা আলীর হত্যাকারীকে গত ৪০ বছর খোঁজার কোনো চেষ্টা তিনি করেননি।
বিকেলে আলতাফের জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম কাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে